in ,

অদ্ভুতুড়ে যত ট্রাফিক আইন

অতীতে এমন একটা সময় ছিল যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে লেগে যেত বছর, মহাদেশ পার হতে জীবনের বড় একটা অংশই ত্যাগ করে দিতে হতো। দিন আস্তে আস্তে বদলে গেলো, যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমশ উন্নতিতে এখন পৃথিবীর এপার থেকে ওপারে পাড়ি জমাতে পারা যায় সূর্যকে পৃথিবী একবার চক্কর মারার আগেই।

রাস্তাঘাটের যেমন উন্নয়ন ঘটেছে, তেমনি উন্নতি হয়েছে যানবাহন প্রযুক্তিরও। দ্রুতগামী এসব যানবাহন আর শহরের ব্যস্ত রাস্তা সামলাতে তৈরী করতে হয়েছে অনেকরকম ট্রাফিক আইন।

ট্রাফিক আইনে ভিন্নতা রয়েছে দেশে দেশে ; Image Source: nationwide.com

ট্রাফিক আইনের মূল ব্যাপারগুলো সব জায়গায় একইরকম হলেও দেশ ভেদে রয়েছে ভিন্নতাও। বিভিন্ন রাষ্ট্রের কিংবা শহরের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই ট্রাফিক আইনগুলো প্রবর্তন করা হয় যা নাগরিকদের চলাচলকে নিরাপদ করে তুলতে সাহায্য করে।

তবে কখনো ভুলে কিংবা কতৃপক্ষের অদ্ভুত খেয়ালে এমন সব ট্রাফিক আইনও তৈরী হয়েছে, যা শুনলে অবাক হতেই হয়।

অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি, এমন কিছু অদ্ভুতুড়ে ট্রাফিক আইন নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের লেখাটি,

গাড়িতে বসে কাউকে অভিশাপ দিলেই কারাদণ্ড!

ঢাকার রাস্তায় চলাচল করেন, আর বাস ড্রাইভার হেল্পারদের গালাগালি শোনেননি এমন বিরল কেউ কি আছেন? এটা শোনাই বরং স্বাভাবিক সকাল মনে হয় আজকাল।

গাড়িতে বসে করা যাবে না অভিশাপ ; Image Souce: hotcars.com

ঢাকায় এটার প্রচলন ঘটে গেলে ম্যারিল্যান্ডে গিয়ে জনসমক্ষে যদি অভিশাপও দিয়েছেন তো বিপদে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে রয়েছে অদ্ভুত এ নিয়মটি। গাড়ি চালানোর সময় চিত্কার করা, কাউকে অভিসম্পাত করার অভিযোগ পাওয়া গেলে একশত মার্কিন ডলার জরিমানা বা তিন মাস পর্যন্ত কারাবাস জুটতে পারে।

পথ না জেনে বেরোলেই জরিমানা

আমাদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়, কোথাও গিয়ে পথ চিনতে না পারলে কিংবা হারিয়ে গেলে পথচারী কিংবা এলাকাবাসীর আগে ট্রাফিক পুলিশকে খুঁজতে, তার কাছেই সাহায্য চাইতে। তবে পরিস্থিতি সব জায়গায় একরকম নয়।

ধরুন আপনি কোথাও যাচ্ছেন, জায়গাটা ভাল করে চেনেন না। তাই গাড়ি থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কাছে পথের নির্দেশ জানতে চাইলেন। ভাবছেন ট্রাফিক পুলিশ আপনাকে সাহায্য করবে? মোটেও তা নয়। সাহায্য করার বদলে সে উল্টো আপনাকে নিয়ে হাজতে ভরবে। কারণ পথ না জেনে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া ভয়াবহ অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামায় এই অদ্ভুত নিয়মটি দেখা যায়। আপনি যদি আপনার গন্তব্য বা পথ না জেনে রাস্তায় বের হন, তবে আপনার জরিমানা হবে। তাই ভাল করে ম্যাপ দেখে, মানুষ জনকে জিজ্ঞেস করে রাস্তা আগেই জেনে নিন!

অতিরিক্ত চশমা গাড়িতে না থাকলে জরিমানা

গাড়িতে চলার সময় চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী, চোখে প্রেসক্রিপশন গ্লাস পরে আছেন বলে ভাবছেন কোনো অপরাধ নয়? স্পেনের আইন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আরেক জোড়া চশমা আপনাকে সঙ্গে রাখতে হবে। দুই জোড়া চশমা ছাড়া গাড়িতে উঠলে জরিমানা গুনতে হবে।

গাড়িতে বের হলে রাখতে হবে অতিরিক্ত চশমা ; Image Source: holidayextras.co/uk

অদ্ভুত মনে হলেও গাড়ি চালানোর আগে দুটো চশমা গাড়িতে রাখা আসলে কিন্তু বেশ উপকারীই মনে হচ্ছে।

খালি গায়ে গাড়ি চালালেই জেল জরিমানা

ভাবছেন – আমার গাড়ি আমি চালাবো, যেভাবে খুশি সেভাবে চালাবো! অনেকের আবার গাড়িতে সঙ্গীর সাথে ‘লাভ মেকিং’ এর বিশেষ শখও থাকে।

গাড়িতে থাকা যাবে না খালি গায়ে ; Image Source: hotcars.com

তবে আপনি যদি থাইল্যান্ডের অধিবাসি হয়ে থাকেন, তাহলে সে উপায় নেই। থাইল্যান্ডে গাড়ি চালানোর সময় জামা গায়ে থাকা বাধ্যতামূলক। খালি গায়ে গাড়ি চালালে আপনাকে নিশ্চিত জরিমানা গুনতেই হবে।

চালক মাতাল হলে যাত্রীর শাস্তি

ভাবছেন আপনি ভদ্রস্থ হয়ে গাড়ির পেছনে বসে আছেন বলেই সব ঠিকঠাক আছে? আপনার চালক মাতাল কি না, তার দায়-দায়িত্বও আপনার। জাপানের ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, চালক মাতাল হলে যাত্রীকেও জরিমানা গুনতে হবে। সুতরাং গারিতে ওঠার আগে ভাল করে খোঁজ নিন চালক মদ খেয়েছে কি না!

আমাদের দেশের নাইট কোচ ড্রাইভার হেল্পারদের অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় এ আইনটা আমাদের দেশে থাকলে ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতো যদিও তাতে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়তো অনেক বেশি।

ময়লা গাড়ি নিয়ে বের হলেই জরিমানা!

আপনি অলস! গাড়ি ঠিকমতো পরিষ্কার করেন না বলে আপনার জরিমানা হতে পারে—এমন ট্রাফিক আইন আছে রাশিয়ায়। আপনি যদি এমন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হন সেক্ষেত্রে নির্ঘাত আপনাকে দুই হাজার রুবল জরিমানা গুনতে হবে।

ময়লা গাড়ি নিয়ে বের হওয়া আইনত দণ্ডনীয় ; Image Source: hotcars.com

আইনটি মোটেও খারাপ নয় বরং সকালবেলা রাস্তায় চকচকে গাড়ির সমাহার দেখতে পাওয়া চোখেরও শান্তি।

দিনের বেলাতেও হেডলাইট বন্ধ করা যাবে না

হোক সে দিন অথবা রাত, গ্রীষ্ম বা শীত—কোনো অবস্থায় গাড়ির হেডলাইট বন্ধ করতে পারবেন না আপনি। অদ্ভুত শোনালেও সুইডেনে ২৪ ঘণ্টাই গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখার নিয়ম রয়েছে। সুইডেনের তীব্র শীতে হয়তো এ নিয়মটি ঠিক, কিন্তু জুন মাসে আবহাওয়া ভালো থাকলেও এ নিয়মই সেখানে মানতে হয়।

পুরনো আন্ডারপ্যান্ট দিয়ে গাড়ি মোছা যাবে না!

আমেরিকানরা গাড়ির ব্যপারে বেশ স্পর্শকাতর, গাড়ি নিয়ে তাদের পাগলামির কথা লিখতে বসলে আরেকটি লেখাই দাড় করিয়ে ফেলা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে গাড়ি ধোয়ার পর পুরোনো আন্ডারওয়্যার বা অন্তর্বাস দিয়ে গাড়ি মোছা হলে ট্রাফিক আইন ভাঙা হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। তবে গাড়ি মোছার জন্য কেউ নতুন আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করলে কোন সমস্যা নাই!

পথে তেল ফুরালে বিপদ

দুরের পথে যাচ্ছেন? গাড়িতে ফুয়েল তেমন নেই? ভাবছেন পথের মধ্যে কোন ফিলিং স্টেশন থেকে ভরে নেবেন?

বাংলাদেশে হয়ত তা সম্ভব, কিন্তু জার্মানিতে যদি জান তাহলে এ ব্যাপারে সাবধান থাকবেন! জার্মানিতে দূরপাল্লার পথে ভ্রমনকালে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়াকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়।

জার্মানরা নিজেদের অনেক মিলিটারি নিয়ম কানুনে গড়ে তুলতে চায়, তারই ঈষৎ প্রতিফলন যেন ঘটেছে আইনটিতে।

আইনগুলো অদ্ভুত এবং জটিল মনে হলেও প্রতিটি আইনের পেছনেই একটা সুষ্পষ্ট কারণ এবং যুক্তি দাড় করানো যায়। বিশেষত ওই এলাকার ইতিহাস প্রকৃতি বিবেচনা করলে আইনগুলোকে যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে হয়।

\

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *