in

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আসবে যে নতুন প্রযুক্তিগুলো

প্রযুক্তি শুধু মোবাইল বা কম্পিউটারের মধ্যেই আবদ্ধ নয়। আমাদের জীবনকে আরো বেশি সহজ করে তোলাটাই প্রযুক্তির কাজ। জীবনযাপনে গতিময়তা আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে প্রযুক্তি। সত্যিই তো! জীবন যদি না থাকে তাহলে প্রযুক্তি দিয়ে কী হবে? জীববিজ্ঞানে প্রতি বছরই নতুন নতুন অগ্রগতি করছে বিজ্ঞানীরা। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এই বছরে আমাদের জীবনকে আরো একটু সহজ ও সুন্দর করার জন্য আমরা নতুন কী কী প্রযুক্তি পেতে যাচ্ছি।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

কোন জিন কীভাবে কাজ করে এবং সেগুলোর খুঁটিনাটি – সবটাই জানার চেষ্টা করা হবে ২০১৯ সালের এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে; Image Source: www.ethz.ch

আপনি হয়তো ভাবছেন, মানুষের শারীরিক অবস্থা জানার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তো আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবার আরো একটু বাড়তি জ্ঞান আহরণ করতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা।

এর আগে যেখানে জানা যেতো, কোনো জিন কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে; সেখানে বর্তমানে কোন জিন কীভাবে কাজ করে এবং সেগুলোর খুঁটিনাটি – সবটাই জানার চেষ্টা করা হবে ২০১৯ সালের এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে। এতে কোনো কাজে ঠিক যে তথ্যটি প্রয়োজন সেটিকেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এই নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার হিসেবে গত বছর বিজ্ঞানীরা তাদের একটি মডেলকে একটি রোগ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য প্রদান করেন। আর তথ্য না থাকলেও সে সম্পর্কিত ব্যাপারগুলো প্রদান করেন। এরপর রোগটি সম্পর্কে মডেল নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল।

আরো বিস্তৃত আকারে ঠিক এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের শরীরকে আরো ভালোভাবে জেনে যখন যেখানে যে জিনের দরকার, তখন সেখানে সেটি প্রয়োগ করা সম্ভব হবে – এমনটাই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

আণবিক গঠন প্রকাশ করা

কোনো কিছুর গঠন জানা জিনিসটির কর্মপদ্ধতি জানার জন্য প্রয়োজন। সাইরো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি বা (Cryo-electron microscopy) এই ব্যাপারে সাহায্য করতে সক্ষম। এটি কোনো বস্তুর খুব ছোট ও অস্পষ্ট আণবিক নমুনা থেকে সেটির পুরো গঠন জানতে সক্ষম।

এর অর্থ, আমরা যে এখন শুধু কোনো কিছুর আণবিক গঠনই দেখতে পাবো তা নয়, একই সাথে আমরা ইতিপূর্বে যে কাজগুলো করতে পারতাম না, যেমন প্রোটিনের কমপ্লেজ ভেঙ্গে দেখা – সেটাও করতে পারবো। ১৯৬০ বা ১৯৭০ এর দিকে ক্রিস্ট্যালোগ্রাফি ঠিক যে পর্যায়ে অবস্থান করছিল, বর্তমানে সাইরো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপিও ঠিক সেই একই অবস্থানে রয়েছে।

জিনের আণবিক গঠন আরো পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে; Image Source: news.mit.edu

উন্নত সিনথেটিক জিনোম

জিনোম নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ সবসময়ই ছিল। কীভাবে জিনোম সম্পর্কে নতুন ও পুরোটা জ্ঞান আহরণ করা যায় সেটাই ছিল সবার মূল লক্ষ্য। এবার সেই লক্ষ্য হয়তো অনেকটাই পূরণ হতে চলেছে ২০১৯ সালে। ইতিপূর্বে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ছত্রাকের জিনোম সম্পর্কে জানতে পেরেছিল।

এখনো পর্যন্ত ডিএনএ সিন্থেসিস করার জন্য ফসফরামিডিট রসায়ন ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি, প্যারিসের ডিএনএ স্ক্রিপ্ট নামের একটি সংস্থা ১৫০ ওলিগনিউক্লিওটাইড সিন্থেসিস করতে সক্ষম হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় সম্পূর্ণ জিনোম সম্পর্কে জানা যায়। এমনটা যদি সম্ভব হয়, তাহলে খুব সহজেই এই পদ্ধতিতে আরো অনেক কিছু করা সম্ভব হবে।

ম্যাপ ব্রেইন কানেকশন

মানুষের শরীর ও মস্তিষ্কের কোষ এতটাই জটিল যে, সেগুলো একে অন্যের সাথে কীভাবে যুক্ত এবং কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে কিছুটা ধারণা করা যায় ও সামান্য তথ্য পাওয়া যায়। তবে এ সম্পর্কে পুরোপুরি জানা কখনোই সম্ভব হয়নি। তাই এবার চেষ্টা করা হচ্ছে একটি কোষের পর্যায় থেকেই কোষের ধরনের উপরে ভিত্তি করে সেটি সম্পর্কে জানার ও কোষের মধ্যকার যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করার।

এই ব্যাপারটিকে আমরা অ্যান্টিরোগ্রেড বা রেট্রোগ্রেডের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারি, যেখানে কোষ থেকে প্রসারিত হওয়া অ্যাক্সন প্রোজেকশনের গঠন সম্পর্কে জানা হয়। এক্ষেত্রে সিঙ্গেল নিউরন-মরফোলজিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

সবচাইতে ইতিবাচক ব্যাপারটি হচ্ছে, বর্তমানে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি প্রক্রিয়া আগের চাইতে অনেক বেশি উন্নত এবং অনেক বেশি তথ্য ধারণ করতে সক্ষম। বর্তমানে ভার্জিনিয়ার অসবার্নে অবস্থিত হাওয়ার্ড মেডিকেল ইন্সটিটিউটের জেনেলিয়া রিসার্চ ক্যাম্পাসে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকটি স্নায়ুর ম্যাপিং করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

একটি কোষের পর্যায় থেকেই কোষের ধরনের উপরে ভিত্তি করে সেটি সম্পর্কে জানার ও কোষের মধ্যকার যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করার প্রচেষ্টা চলছে; Image Source: sciencemag.org

এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মাছি ও ইঁদুরের মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের পরিচালনা থেকে আমাদের অনেক কিছু জানার আছে। তবে সেটা জানা সম্ভব না যদি না বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে তথ্য পাওয়া সম্ভব না হয়। বর্তমানে এই তথ্য আগের চাইতে আরো সহজলভ্য হয়েছে। আর তাই এই বছর মানুষের মস্তিষ্কের পরিচালনাপদ্ধতি সম্পর্কেও আমরা অনেকটাই জানতে পারবো বলে আশা করা যাচ্ছে।

জিন এডিটিং

জিন এডিটিং এ কতটা পরিবর্তন আনা সম্ভব? Image Source: cdn1.medicalnewstoday.com

বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংকে অনেকাংশেই পরিচালিত ও প্রভাবিত করছে প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রথম জেনারেশনের CRISPR জিন প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল nuclease Cas9 এ। এই পদ্ধতিটি এখনো অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়।

তবে বর্তমানে নতুন আরো অনেক পদ্ধতি যেমন xCas9 ও SpCas9 ইত্যাদি এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে ব্যাপারটি নিয়ে মানুষ তাই অনেক বেশি পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে যারা নতুন এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য জিন এডিটিং এর ব্যাপারটিই হয়ে উঠেছে আরো বেশি সহজ। হয়তো সাধারণ হাসপাতালগুলো এখনো নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেনি। তবে এই বছর সেটা করা হবে, এমনটা আশা করাই যায়।

নতুন বছর মানে নতুন এক শুরু। আর নতুন শুরুটা নতুন এই প্রযুক্তিগুলোর সাথে মানুষের
জন্য আরো ভালো কিছু নিয়ে আসুক এই বছরে।

\

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *