in

মোটরসাইকেল কাস্টোমাইজ এবং মোডিফিকেশনে থাকুন সচেতন

মোটরসাইকেল কোম্পানি গুলো তাদের সব ধরণের এবং ডিজাইনের মোটরসাইকেল ইন্জিন মোডিফাইড করে প্রতি বছর নতুন নতুন ভার্সন যেভাবে বাজারে নিয়ে আসে, রাইডাররাও চাইলে সেভাবে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উন্নত করে নিতে পারে।

তবে সবার আগে রাইডারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কী চায় মোটরসাইকেল থেকে এবং মোটরসাইকেলটি সে ঠিক কিভাবে ব্যবহার করবে৷

কাস্টোমাইজ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন লুকে নিয়ে যেতে পারেন বাইককে ; Image Source: motobeam.com

, নিজের বাইকে এসব জটিল কাজ করার আগে কিছু বিষয়ে পড়াশোনা এবং যথাযথ সচেতনতার প্রয়োজন।

এই বিষয়গুলোই আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয়, আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হবে মোডিফিকেশনের আগে যেসব বিষয় যত্নের সাথে বিবেচনা এবং পর্যালোচনা করে নেয়া উচিৎ। আশা করা যায়, নিচে বলা ব্যাপারগুলো গুরুত্ব সহকারে বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজগুলো করতে পারলে আপনার মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স যেমন পাওয়া যাবে আপনার চাহিদা অনুযায়ী, তেমনি ঠিক থাকবে নিরাপত্তার সীমারেখাও!

চলুন, তাহলে ধারাবাহিক ভাবে পর্যায়গুলো দেখে নেয়া যাক,

ব্যয় নির্ধারণ করুন (Assume The Cost)

মোটরসাইকেল কাস্টোমাইজেশন এবং মোডিফিকেশন ধরণের কাজের জন্য পুরোপুরি ভাবে দক্ষ কারিগরী হাতের সাহায্য প্রয়োজন। সুতরাং, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরণের কাজ একটু বেশি খরুচে এবং ব্যয়বহুল।

মোডিফিকেশনের কাজ কিছুটা ব্যয়বহুল ; Image Source: wheelstreat.com

তাই, কাস্টোমাইজ করার আগেই কতটুকু করাতে চান, তাতে কতটুকু ফল পাবেন এবং তা আপনার সাধ্যের মধ্যে থাকছে কিনা, এমন একটি পরিপূর্ণ হিসেব দাঁড় করান৷

তারপর, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

নকশা করুন খাতায় ( Get A Sketch)

মোটরসাইকেল কাস্টোমাইজেশন এবং মোডিফিকেশনের সর্বপ্রথম ইস্যুই হচ্ছে, একটা কাস্টোমাইজ লুক। বেশিরভাগ মোটরসাইকেল মালিক তার নিজস্ব ডিজাইন করে নিতে চায়, এবং সে ডিজাইনটি করতে চায় ইউনিক। তাই, তারা এক্সটেরিয়র মোডিফিকেশনে যায়।

খাতায় নকশা করে আন্দাজ করে নিন কেমন হবে দেখতে ; Image Source: dragoart.com

কিন্তু পরিপূর্ণ হিসেব এবং চিন্তা ভাবনা ছাড়া হুটহাট এক্সটেরিয়র মোডিফাই করার ফলাফল হয় মাঝে মাঝে ভীষণরকম ভয়াবহ।

তাই কোন নির্দিষ্ট ডিজাইনে যাওয়ার আগে বেসিক মোডিফিকেশনের কিছু স্কেচ সাদা খাতায় করে নিন, তারপর নিজে নিজে কল্পনায় মিলিয়ে নিন ফাইনাল আউটপুট কেমন আসছে।

তাড়াহুড়ো না করে ব্যাপারগুলো পর্যাপ্ত সময় নিয়ে করুন, রিভিশন দিন, কারেকশন আনুন, সন্তোষজনক কিছু পাওয়ার আগে পর্যন্ত মোডিফিকেশনের কাজে হাত দেবেন না। এভাবে রিভিশন, কারেকশন অথবা মোডিফিকেশনের ধাপ বাড়িয়ে কমিয়ে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে যে ভালো ফলাফল আসবে, সে কথা বলাই বাহুল্য।

আইন কানুন জেনে রাখুন (Know The Law & Govt. Regulations)

এক্সটেরিয়র ডিজাইন কিংবা মোডিফিকেশন, পারফরম্যান্স আপগ্রেড অথবা মেকানিক্যাল মোডিফিকেশন, সবগুলোতেই  স্থানীয় সরকারের নিয়ম নীতি বা স্থানীয় আইন অনুসারে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে। এই সীমারেখা আবার শহর বা দেশ ভেদে ভিন্নরকম হয়ে থাকে।

যাই ই করুন, তা যেন হয় আইনসম্মত ; Image Source: roberts.com.ph

মোডিফিকেশনের রেন্জ ঠিক করার আগে যে শহরে মোটরসাইকেলটি চলবে, সে শহরে স্থানীয় আইন এবং সরকারী নিয়ম কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখতে হবে। কারণ একবার নিজের পছন্দ মতো মোটরসাইকেল মোডিফাই করে যদি স্বাধীনভাবে চালাতেই না পারেন, কিংবা পুলিশ সার্জেন্ট মামলা জরিমানা হয়রানি ভোগান্তির মুখোমুখি হতে চাইবেন না।

তাই মোডিফিকেশনের আগে স্থানীয় থানায় খোঁজ নিয়ে আইন কানুন জেনে নেয়া এবং বিশেষ কোন ক্ষেত্রে অনুমতি নেয়ার ব্যবস্থা থাকলে অনুমতি নিয়ে রাখতে পারেন।

স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে আপোষ নয়

মোটরসাইকেলের প্রতিটি অংশ উপযুক্ত স্বাচ্ছন্দ্যের পরিসরে রাখতে পরিপূর্ণ আর&ডি নীচের রেখে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ডিজাইন করার চেষ্টা করে।

কখনো কখনো ভারী পরিসরের এক্সটেরিয়র মোডিফিকেশনের কারণে মোটরসাইকেল ডিজাইনে বড় ধরণের পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তা প্রায়ই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাঘাত ঘটায়।

স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কোন আপোষ নয় ; Image Source: cartoq.com

সুতরাং এই ধরণের মোডিফিকেশন দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় বেশ ভালো রকমের অস্বাচ্ছন্দ্যকর হয়ে ওঠে। তাছাড়া এটি মূল উপযোগ এবং সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করতে পারে।

তাই, এমন যে কোন ধরণের মোডিফিকেশনে যাওয়ার আগে আরাম এবং স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারটাকে বিবেচনা করুন গুরুত্ব সহকারে।

নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা

প্রচলিত শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভালো ডিজাইনের সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে কাজ করে।

নিরাপত্তার স্বার্থেই নিয়ন্ত্রণ জরুরী ; Image Source: tvsmotor.com

তাই কাস্টোমাইজ বা মোডিফিকেশনের ফলে হয়তো পারফরম্যান্স রেন্জ বাড়বে কিংবা মোটরসাইকেল আরো বেশি শক্তিশালী হবে, তবে স্টক প্রোফাইলে থাকা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার ব্যাপার নিশ্চিত হচ্ছে কিনা, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনতে হবে।

যেহেতু, পারফরম্যান্স আপগ্রেড অথবা মেকানিক্যাল পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা বেশ বড় একটা ইস্যু হয়েই দাঁড়ায়, তাই কাস্টোমাইজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশলী হওয়া যেতে পারে।

যেমন, ব্রেকিং, সাসপেনশন, কুলিং এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ফিচারও আপগ্রেড করা যেতে পারে।

আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, এমন কোন মডিফিকেশনে যাবেন না যাতে আপনার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ফিচার কমে যায়।

সহজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন

অবশেষে এসে শেষের কথাটাই বলি, মোডিফিকেশনের শেষ কথা আর কি!

ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, মোডিফিকেশনের দিন দক্ষ হাত আপনার মোটরসাইকেলের সব কিছু পরিবর্তন করে ঠিকঠাক নাহয় করেই দেয়, কিন্তু তারপর এর ব্যবস্থাপনার পূর্ণ দায়িত্ব কিন্তু চাপবে আপনার ঘাড়েই।

মোটরসাইকেল ব্যবস্থাপনাটা যেন সহজ হয় ; Image Source: motorcyclenews.com

তাই কাস্টোমাইজেশন এবং মোডিফিকেশনের পরিকল্পনা দাঁড় করানোর আগে এর ব্যবহার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা নিয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করা উচিৎ।

মোটরসাইকেল ব্যবস্থাপনা যত সহজ এবং সাধারণ রাখা যায়, তত উত্তম। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা হয় বেশ ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ।  এসব মোডিফিকেশন এবং কাস্টোমাইজেশন এড়িয়ে চলাই ভালো।

এভাবে, এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে মোটরসাইকেল মোডিফিকেশন এবং কাস্টোমাইজেশনের সর্বোচ্চ সুবিধা এবং উপযোগিতা উপভোগ করা সম্ভব। একই সাথে, অপরিকল্পিত মোডিফিকেশন এবং কাস্টোমাইজেশনের ফলে সৃষ্ট ঝুট ঝামেলা থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *