in ,

পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার পূর্বে যেসব বিষয় মাথায় রাখা উচিৎ

মোটরসাইকেল যদিও গাড়ির মতো ব্যয়বহুল নয়, তবুও আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের প্রেক্ষাপটে তাও বেশ কষ্টসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ উপার্জন। তাই মোটরসাইকেল কেনার জন্য যখন কেউ বিনিয়োগ করে, একটু বুঝে শুনেই করতে চায়৷

বোঝা শোনা আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে ভাবতে গেলে আবার নতুন মোটরসাইকেল কেনাটা অনেক বেশি সহজ পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার চেয়ে।

ইয়ামাহার দুটো একই মডেলের নতুন মোটরসাইকেল একই রকম হবে, তাই এদের ফিচার স্পেসিফিকেশন দেখে সহজেই আন্দাজ করে নেয়া যায়। কিন্তু দুটো একই মডেলের পুরাতন মোটরসাইকেল একই সময়ে কেনা একই পরিমাণ ব্যবহার করা হলেও মেলানো যাবে না।

নতুনের চেয়ে পুরাতন মোটরসাইকেল কেনাটা একটু বেশিই জটিল ; Image Source: powersports.com

পুরাতন মোটরসাইকেলের অবস্থা মূলত নির্ভর করে ব্যবহারকারীর স্বভাব এবং ব্যবহারের ইতিহাসের উপর। তাই পুরাতন মোটরসাইকেলই কিনতে চাইলে হতে হবে দ্বিগুণ সচেতন।

হতে পারে এটা আপনার প্রথম বাইক কিংবা আপনি স্রেফ আপনার সংগ্রহে আরো একটা বাইক যোগ করতে যাচ্ছেন, যাই হোক, পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার আগে এসব বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন,

কেমন বাইক চাইছেন?

মাথা এলোমেলো হয়ে যাওয়া খুবই সহজ সাধারণ ব্যাপার বাইক পছন্দ করতে গেলে, কারণ এতো ধরণের, এতো প্রকারের মোটরবাইক বাজারে পাওয়া যায় যে, কেনার আগে, ভেবেচিন্তে না গেলে গড়বড় হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

কী ধরণের মোটরসাইকেল প্রয়োজন, ভাবতে হবে আগেই ; Image Source: Wikipedia.org

তাই সিদ্ধান্তটা আগেই নিন, কী চাইছেন? লেইড-ব্যাক ক্রুজার নাকি স্পোর্টস বাইক? সাধারণ সহজে চলার মত স্কুটার নাকি লম্বা ট্যুরে যাওয়ার মত বাইক?

ট্যুর বাইক ব্যবহারের পর যে অবস্থায় থাকে, তারচেয়ে অনেক বেশি খারাপ অবস্থা থাকে স্পোর্টস বাইক। আবার দৈনন্দিন চলাচলে ব্যবহৃত বাইকের বাইরের দর্শন ভালো হলেও ভেতরটা খতিয়ে দেখা জরুরী।

তাই কেমন মোটরসাইকেল নিতে যাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করেই কিভাবে কিনতে চাওয়া মোটরসাইকেলের ওপর গোয়েন্দাগিরি চালাবেন, তার রোডম্যাপ করতে হবে।

ডিলার নাকি প্রাইভেট পার্টি?

পুরাতন মোটরসাইকেল কিন্তু তা কোথ্বেকে কিনছেন তার ওপরও নির্ভর করে দাম কত পড়বে!

ডিলারের কাছে থেকে কিনলে দাম কিছুটা বেশি পড়বে কারণ তিনি তার প্রফিট রাখবেনই।

প্রাইভেট পার্টি হলে দাম কিছুটা কম পড়ার কথা, যদি আপনি দাম কমাতে পারেন। তবে প্রাইভেট পার্টির সমস্যা হচ্ছে বাইকে বিশেষ কোন বর্ণনা আপনি পাবেন না বরং পাবেন যে কোন প্রশ্নের উত্তরে বাইক নিয়ে তার নস্টালজিয়া, তাই প্রাইভেট পার্টির কাছে থেকে কিনলে নিজ দক্ষতায়ই বাইকের ভালো মন্দ বুঝে নিতে হবে।

কিছু ডিলারস শপ পুরাতন মোটরসাইকেলেও দেয় ওয়ারেন্টি ; Image Source: cmcbikes.com

ডিলারের কাছে গেলে যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন করে বাইকের বর্তমান অবস্থা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করবেন। আর কিছু পেশাদার ডিলার পুরাতন বাইকের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্ভিসিং ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে।

তবে আপনি নিজে বাইক ভালো বোঝেন, এমন আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রাইভেট পার্টিকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিৎ।

অবশ্যই টেস্ট রাইড

ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সৌন্দর্য কখনোই নতুন মোটরসাইকেলের মতো হবে না, আর বাইরের সৌন্দর্য দেখে আন্দাজ করা উপায়ও নেই।

তাই বাইকের অবস্থা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে টেস্ট রাইডে যাওয়া, যত বেশি সময় নেয়া যায়, যত বেশি বার যাওয়া যায়।

টেস্ট রাইড দিতে হবে অবশ্যই ; Image Source: fema-online.eu

আর টেস্ট রাইডের সময় যত বেশি রকম উপায়ে চালাতে পারেন, সবগুলোই চেষ্টা করুন।

টেস্ট রাইডে যত বেশি এক্সপেরিমেন্ট করবেন, ততবেশি বাইকটি আপনার সামনে উন্মোচিত হবে, বুঝে ফেলবেন নিজেই কোথায় সমস্যা।

সার্ভিস হিস্ট্রি রেকর্ড

বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন মোটরসাইকেল সার্ভিসিং করানোর রেকর্ড পেপারসের জন্য। ভালোভাবে পরিচালিত মোটরসাইকেল পরবর্তীতে আপনার মোটা অংকের টাকা বাঁচিয়ে দেবে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা একটি মোটরসাইকেল অবশ্য চেইন এবং স্প্রোকেট ঠিকঠাক যত্ন করবে নিয়মিত বিরতিতে, নিয়মিত সময় পর পর ইন্জিন ওয়েল বদলে নেবে, টায়ারে নিয়মিত এবং পরিমিত হাওয়া দিয়ে রাখবে।

রেকর্ডবুকটি দেখলেই আপনার এসব বিষয়ে একটু পরিষ্কার ধারণা হবে, আর মোটরসাইকেলটির অবস্থাও সহজেই আন্দাজ করে ফেলতে পারবেন।

মাইলেজ

মোটরসাইকেল কিংবা গাড়ি কেনা ক্ষেত্রে মাইলেজ সবসময়ই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা সে হোক নতুন, কিংবা পুরাতন। ব্যবহৃত বাইক কেনার আগে মাইলেজ ব্যাপারটা যত্ন সহকারে বিবেচনায় আনা উচিত।

মাইলেজ থেকেই পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ; Image Source: advpulse.com

মাইলেজ কম যেমন সন্দেহজনক তেমনি খুব বেশি মাইলেজও সন্দেহজনক।

খুব কম তেলে চলছে মানে এমনও হতে পারে সবগুলো যন্ত্রাংশ ঠিকঠাক কাজ করছে না, যা পরবর্তীতে আপনার বড় ধরণের ভোগান্তির কারণও হতে পারে।

দামাদমির সুযোগ আছে কি?

দামাদামির সুযোগ থাকলে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন, যদি আপনি বাজেট সচেতন হয়ে থাকেন। নতুন মোটরসাইকেলে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে দামের, তবে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে তা নয়, যদি না বিক্রেতা আগেই আপনাকে ‘প্রাইস ফিক্সড ‘ বলে শর্ত দিয়ে থাকে৷

ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের আসলে কোন নির্দিষ্ট দাম হয় না, অর্থাৎ এমন কোন দাম নির্ধারণ করা সম্ভব না যেখানে দুই পক্ষই লাভবান হবে।

তাই দামাদামি লড়াইয়ে কঠোর হয়ে নামুন, যে কোন একজনের কিছুটা লোকসান তো হবেই, সেই একজনটা যেন আপনি না হন, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।

তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বাইকটি এতো বেশিই পছন্দ হয়ে যায় যে ক্রেতা আগেই প্রেমে পড়ে যান বাইকের।

আপনার ক্ষেত্রে যদি এমন হয়, তাহলে অবশ্যই প্রেমটাকে মনের ভেতর সাময়িক ভাবে গোপন রাখুন, কোনভাবেই বিক্রেতাকে টের পেতে দেবেন না।

বৈধ কাগজ পত্র

শেষে বলছি বটে, তবে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরাতন গাড়ি কেনার আগে কিংবা মোটরসাইকেল, কাগজ পত্র পরীক্ষা করে দেখুন। মোটর সাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন, ইন্সুরেন্স পেপার করা আছে কিনা, ট্যাক্স পরিশোধ করে তা রিনিউ করা হয়েছে কিনা…. আর চেসিস নাম্বার দিয়ে সম্ভব হলে কোন মামলা মোকদ্দমা আছে কিনা তাও দেখে নিন।

কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কোনভাবেই মোটরসাইকেল কেনার ব্যাপার আর অগ্রসর হবেন না, তা সে যত পছন্দই হয়ে যাক, যত কমেই পাওয়া যাক।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পুরো বিনিয়োগই জলে যেতে পারে, সে ব্যাপারে সচেতন থাকুন।

আর কিভাবে পুরাতন মোটরসাইকেল কেনা বেচা করা যায় আইনসম্মতভাবে, তার খোঁজও নিয়ে রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *