in ,

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ঃ রিভিউ এবং স্পেসিফিকেশন

মোটরসাইকেলকে বলা হয় স্বাধীনতা ও তারুণ্যের উদ্দামতার প্রতীক। ঢাকার মত ট্রাফিক জ্যামের শহরে মোটরসাইকেল রাইড যেমন হয়ে উঠেছে ত্রাণকর্তা, প্রয়োজনীয় যানবাহন। তবে তরুণদের চাহিদাও যে ফেলনা নয়, তা মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড গুলোর নতুন বাইকগুলোর ডিজাইন এবং ফিচার দেখলেই বোঝা যায়।

উপরন্তু সুজুকির মতো কিছু ব্র্যান্ড অন্য সবকিছুর চেয়ে তরুণদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তরুণ রাইডারদের মুগ্ধ করতেই নতুন সুজুকি জিক্সারের ডিজাইন করা হয়েছে বিশেষভাবে।

নতুন সুজুকি জিক্সার ডিজাইন করা হয়েছে কিছুটা আলাদা ভাবে, এতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে স্টাইলিং, গ্যাস পারফরম্যান্স এবং শক্তিশালী প্রোডাকশনের দিকে। আর এই ধরণের উপাদান মোটরসাইকেল র্যাংকিং এ সুজুকি জিক্সার কে নিয়ে এসেছে উপরের দিকে।

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ ; Image Source: bikedekho.com

চলুন দেখে নেয়া যাক সুজুকি জিক্সার ১৫৫ এর প্রধান স্পেসিফিকেশন,

মডেল – জিক্সার

ইন্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট – ১৫৪ সিসি

প্রাইস – দুই লাখ নয় হাজার নয়শত পন্চাশ টাকা  (ডুয়েল কালার) এবং দুইই লাখ উনিশ হাজার নয়শত পন্চাশ টাকা (সিঙ্গেল কালার) ।

স্ট্যাটাস ইন বাংলাদেশ – এভেইলেবল

লাস্ট আপডেট – ২২ জুন, ২০১৯ইং

লুকস, ডিজাইন এবং স্টাইল

সুজুকি জিক্সার ডিজাইনের ক্ষেত্রে কিছু উজ্জল লাইন টানা হয়েছে এবং প্রতিটা লাইনের অালাদা কিছু অর্থবোধকতা থাকায় ডিজাইনের ক্ষেত্রে জিক্সার হয়ে উঠেছে দ্বিগুণ আকর্ষণীয়।

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ ; Image Source: pinterest.com

মাসকুলার এবং স্টাইলিশ গ্যাস ট্যাংক এমন ভাবে ডিজাইন করা যে হাঁটুতে কোন স্ট্রেসই নিতে হয় না। ট্যাংকে ১২ লিটার পর্যন্ত গ্যাসোলিন নেয়া যায়।

আর ট্যাংকে লাগানো সুজুকির  থ্রিডি লোগো বাইকের লুককে দিয়েছে অন্যরকম একটি ব্যাপার।

বাইকের প্যাসেন্জার সিটের গ্র্যাব রেইল বডির সাথে চমত্কার ভাবে রেইল করা, এছাড়া ব্যারেল এক্সহস্টও দারুণ দেখতে।

সুজুকি জিক্সার এবিএসে ন্যাকড ভার্সন ১৫৫ ; Image Source: motorbeam.com

আপরাইট হ্যান্ডেলবার, কনভেনশনাল সুইচ গিয়ার এবং পারফেক্ট পজিশনের রিয়ার ভিউ মিরর পেছনে দেখার সুবিধা দেয় পুরোপুরি ভাবে।

ফুল ডিজিটাল স্পিডোমিটারের ব্যাকগ্রাউন্ড লাল রঙের। এতে গিয়ার চেন্জ ইন্ডিকেটর, ঘড়ি, লিমিট লাইট সহ আরো অনেকগুলো চমৎকার ফিচার রয়েছে। 

সুজুকি জিক্সার একটি স্ট্রিট মোটরবাইক হিসেবে ডিজাইন করা হলেও বাইকটিতে বেশ স্মার্ট দেখতে ত্রিকোণাকৃতির একটি হেডলাইট ব্যবহার করা হয়েছে, বিকিনি ফায়ারিং সহ। সাইড প্যানেলগুলোতে আধুনিক দিনের ম্যাট ব্ল্যাক এবং ম্যাট গোল্ড কালার ব্যবহার করা হয়েছে যাতে আরো আকর্ষণীয় লাগে দেখতে।

সুজুকি জিক্সারের ডিজাইনের ক্ষেত্রে আরেকটা চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে এতে শাউট ডুয়াল টাইপের এক্সহস্ট ব্যবহার করা হয়েছে, প্রথম দিকে সুজুকি এই ধরণের এক্সহস্ট শুধু ২৫০ সিসি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতো। ফলে আমাদের দেশের রাইডাররা এই চমৎকার লুকটি কখনোই পায় নাই আগে।   সুজুকির দাবী অনুযায়ী, এক্সহস্ট ডিজাইন শুধু দেখার জন্য না, বরং এর পরিপূর্ণ কার্যকারিতার নিশ্চয়তাও দিচ্ছেন নির্মাতারা।

তবে কিছু অভিযোগ রয়েছে এর হেডলাইটের উজ্জলতা নিয়ে, যদিও এতে হ্যালোজেন লাইট এবং ক্রিস্টাল ক্লিয়ার এলিইডি লাইট টেইলে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইন্জিন

বাইকটির ওজন মাত্র ১৩৫ কিলোগ্রাম হওয়ায় খুব ভালো এক্সালারেট করতে পারে। রেডি পিকআপ এবং স্মুথ গিয়ারবক্সের কারণে ০-১০০ ড্রাগ রেস সেগমেন্টের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দীদের সহজেই হারিয়ে দিতে পারে।

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ এর ইন্জিন ; Image Source: youtube.com

১৫৫ সিসি এয়ার কুলড ইন্জিনে সিঙ্গেল সিলিন্ডার এবং দুটি ভালব বিশিষ্ট। ইন্জিনটি ১৪.৫ বিএইচপি শক্তি ও ১৪ নিউটন মিটার টর্ক উত্পাদন করে।

পাওয়ার এবং টর্ক উত্পাদনে ১৬০ সিসি বাইক থেকে সামান্য কম হলেও ১৫০ সিসি বাইকগুলো থেকে বেশ ভালো।

সাত হাজার আরপিএমের পর ফুট প্যাডে সামান্য ভাইব্রেশন টের পাওয়া গেলেও রাইডিং করতে তেমন অসুবিধা হয় না।

পেছনে ১৪০ সেকশন টায়ার এবং সামনে ৪২ মিলিমিটার ফ্রন্ট সাসপেশন দারুণ কর্নারিং সুবিধা দেয়।

ব্রেক এবং সাসপেনশন

টুইন ডিস্ক ব্রেক থাকার কারণে বাইকটির ব্রেক পারফরম্যান্স খুবই ভালো । বাইকটির রেয়ার ব্রেক শক্তি শালী হওয়ায় জিগজ্যাগ রাইডিং এ রেয়ার ব্রেক বেশ স্টেবল অবস্থায় পাওয়া যায়।

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ ; Image Source: indianautosblog.com

বাইকের ফ্রন্ট সাসপেনশন একটু শক্ত হলেও কিছুদিন রাইডের পর তা স্মুথ হয়ে যায় বলে রিভিউ পাওয়া গেছে। 

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ ; Image Source: xbhp.com

বাইকটি চালানোর সময়, বিশেষত পিরলিয়ন নিলে বেশির ভাগ স্পিডব্রেকারের সাথে ঘষা খেতে পারে বলে প্রথম সার্ভিসং এর সময় কিছুটা কাস্টোমাইজ করে নেয়া ভালো। 

সুজুকি জিক্সারে আধুনিক প্রযুক্তির টেলিফোন কোরেসপন্ডিং ডিজিটাল স্পিডোমিটার ব্যবহার করা হয়েছে৷ এতে টুল ফাংশন এবং আরপিএম ইন্ডিকেটরও দেয়া আছে।

অন্যান্য ফিচার

সুজুকি জিক্সার একটি পারফরম্যান্স নির্ভর বাইক। সে তুলনায় এর মাইলেজ কিছুটা কম, পয়ত্রিশ কিলোমিটার, হাইওয়েতে যা সর্বোচ্চ চল্লিশ কিলোমিটার চলতে পারে।

সুজুকি জিক্সারের এই ভারসনটিতে রিং চেইন দেয়া হয়েছে। রিং চেইন সাধারণত সহজে নষ্ট হয় না বলে চেইন এডজস্টমেন্টের চিন্তা মুক্ত থাকা যায়।

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ ; Image Source: hdwallpapers.net

তাএ সুজুকি জিক্সারের হর্ন নিয়ে কিছুটা অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হর্ন টি পুরোপুরি পারপেক্ট নয়। যেহেতু বাইকটি রেডি পিকআপকে বেশি ফোকাস করেছে, তাই অন্যান্য দিকে কিছুটা স্যাকরিফাইস করতে হয়েছে।

এক নজরে

পজেটিভ দিক

*ইন্জিনের জোরালো সাউন্ড

*বাইকটির রেড পিকআপ (তরুণ রাইডারদের মূল আকর্ষণ)

*ডুয়েল ডিস্ক ব্রেক

*হ্যান্ডেলিং

*কর্নারিং পাওয়ার

*কিছুটা নীচু, ওজনে কম এবং ছোট সাইজের হওয়ায় কম হাইটের বাইকারদের জন্য বেশ সুবিধাজনক।

নেগেটিভ দিক

*গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স খুবই কম

*ফ্রন্ট সাসপেনশন তেমন স্মুথ থাকে না প্রথম দিকে

*প্লাস্টিক কোয়ালিটি কিছুটা নিম্ন মানের

*পিলিয়ন সিট কিছুটা ছোট এবং আরামদায়ক নয়।

*বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি। 

সুজুকি জিক্সারের দাম এবং ব্যায়বহুলতার দিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের দেশের বাজারের প্রেক্ষাপটে কিছুটা বিলাশবহুল বলেই ধারণা হয়। তবে সুজুকি মূলত তরুণ ক্রেতাদেরই টার্গেট কাস্টোমার হিসেবে নিয়েছে জিক্সারের ক্ষেত্রে। আর তরুণ দের আকৃষ্ট করতে যা প্রয়োজন, সেই আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং দ্রুত স্পিড তোলাতে সুজুকি জিক্সার অতুলনীয় হিসেবেই বাজারে পদচারণা করছে।

অন্যান্য দিক থেকেও বেশ ভাল এবং আধুনিক সব প্রযুক্তির ব্যবহার বাজারে বেশ একটা উন্মাতাল ব্যাপারই তৈরী করে সুজুকি জিক্সার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *