in , ,

জরুরী মুহূর্তের জন্য গাড়িতে রাখুন প্রস্তুতি

গাড়িতে কোথাও যাওয়ার সময় কেউই চায় না গাড়ি বিগড়ে যাওয়া বা অন্য কোন কারণে মাঝ রাস্তায় আটকা পড়ে থাকতে। কখনো কখনো এমন আটকে পড়া যেমন বিপদজনক তেমনি আমাদের মূল্যবান সময়ও নষ্ট করে। এটা একই সাথে অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতি তৈরী করে এবং বেশ বড়সড় খরচের কারণও হয়ে দাড়ায় প্রায়ই।

সুতরাং এমন জরুরী মুহূর্ত কেউই প্রত্যাশা করে না তেমনি গাড়ি যেহেতু কলকব্জা সমেত একটা মেশিনই, তাই এর হুট করে বিগড়ে যাওয়া একদম বন্ধ নিশ্চিত করাও বোধ করি সম্ভবপর না।

তবে চাইলে কিছু প্রস্তুতি আপনাকে এমন পরিস্থিতিতে ঝক্কি-ঝামেলার হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই দিতে পারে।

জরুরী মুহূর্তের জন্য আপনার গাড়িটিকে প্রস্তুত করে নিতে পারেন, বিশেষত লং ড্রাইভে বেরুনোর আগে তো অবশ্যই, সাধারণ এসব প্রস্তুতিই বাঁচাতে পারে আপনার মূল্যবান সময় এবং অর্থ, রাখতে পারে নিরাপদ, ফিরিয়ে আনতে পারে রাস্তায় প্রত্যাশার চেয়ে কম সময়ে৷

আজ পাঁচটি কৌশল নিয়ে আলোচনা করবো যা জরুরী মুহূর্তে আপনাকে একটু হলেও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি।

ইমার্জেন্সি কিট

গাড়িতে একটা ইমার্জেন্সি কিট সবসময় সংরক্ষণ করুন। বক্সে অথবা ট্রাংকে রাখা ইমার্জেন্সি কিট আপনাকে রোড সাইড ইমার্জেন্সিতে সাহায্য করবে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল গবেষণা করে ইমার্জেন্সি কিটে যা যা থাকা উচিৎ, তার দারুণ একটা লিস্ট রেখেছে তাদের ওয়েবসাইটে।

ইমার্জেন্সি কিট ; Image Source: businessinsider.com

এর সাথে ফার্স্ট এইড কিট যেমন ব্যান্ডেজ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, এন্টিবায়োটিক ওয়েনমেন্ট, বাগ স্প্রে, এসপিরিন, কটন বলস, গজ, চিমটা ইত্যাদিও রাখা যেতে পারে।

ফার্স্ট এইড কিট ; Image Source: chiefsupply.com

এছাড়া একটি ছোট আকারের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, রোড ফ্লেয়ারস, জাম্পার ক্যাবল, রেইন কোট/ক্যাপ, ফাঁদ, অতিরিক্ত ব্যাটারি সমেত ফ্লাশলাইট, ন্যাকড়া জাতীয় কাপড়, খাবার পানি, শুকনো খাবার রাখার সাথে সাথে বেসিক টুলের একটা সেটও রাখা যেতে পারে প্রয়োজন বুঝে।

দৈনন্দিন রাস্তায় তো বটেই এমন প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন লম্বা ভ্রমণে বেরুনোর আগে।

অতিরিক্ত একটি ফোন, সিমকার্ড এবং চার্জার

যেকোন জায়গায় যেকোন নাম্বার থেকেই জরুরী পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চাওয়া যায়, এই সার্ভিস পাওয়া যায় দিন রাত চব্বিশ ঘন্টাই। তাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে বিপদে পড়লে নিজের ফোন থাকুক বা না থাকুক, হারিয়ে যাক কিংবা সেদিন ভুলে বাসায় সেলফোনটি রেখে বেরুলেও যেন সাহায্য চাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, সেজন্যই গাড়ির গ্লাভ কম্পার্টমেন্টে একটি অতিরিক্ত সেলফোন রাখুন।

অতিরিক্ত সেলফোন জরুরী মুহূর্তে হয়ে ওঠে ভীষণ উপকারী ; Image Source: wirecutter.com

সেল ফোনের সাথে সাথে তার চার্জারটিও রাখুন এবং সেলফোনটি সুইচড অফ করে রাখুন, এতে চার্জ বেঁচে থাকবে ব্যাটারির। তারপরও একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর ফোনটি অন করে ফুল চার্জ করে আবার সুইচড অফ করে গ্লাভ কম্পার্টমেন্টে রাখুন।

জরুরী অবস্থায় হয়তো এই ফোনটিই হয়ে উঠবে আপনার উদ্ধার এমনকি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা৷

ইন্সুরেন্স সংক্রান্ত  তথ্য এবং নাম্বার

আপনার গাড়ির ইন্সুরেন্স কোম্পানির টেলিফোন অথবা মোবাইল নাম্বার সবসময় আপনার সেলফোনের সেভ করা কন্টাক্টের ইজি একসেসে রাখুন, সাথে নোট প্যাডে গাড়ির ইন্সুরেন্স নাম্বারও যাতে সহজেই তাদের তথ্য দিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় এ সব কিছুর সাথে ইন্সুরেন্স পেপারের একটা ছবিও ফোনে তুলে রাখা যাতে ইন্সুরেন্স নাম্বার, কন্টাক্ট নাম্বার এক সাথেই থাকবে, ছবিটি গুগোল ডক কিংবা যে কোন ক্লাউডে আপলোড করে রাখুন৷

ইন্সুরেন্সের কাগজ এবং নাম্বার সাথে রাখলে পরবর্তী আইনগত ধাপে পাওয়া যায় বিশেষ সুবিধা ; Image Source: nerdwallet.com

এছাড়া একটি সাদা কাগজেও উপরে উল্লেখিত প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো লিখে গ্লাভ কম্পার্টমেন্টে রাখতে পারেন।

শুধু জরুরী মুহূর্তে নয়, পরবর্তীতেও ইন্সুরেন্সের সাথে এই যোগাযোগ আপনাকে অনেক ঝামেলা থেকে রেহাই দিবে, খুব সহজেই আপনি প্রমাণ ারতে পারবেন এক্সিডেন্ট অথবা অন্য যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন তা সম্পর্কে।  

শীত এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত সাবধানতা

শীত সবসময়ই গাড়ি চালানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপদজনক সময়। বিশেষত শীতের দেশে, যেখানে তুষারপাত হয় প্রায়ই, এমন রাস্তায় ড্রাইভে বেরুলে প্রস্তুতিতেও রাখতে হবে অতিরিক্ত সাবধানতা।

ট্রাংকে একটা ব্লাংকেট, কিছু অতিরিক্ত শীতের কাপড়,অতিরিক্ত শুকনো এবং ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন। আর সবচেয়ে জরুরী বরফ গলানো লবণ কিংবা এ ধরণের কোন কেমিক্যাল সলুশন এবং বালু রাখা।

আপনাকে জানতে হবে কিভাবে বিশেষ এই লবণ কিংবা কেমিক্যাল সলুশন বরফ গলাতে সাহায্য করে, আর বালু মূলত বরফে আটকে যাওয়া চাকাকে  সরাতে সাহায্য করে।

বর্ষার দিনে কাঁদায় আটকে পড়া থেকে উদ্ধার করার জন্যও বালু রাখা যেতে পারে, সেই সঙ্গে দু চারটা ইট এবং সাড়াসি ধরণে যন্ত্রও আসতে পারে উপকারে৷

দক্ষতা বাড়িয়ে প্রস্তুত করুন নিজেকেও

সব উপকরণ যন্ত্রপাতি গাড়িতে থাকলেও তেমন লাভ হবে না যদি না আপনি তাদের সঠিক ব্যবহার জানেন৷ তাই ছোটখাটো মেকানিকাল টার্মগুলো শিখে ফেলুন যা জরুরী মুহূর্তে কাজে দেবে সবচেয়ে বেশি।

নিজেকে দক্ষ করে তোলা সবচেয়ে বেশি জরুরী ; Image Source: usnews.com

রোড সাইড ইমার্জেন্সির ধারণায় সবচেয়ে বেশি ঘটা ব্যাপার সম্ভবত টায়ার পাংচার, যে কোন সময় যে াোন জায়গায়ই হতে পারে।

তাই পাংচার হওয়া টায়ার বের করে স্পেয়ার টায়ার লাগানো শিখে নিন নিজেই, যা কাজে দেবে দারুণভাবে।

ব্যাটারি ডেড হয়ে গেলে কিভাবে ডিরেক্ট লাইন করে গাড়িকে জরুরী অবস্থায় স্টার্ট করতে হয়, সেই মেকানিজমটাও দেখে এবং শিখে রাখুন।

রোড ফ্লেয়ার ইমার্জেন্সি কিটে রাখলেই শুধু হবে না, কিভাবে একে জ্বালাতে হয় এবং ছুড়তে হয় দূরের আকাশে যাতে অন্যান্য ড্রাইভাররা দেখতে পায় সে আলো এবং আপনাকে সাহায্য করতে পারে, তা আগেই শিখে রাখতে হবে, নাহলে শুধু ভন্ডুল নয়, উল্টাপাল্টা জায়গায় আগুন ধরিয়ে নিজে আহত হয়ে বিপদের মধ্যে আরো বিপদ বাড়িয়েও বসতে পারেন।

শুধু একবার দেখে শিখে রাখলাম ভাবলেই হবে না, উপরের ব্যাপারগুলো বারবার অনুশীলন করতে হবে নিজে নিজেই, যতক্ষণ পর্যন্ত আত্ববিশ্বাস না আসে নিজের মধ্যে কাজটা সম্পর্কে।  প্রক্রিয়া গুলো ধৈর্য্য ধরে সম্পন্ন করুন শেষ পর্যন্ত এবং অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন এ সম্পর্কে।

জরুরী মুহূর্তের জন্য শিখে রাখা এবং এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ বিপদের সময় আপনার অবস্থার উন্নতি করবে তো বটেই, সাথে বাঁচাবে আপনার মূল্যবান সময় এবং অর্থও৷

যাত্রা হোক নিরাপদ!



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *