in ,

মুভি থেকে বিখ্যাত হওয়া যত মোটরবাইক

মোটরসাইকেল তরুণদের জন্য সুপ্ত আবেগের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। ভয়হীন হৃদয় এবং স্বাধীনতার মেলবন্ধন ঘটে খোলা রাস্তায়।

তারুণ্যের কাছে স্বাধীনতা এবং বেপরোয়া জীবনযাপনে আকর্ষণ চিরন্তন। আর এসবের সলতেতে সবচেয়ে বেশি আগুন দেয় সম্ভবত চলচিত্র।

তাই সিনেমায় ব্যবহৃত হওয়া মোটরসাইকেলগুলো হুট করে তরুণদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত বস্তু হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

হয়েছেও তাই, ইতিহাসে বহু ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল পাওয়া যাবে, যেগুলো বাজারে আসার পর তেমন আলোড়ন তুলতে না পারলেও, হয়তো কোন মুভিতে প্রিয় কোন হিরোর বদৌলতে তরুণ প্রজন্মের প্রিয় যানবাহন হয়ে উঠেছিল মোটরসাইকেলটি। 

এমন কিছু মুগ্ধ করার মত মুভি এবং মোটরসাইকেলের গল্প নিয়েই সাজানো আজকের লেখা,

ড্রেড – লমাস্টার ( Dredd – Lawmaster)

প্রকাশকাল – ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

আইএমডিবি রেটিং – ৭.১/১০

পরিচালক – পেট ট্রাভিস (pete Travis)

মোটরসাইকেল ডিজাইনার – কার্লোস এজকুয়েরা (Carlos Ezquerra)

ড্রেড ; Image Source: hiconsumption.com

আরমার্ড মোটরসাইকেলটি ব্যবহৃত হয়েছে ড্রেড সিনেমার একইসাথে চমৎকার এবং ভয়ংকর একটি চরিত্রে। সিনেমায় মোটরসাইকেলটি পরিচালিত হয় নিয়মিতভাবে একটি কম্পিউটার দ্বারা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বসানো আছে।

সিনেমার মোটরসাইকেলে একটা মেশিন গানও বসানো আছে যা হাই স্পিড চেসিং এ প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেলগুলোকে কুপোকাত করে এগিয়ে যায়।

মুভিটি তৈরীর আগে এটি কমিক বই হিসেবে প্রকাশ করেন কার্লোস এজকুয়েরা। পরবর্তীতে কমিক কাহিনীকে ভিত্তি করে ট্রাভিস সিনেমাটি বানালেও মোটরসাইকেল ডিজাইনটি কার্লোসকে দিয়েই এমনভাবে পরিবর্তন করে নেন যে, তা আরো বেশি কর্ম দক্ষ এবং বাস্তবিক হয়ে ওঠে।

সিনেমায় ব্যবহৃত এই লমাস্টার মোটরসাইকেলটি সুজুকি জিএসএক্স ৭৫০ বাইকের চেসিস দিয়েই তৈরী। সিনেমা মুক্তির পর থেকে সুজুকি জিক্সার নিয়ে যে আলোড়ন তৈরী হয়েছে তা এখনো টিকে আছে। এমনকি বাংলাদেশের বাজারেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা সম্ভবত সুজুকি জিক্সার নিয়েই।

মিশন ইমপসিবল ফলআউট – ২০১৭ বিএমডব্লিউ আর নাইনটি (Mission Impossible Fallout – 2017 BMW R nineT)

প্রকাশকাল – ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ 

আইএমডিবি রেটিং – ৭.৮/১০

পরিচালক – ক্রিস্টোফার ম্যাককুয়ারি (Christopher McQuarrie)

মোটর সাইকেল ডিজাইনার – ওলে স্ট্যানগার্ড, রোলান্ড স্টোকার এবং থ্রাস পাপাদিমিত্রিও (Ola Stenegard, Roland Stocker & Thass Papadimitriou)

মিশন ইমপসিবল ফলআউট ; Image Source: hiconsumption.com

টম ক্রুজ তার নিজস্ব স্টান্ট করার জন্য বিখ্যাত এবং ফলআউটে অভিনয়ের আগেই শীর্ষে ওঠার জন্য সম্ভব সবকিছুই  তিনি করে ফেলেছেন।

সুতরাং মিশন ইমপসিবলের মত একটা জনপ্রিয় মুভি সিরিজে এসে টম ক্রুজের মত অভিনেতা যখন বিএমডব্লিউ আর নাইনটি’র মত বাইক নিয়ে চমৎকার সব স্টান্ট দেখায়, তখন মোটরসাইকেল প্রেমী তরুণদের মনে তেমন কোন সুযোগই থাকে না মুগ্ধ হয়ে না তাকাবার। মোটরসাইকেলের প্রতি আকর্ষণ এবং সামর্থ্য রয়েছে এমন কেউই অবশ্য এ প্রলোভদ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

প্রায় সবারই দেখা এই মুভির রিভিউতে সময় নষ্ট না করে আমরা বরং বাইকটাতে নজর বুলিয়ে নিতে পারি।

৮৬ এফটি-এলবি টর্ক এবং ১১০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ইন্জিনের তৈরী মোটরসাইকেলটিতে বুস্ট দিয়ে দিয়ে টম ক্রুজ মুভিতে তার পেছনে ছোটা সব পুলিশদের হারিয়ে দিয়েছেন স্টান্ট দক্ষতায়।

টার্মিনেটর ২ – হার্লে-ডেভিডসন ফ্যাট বয় (Terminator 2 – Harley-Davidson Fat Boy)

প্রকাশকাল – ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

আইএমডিবি রেটিং – ৮.৫/১০

পরিচালক – জেমস ক্যামেরন (James Cameron)

মোটরসাইকেল ডিজাইনার – উইলি জি. ডেভিডসন এবং ল্যুই নেটজ (Willie G. Davidson and Louie Netz)

টার্মিনেটর ২ ; Image Source: hiconsumption.com

সিনেমার ইতিহাসে সিকুয়েল মুভি হিসেবে টার্মিনেটর টুঃ জাজমেন্ট ডে অন্যতম সেরাগুলোর একটি। আর সাথে আরনল্ড শোয়ার্জেনগারের (Arnold Schwarzenegger) মোটরসাইকেল রাইডিং, টি-৮০০ (T-800) চরিত্রের শটগান ব্লাস্টিং এসব কারণে মুভিটি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল।

আর যখন টি – ৮০০ এর যন্ত্রপাতি নিয়ে কল্পনা করতে চোখ বন্ধ করে মন দিয়ে ভাবতে যাবেন, আপনার কল্পনাতে শুধু একটি ছবিই ভাসবে, হার্লে-ডেভিডশন ফ্যাট বয়।

হার্লে ডেভিডসনের মত বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আর টার্মিনেটরের মত সিরিজের সাথে যখন শোয়ার্জেনগারের মত তারকার সংযোগ ঘটে, তখন মুভি এবং বাইক, দুটোই যে ব্লকবাস্টার পর্যায়ে চলে যাবে, তা বললেও চলে।

দ্য ম্যাট্রিক্স রিলোডেড – ২০০১ ডুকাটি ৯৯৬ (The Matrix Reloaded – 2001 Ducati 996)

প্রকাশকাল – ২০০৩

আইএমডিবি রেটিং – ৭.২/১০

পরিচালক – ওয়াচভস্কি ব্রাদারস (Wachowski Brothers)

মোটরসাইকেল ডিজাইনার – গিয়ানান্দ্রে ফ্যাব্রো, মিগুয়েল গ্যালুজ্জে এবং জর্জেট্টো গিওগিয়ারো (Gianandrea Fabbro, Miguel Galluzzi and Giorgetto Giugiaro)

দ্য ম্যাট্রিক্স রিলোডেড ; Image Source: hiconsumption.com

স্পোর্টস বাইক ২০০১ ডুকাটি ৯৯৬ নিয়েই ম্যাট্রিক্স রিলোডে এজেন্টের কাছে থেকে ট্রিনিটি পালায়। ১১২ হর্সপাওয়ার এবং ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৬১ মাইলল গতিতে চলতে পারা বাইকটি নিয়ে রাস্তায় চলা গাড়ি ট্রাকের মধ্যে ঢুকে পড়ার মত অসংখ্য স্টান্ট ওয়াচভস্কি ব্রাদারস তৈরী করেছেন মুভিটির জন্য।

মুভিটির জনপ্রিয়তা যেমন আমাদের সবারই ফেভারিটের তালিকাতে স্থান করে নিয়েছে, তেমনি আমাদের কল্পনার সিনেমাটিক গ্যারেজে স্থান হয়েছে ২০০১ ডুকাটি ৯৯৬ এরও।

ট্রনঃ লিগ্যাসি – লাইট সাইকেল (Tron: Legacy – Light Cycle)

প্রকাশকাল – ২০১০

আইএমডিবি রেটিং – ৬.৮/১০

পরিচালক – জোসেফ কোসিন্স্কি (Joseph Kosinski)

মোটরসাইকেল ডিজাইনার – ড্যানিয়েল সাইমন (Daniel Simon)

ট্রনঃ লিগ্যাসি ; Image Source: hiconsumption.com

এ ক্ষেত্রে আমাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিৎ আসল ট্রন লাইট সাইকেল ডিজাইনারকে, তার কাজের উপর ভিত্তি করেই এটা শুরু করা হয়েছে৷ তবে ট্রনঃ লিগ্যাসি তে ভবিষ্যতকে কল্পনা করে যে চমৎকার বাঁধাহীন এক স্বপ্নরাজ্য তৈরী করা হয়েছে মুভিতে, পরিচালক জোসেফের কৃতিত্বকেও খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

সাঈদ মিয়াদ (Syd Mead) ১৯৮২ সালে প্রথম ট্রন মুভিটির জন্য লাইট সাইকেল ডিজাইন করেন, আর নতুন ডিজাইন কনসেপ্টটি করেন ভিহিকল ডিজাইনার ড্যানিয়েল সাইমন, আর এটিকে একটা দুর্দান্ত আপগ্রেড হিসেবে ধরেই নেয়া যায়৷

২০১০ সালে রিলিজ হওয়া সায়েন্স ফিকশন মুভিটির এই বাইকটি প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিখ্যাত মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলোও চাহিদা টের পাচ্ছিল এমন দারুণ কিছু বাজারে নিয়ে আসতে পারলে বিপ্লব এনে ফেলা যাবে। সে চেষ্টাতে এখনো হয়তো রত তারা।

তবে সময়ের আগে যদি কাছাকাছি এমন কোন স্বাদ পেতে চান, সাংঘাই ডিজনিল্যান্ডে চলে যেতে পারেন এবং চড়ে বসতে পারেন ট্রন লাইট সাইকেল কোস্টারে।

সবাই মোটরসাইকেল এবং মুভি নিয়ে তালিকা করতে বসলে যদিও এ্যাকশন মুভিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, আমাদের তালিকায় আমরা একটু ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি। আমরা সেসব মুভিকেই প্রাধান্য দিয়েছি যারা সময়কে ছাপিয়ে গেছে।

এরপরেও অনেক প্রিয় এবং জনপ্রিয় মুভি বাদ পড়ে গেছে, যেগুলো তালিকায় থাকা অন্য মুভিগুলোর সাথে তুলনায় যাওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন। হয়তো পরবর্তীতে আরো কিছু মুভির তালিকায় নিয়ে লেখাটির দ্বিতীয় পর্বে হাজির হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *