in ,

বর্ষা ও বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল রাইডিং টিপস

কিছু রাইডার মনে করে যখন আকাশ থেকে বৃষ্টি নামতে শুরু করে, তখন গ্যারেজের দরজাও নামিয়ে দেয়ার সময়। এমন অনেক রাইডার আছে যারা গ্রীষ্ম কাল শেষে বাইক গ্যারেজে ঢোকায়, শীতকাল আসা অবধি আর বের করে না।

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আপনিও যদি উপরের দলভুক্ত রাইডার হন, তাহলে রাইডের সেরা অভিজ্ঞতাই মিস করে যাচ্ছেন আপনি। বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল রাইডিং এর মত মজার এবং আনন্দদায়ক রাইড আর কখনোই হতে পারে না।

বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল রাইডিং হতে পারে চমৎকার অভিজ্ঞতা ; Image Source: revzilla.com

শুধু আপনাকে জানতে হবে বৃষ্টিতে আপনার এবং আপনার বাইকের সীমাবদ্ধতা, মানতে হবে কিছু অতিরিক্ত সাবধানতা।

শুষ্ক মৌসুমে খটখটে রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানোর চেয়ে বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, অল্প কিছু বাস্তবতা মাথায় রেখে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই বর্ষা বৃষ্টি কোনটাই বাঁধা হতে পারে না মোটরসাইকেল রাইডিং এ।

এবার দেখে নেয়া যাক, বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল চালানোর কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ,

উপযুক্ত পোশাক পরিচ্ছদ

একটা ভালো পানি নিরোধক স্যুট (এক অথবা দুই পিসের), গ্লাভস, বুটস এবং একটা ইলেকট্রিক ভেস্ট হলেও ভালো হয় যা আপনাকে ঝড়ের সময় ব্রজপাতের হাত থেকে নিরাপদ রাখবে।

আর এগুলোই বর্ষাকালে রাইড উপভোগের প্রথম চাবিকাঠি। এ জিনিসগুলো সংগ্রহ করে আপনি নেমে যেতে পারেন রাইডে, একটা পুরো দিন বৃষ্টিকে কাটিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুত আপনি।

পোশাক হতে হবে পানি নিরোধক ; Image Source: twistedthottl.com

সাধারণত পানি নিরোধক পোশাক পরিচ্ছদ এমনিতেই কিছুটা উষ্ণ হয়, তারপরও আরো বেশি উষ্ণতা যাদের প্রয়োজন, তারা লেয়ার বিবেচনায় আনতে পারেন, যা খুব সহজেই উষ্ণতা আনতে পারে অল্প সময়ে যখন দরকার। আর যখন প্রয়োজন নেই সহজে যেন খুলেও নেয়া যায়।

আরেকটা জিনিসে একটু বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন, তা হলো হেলমেট। বৃষ্টিতে যেসব হেলমেট ব্যবহারের উপযোগী, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে, যেমন এন্টি ফগ ভাইজর, ব্রেথ গার্ড অথবা ভাইজরের সাথে ইলেকট্রিক ডিফরেস্ট ফাংশন ওয়ালা হেলমেট ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু রাতের অন্ধকারের চেয়েও বৃষ্টি দীর্ঘ সময় নিয়ে হতে পারে, তাই ভালো ব্যাটারি নিতে হবে যাতে দীর্ঘ সময় চার্জ থাকে৷

এন্টি ফগ হেলমেট ; Image Source: piezascaferacer.com

যত ভালো রকমের গিয়ার এক্সেসরিজই আপনি নেন না কেন, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাত, আর বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ বেশ জটিলও, তাই হাতকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা জরুরী। ভালো মানের গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে যেন হাত ঠান্ডা বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় লেগে জমে না যায়।

সবশেষে, বৃষ্টিতে দীর্ঘক্ষণ থাকা মানে আবহাওয়া এবং শরীর উভয়ই যেহেতু ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে শীতকালীন পোশাক পরিচ্ছদকে বিবেচনায় আনা যেতে পারে রাইডের সময়কাল ও বাইরের আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে।

দক্ষতায় বাঁধামুক্তি, কাজে লাগান বুদ্ধিমত্তাও

আদর্শ আবহাওয়া ও রাস্তায় অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে আপনি যেভাবে বাইক রাইড করেন, বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলাদাভাবে করতে হবে, এটা অনুমেয়ই।

ব্রেক, থ্রোটল, সাসপেসশন এডজাস্টমেন্ট ঠিকঠাক করে নিতে হবে যাতে সবগুলো স্মুথভাবে কাজে লাগানো যায় প্রয়োজনীয় সময়ে।

গাড়ি ঘোরাতে চাই বাড়তি সতর্কতা ; Image Source: cycleworld.com

গাড়ি ঘোরানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলক বড় এঙ্গেল ব্যবহারের চেষ্টা করুন এবং নুন্যতম প্রয়োজনেও এক্ষেত্রে ব্রেক কাজে লাগান।

সামনে যে কোন বাঁধার ক্ষেত্র তৈরীর সম্ভাবনা থাকলে ব্রেক ধরার প্রস্তুতি নিয়ে নিন, শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

ইন্টারসেকশনে সতর্কতা

আমরা সবাই জানি ফুটপাথের সমস্ত ধুলো ময়লা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে রাস্তার উপর কাঁদা হয়ে জমা হয়। কিন্তু যেটা ইতিমধ্যে রাস্তায় থাকেই সেক্ষেত্রে??

রাস্তার যেখানেই বাইক থামাতে হোক না কেন, পিচ্ছিলভাব নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত। এবং বৃষ্টি কাঁদা ময়লা ধুয়ে এনে সেটাকে আরো বিপদজনক করে তোলে। যখন মোটরসাইকেল চালানো হয় তখন হয়তো এটা চোখে পড়বে না কিন্তু বাইকের গতি সবসময় কমিয়ে আনা উচিত রাস্তার সংযোগস্থলে আসার আগে। হলুদ বাতি জ্বললে গাড়ির গতি বেশি রাখা উচিত নয় কারণ আপনাকে দ্রুত ব্রেক কষতে বা ঘুরিয়ে নিতে হলে সংঘর্ষ হবার সম্ভাবণা থাকে।

আর রেড সিগনালে গাড়ি থামানোর সময় অবশ্যই রিয়ার ভিউ মিররে পিছনের গাড়ির অবস্থান দেখে নেয়া উচিত যেন পিছন থেকে ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। সামনে থেকে দ্বিগুণ দূরত্বে নিজের বাইক দাঁড় করানো উচিত যেন হুট করে কোন গাড়ি আপনার সামনে না এসে পড়ে।

ম্যানহোলের ঢাকনা এবং ফুটপাত দেখে চালান

বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টের অন্যতম প্রধান দুটো কারণ ঢাকনা বিহীন ম্যানহোল এবং শিকারী ফুটপাত।

আপনি যদি সোজা রাস্তায় মোটরসাইকেল চালান শুষ্ক মৌসুমে তখন এসবে তেমন কোন সমস্যা হয় না তবে বৃষ্টির দিনে এ দুটি সম্পর্কে বিশেষ সচেতনতার প্রয়োজন।

খোলা ম্যানহোল বৃষ্টি পড়লেই হয়ে ওঠে মৃত্যুকূপ ; Image Source: opposingview.com

রাইডের সময় সামনের দূরের দিকে খেয়াল রাখুন, যদি এমন সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়ে, ভালোভাবে খেয়াল করুন তা এড়িয়ে যাবার মত পর্যাপ্ত জায়গা আছে কিনা।

যদি না থাকে কিংবা মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে, তাহলে ব্রেক চাপতে দেরী করবেন না, গতি কমান অতি দ্রুত। কোন রকম ঝুকিপূর্ণ আক্রমণাত্মক ড্রাইভে যাবেন না এমন সিচুয়েশনে।

পুনশ্চ, যদি কোন কারণে ড্রাইভিং এর লাইন বদলে ফেলতে হয় অথবা ঘাস কাঁদার রাস্তায় নামতে হয়, তাহলে হাতকে রিলাক্সড মুডে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এমন রাস্তা শক্ত হাত করে রাখলে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর বাইকও খুব বেশি নড়াচড়ার প্রয়োজন নেই এ ধরণের রাস্তা পার হওয়ার সময়, যত বেশি সম্ভব একই রাস্তায় থাকার চেষ্টা করা উচিৎ।

শুকনো রাস্তা খুঁজে বের করুন

একটা রাস্তার পুরোটা ভেজা বা কর্দমাক্ত থাকে না। সাধারণত রাস্তার যে অংশ উঁচু তাতে বৃষ্টির পানি জমে না এবং বৃষ্টি শেষেই পানি শুকিয়ে যায় অন্যান্য অংশের তুলনায়। রাইডে বের হলে শুকনো রাস্তাটুকুকে বেশী গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করুন।

ভেজা ও কর্দমাক্ত রাস্তায় মোটরসাইকেল রাইডিং যেমন রাইডকে করে তোলে অনিরাপদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি মোটরসাইকেলের চাকায় ও অন্যান্য স্থানে ময়লাও জমে অতিদ্রুত।

তাই রাস্তার শুকনো অংশে ধারাবাহিক ভাবে মোটরসাইকেল চালানো প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন।

সময় এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাইডিং টিপসগুলো কাজে লাগালে আশা করা যায়, আপনিও হয়ে উঠবেন রাইডিং এক্সপার্ট এবং উপভোগ করতে শুরু করবেন বৃষ্টিতে রাজপথের পিচ কেটে দুর্বার গতিতে ছুটে চলা অজানার উদ্দেশ্য, হয়তো দূরে কোথায়, যেখানে রঙধনু আকাশ মিশেছে বৃষ্টির সেঁদো গন্ধওয়ালা মাটিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *