in ,

জুলাই থেকেই বাড়ছে মোটরসাইকেলের দাম, বাড়বে রেজিষ্ট্রেশনের খরচ!

নতুন অর্থবছর ২০১৯-২০ এর বাজেট অনুযায়ী, জুলাই মাসের ১ তারিখ হতে নতুন ভ্যাট আইন এবং মূল্য সংযোজন কর চালু হতে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১৩ জুন, ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ কালে এ ঘোষণা দেন।

নতুন বাজেট জুলাই এর ১ তারিখ থেকে কার্যকর হচ্ছে, অর্থাৎ নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় থাকা সকল পণ্যের দাম বাড়বে বা কমবে এ মাস থেকেই৷

মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নতুন মূল্য সংযোজন কর – মূসক (Value Added Tax – VAT) প্রস্তাব কার্যকরের ফলে দাম বেড়েছে মোটরসাইকেলের

হিসেব করে দেখা গেছে, কম দামী মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নতুন মূসক হারের ফলে দাম নুন্যতম চার হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অন্যদিকে দামী মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে দাম বেশি হতে পারে একুশ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আর মোটরসাইকেলের দাম বাড়লে যে তার সাথে সাথে বিআরটিএ (BRTA) কর্তৃক মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি – বাড়বে, সে তো অনুমেয়ই।

কিভাবে বাড়ছে?

২০১৯-২০ সালের নতুন বাজেটে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সকল পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো বলছে, মোটরসাইকেলের পরিবেশকেরা এর আওতায় পড়বেন।

৫% ভ্যাট বাড়াতেই বাড়ছে মোটরসাইকেলের দাম ; Image Source: forthcapital.com

এখন পরিবেশকদের কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আগে থেকেই আছে। কিন্তু নতুন বাজেটে কমিশনের বদলে মোটরসাইকেলের পুরো মূল্যের ওপর ভ্যাট বসবে, ফলে এ ভ্যাট দিতে হবে সরাসরি মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে, যা দাম বাড়িয়ে দেবে, যেহেতু মোটরসাইকেলের দাম নির্ধারণ থাকে তাদের হাতেই৷

মোটরসাইকেলের দাম বাড়ার নির্দিষ্ট কারণগুলো

*নতুন ভ্যাট আইনের কারণে দাম ৪ থেকে ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে

*নিবন্ধন ব্যয় বাড়বে ১ হাজার টাকা

*নতুন বাজেটে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে ৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে

*নিবন্ধন ও মালিকানা পরিবর্তনে সম্পূরক শুল্ক বসেছে ১০ শতাংশ।

*নতুন বাজেটে কমিশনের বদলে মোটরসাইকেলের পুরো মূল্যের ওপর ভ্যাট বসবে, যা দাম বাড়িয়ে দেয়ার মূল কারণ।

আগে যেভাবে কম ছিল

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মোটরসাইকেল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেন। এতে সিসিভেদে (ইঞ্জিনের ক্ষমতা) মোটরসাইকেলের দাম ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কমে যায়।

তিন বছর আগের বাজেটই ছিল দেশে বাজার বৃদ্ধির কারণ ; Image Source: youtube.com

ফলশ্রুতিতে মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো দেশে মোটরসাইকেল কারখানা করেছে অনেক। শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় সব মিলিয়ে মোটরসাইকেলের দামও বেশ কমেছে। দেশে মোটরসাইকেলের বাজারও বড় হওয়ার পেছনে বাজেটে সে সিদ্ধান্তের প্রভাব ভীষণরকম, তা বলাই যায়।

কোম্পানিগুলোর হিসাবে, ২০১৮ সালে মোটরসাইকেল বিক্রিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। ওই বছর বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মোটরসাইকেল।

নতুন বাজেটে মূল্যবৃদ্ধির যে প্রভাব পড়তে পারে

বিভিন্ন অর্থনীতিবিদের মতে, বাজারে কম মূল্যের পণ্যের ক্ষেত্রে সংকুচিত হারে ভ্যাট সুবিধাজনক হলেও মোটরসাইকেলের মতো উচ্চ মূল্যযুক্ত পণ্যের জন্য সুবিধাজনক নয়। এটা বাজারে দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। পাশাপাশি ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাজারে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব ; Image Source: theverge.com

মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের সংগঠনের দুই নেতা সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য রেয়াতের সুযোগ রেখে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদানের প্রচলিত পদ্ধতি বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হলে তা সরকার, ক্রেতা, বিক্রেতা তিন পক্ষের জন্যই মঙ্গল।

বাড়বে রেজিষ্ট্রেশন খরচও

মোটরসাইকেলের দাম কমলে বিআরটিএ মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশন খরচ না কমালেও, বাড়ালে তাদের নিবন্ধন ফি বাড়াতে তেমন দেরী করে না। তবে এবারের মূল্য বৃদ্ধি বাজেট আইনের সাথে যুক্তিযুক্ত।

বাড়বে বিআরটিএ’র রেজিষ্ট্রেশন খরচও ; Image Source: daily-sun.com

বাজেটে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, তিন চাকার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুল বাস ছাড়া সব ধরণের গাড়ির নিবন্ধন, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ গ্রহণ ও নবায়নকালে পরিশোধিত ফি’র ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়, যা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এই আওতায় মোটরসাইকেলও পড়েছে।

বাড়ার ফলে রেজিষ্ট্রেশন ফি কত হচ্ছে? 

*নিবন্ধন মাসুল ছয় হাজার চারশত চল্লিশ টাকা

*ডিজিটাল নিবন্ধন সনদ পাঁচশত পঞ্চান্ন টাকা।

*নম্বরপ্লেট দুই হাজার দুইশত ষাট টাকা।

*পরিদর্শন মাশুল পাঁচশত আঠারো টাকা

*সড়ক কর বা রোড ট্যাক্স এগারো হাজার পাঁচশত টাকা

অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১০০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি মোট একুশ হাজার দুই শত তিয়াত্তর টাকা পড়বে।

প্রতিক্রিয়া

একটি কোম্পানি তাদের একটি মোটরসাইকেলের সর্বনিম্ন দামের উদাহরণ দিয়ে জানায়, এখন তারা একজন পরিবেশককে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা কমিশন দেয়। এ কমিশনের ওপর পনেরো শতাংশ হার ধরে ভ্যাট আসে সাতশত সতেরো টাকা। নতুন আইনে সরবরাহ মূল্যের ওপর ভ্যাট আরোপ হবে। এতে সাড়ে একানব্বই  হাজার টাকা সরবরাহ মূল্যের একটি মোটরসাইকেলে পাঁচ শতাংশ হারে ভ্যাট আসবে চার হাজার সাতশত টাকা। ফলে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রায় চার হাজার টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ মূল্যের একটি মোটরসাইকেলের দাম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা, যেখানে বাড়তি ভ্যাট আসতে পারে প্রায় একুশ হাজার টাকা।

শাহ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান যিনি বাংলাদেশ হোন্ডা লিমিটেডের (Bangladesh Honda Limited – BHL) দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, সব মিলিয়ে নতুন করের কারণে এক হাজার টাকার মতো খরচ বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল যখন দেড় লাখ টাকার মতো দাম ছিল, তখন নিবন্ধন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল মোট দামের তেরো শতাংশের মতো। এখন মোটরসাইকেলের দাম কমে লাখ টাকার নিচে নামায় নিবন্ধন ব্যয় মোট দামের বাইশ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।”

এটি কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

দেশে অনেক মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত অবস্থায় চালানো হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, ব্যয় বেশি বলেই গ্রাহকেরা নিবন্ধনে আগ্রহ দেখান না। বিশেষ করে, গ্রামে নিবন্ধনহীন অনেক মোটরসাইকেল চলে।

নিবন্ধন এবং মোটরসাইকেলের ওপর কর কমিয়ে যদি নিবন্ধন করতে ক্রেতাদের উৎসাহ দেয়া যায়, তাহলে নিবন্ধনহীন অবৈধ মোটরসাইকেল চালানো যেমন কমবে, তেমনি বাড়বে সরকারের আয়ও, এমনটাই মনে করেন, মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিধিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *