in ,

মোটরসাইকেলের হেডলাইট আপগ্রেড এবং মোডিফিকেশন

স্ট্রিট মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেডলাইট ফিচারটি দেশে প্রচলিত আইন অনুসারেই বাধ্যতামূলক ফিচার। রাস্তায় চলা যে কোন টু-হুইলারের সামনে এবং পেছনে হেডল্যাম্প সিস্টেম রাখতে বলা আছে যানবাহন নীতিমালায়, যার উদ্দেশ্য একই সাথে নিজে দেখা এবং রাস্তায় চলা অন্যদের কাছে নিজের অবস্থান দৃশ্যমান করা রাতের বেলায়। তাই মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলোর স্ট্রিট বাইক ডিজাইনে স্টক হিসেবেই হেডলাইট থাকে।

রাতের বেলায় মোটরসাইকেল হেডলাইট জরুরী ; Image Source: pinterest.com

কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে স্টক হেডলাইট সবসময় সব ধরণের পরিস্থিতিতে প্রয়োজন মেটাতে পারে না। এমন ভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হেডলাইট আপগ্রেড এবং মোডিফিকেশনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

আর্টিকেলটিতে মোটরসাইকেল হেডলাইট সিস্টেম – হেডল্যাম্প আপগ্রেড এবং অক্সিলারি লাইট নিয়ে আলোচনা করা হবে।

স্টক হেডলাইট

যেহেতু দেশে প্রচলিত আইনে স্ট্রিট মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেডলাইট সিস্টেম থাকা বাধ্যতামূলক, তাই স্ট্রিট মোটরসাইকেলের ডিজাইনে স্টক হেডলাইট থাকেই। এমনকি মাউন্টেন বাইক বা প্রতিকূল রাস্তায় চলার উপযোগী মোটরসাইকেলও স্টক হেডল্যাম্প সিস্টেম রেখে ডিজাইন করা হয়।

মোটরসাইকেল স্টক হেডলাইট ; Image Source: ridingobseason.com

সাধারণত রাস্তায় চলার জন্য স্টক হেডলাইট যথেষ্ট। কিন্তু অন্যান্য পরিস্থিতিতে যেমন পাহাড়ী ট্রেইল রাইড করতে গেলে, হাইওয়েতে এবং চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় রাইড করতে লাইটিং সিস্টেম উন্নত হওয়া জরুরী৷ আর সেজন্যই প্রয়োজন হয় আপগ্রেড এবং মোডিফিকেশন।

যেসব আপগ্রেড করা যেতে পারে

আগেই বলেছি, বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই স্টক হেডলাইট সাধারণ রাইডের জন্য যথেষ্ট। তবে ভিন্ন ভিন্ন রাইডের জন্য বিভিন্ন রকম আপগ্রেডের প্রয়োজন হতে পারে।

মোটরসাইকেলের হেডলাইট সিস্টেম আপগ্রেডের অনেক অপশন রয়েছে। বর্তমানে মার্কেটে অনেক ধরনের হেডলাইট রয়েছে। আপনি চাইলে স্টক হেডল্যাম্পের বদলে হাই-টেক ল্যাম্পস অথবা অক্সলিয়িয়ারি হেড লাইট নিতে পারেন।

অক্সিলিয়ারি হেডলাইট ; Image Source: twistedthrottle.com

অনেক সময় স্টক হেড লাইট এর পরির্বতে নতুন হাইটেক লাইট রিপ্লেস এর জন্য সার্কিটে পরির্বতন আনা প্রয়োজন হয়। স্টক লাইট রিপ্লেসের জন্য হাউজিং,ব্যাটারি, ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটের মডিফিকেশনের মাধ্যমে করা হয়। এছাড়াও বলা যায় এটি আলাদা ভাবে স্টক ফিচারের কারনে পরিবর্তিতে সহজে অন্য লাইট লাগানো খুবই সহজ,সাশ্রয়ী ও ঝামেলা মুক্ত।

স্টক লাইটের রিপ্লেসমেন্ট

হ্যালোজেন ও অসরাম লাইট রিপ্লেসমেন্টের জন্য সবচেয়ে সহজ ও আপগ্রেডের জন্য উপযোগী। এদের বাল্ব পাওয়ার একই থাকে কিন্তু ইলুমিনেশন পাওয়ার বাড়তে থাকে যাতে করে ভিসিবিলিটি ইনশিওর করতে পারে। আর সবচেয়ে লাভজনক বিষয় হলো স্টক হাউজিং এর জন্য কোনো মোডিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

এলইডি হেডলাইট ; Image Source: dhgate.com

কিন্তু যখন আপনি এলইডি,এইচআইডি অথবা প্রোজেকশন ল্যাম্পের ইন্সটল করবেন বা করতে চাইবেন তখন তার জন্য অবশ্যই মডিফিকেশনের দরকার। এছাড়াও এই লাইট গুলো হিট উৎপন্ন করে থাকে এবং অনেক বেশি পাওয়ার কনজিউমিং। যার কারনে ব্যাটারি কে আরো দ্রুত ড্রেইন করে ও প্রচুর হিট উৎপন্ন করে সহায়তা। তাই এই ধরনের লাইটের জন্য মাঝে মাঝে ইলেক্ট্রিক্যাল সিস্টেম আপগ্রেড করা প্রয়োজন হয় ।

মোটরসাইকেলের অক্সিলিয়ারি লাইট

অক্সলিয়ারি লাইটের পুরো বিশ্বে জনপ্রিয় এবং সহজে ব্যবহার করা যায় । আর এর পারফরমেন্সও চমৎকার। হাই-পারফরমেন্স অক্সলিয়ারি খুব সহজ সার্কিটের মাধ্যমে ইন্সটল করা যায়। আর সেগুলো বিভিন্ন ধরন ও ইলুমিনেশন (লুমেন) পাওয়ার এর পাওয়া যায়। আর তাই আপনি চাইলে আপনার মোটরসাইকেল ধরন এবং ক্যাপাসিটি অনুযায়ী হেড লাইট ইন্সটল করে নিতে পারেন।

এখানে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো স্টক লাইটের কোনো পরিবর্তন করা হয় না এবং স্টক লাইট স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় ব্যবহার করা যায়। তাই অক্সিলারি লাইট শুধু তখন ই ব্যবহার করতে পারবেন যখন কোন পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে না। যে মোটরসাইকেলে এসি সিস্টেমের তাদের জন্য সর্বোত্তম হলো অক্সলিয়িয়ারি লাইট ব্যবহার করা।

মোটরসাইকেল অক্সিলিয়ারি – এলইডি, ডিআরএল, ফ্লাশার, এএইচও

এলইডি ডিআরএল হলো ডে টাইম রানিং লাইট যা একটি নিরাপদজনক ফিচার। বর্তমানে আধুনিক মোটরসাইকেলে এলইডি লাইট যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারের মধ্যে হচ্ছে বাইকের ভিজিবিলিটি বাড়ানো,যাতে করে দিনের বেলা বা রাতের বেলা একে অপরকে দেখতে পায়। তাছাড়া কিছু মোটরসাইকেলে শার্প এলইডি ফ্ল্যাশার নিয়ে এসেছে যা কিনা ইন্ডিকেটর বা ব্রেক লাইটে রূপান্তর করে।

এএইচও মানে অটোমেটিক হেডলাইট অন আরো একটি নিরাপদ ফিচার। যা কিনা বর্তমানে অনেক দেশে বহুল ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা কোনো এক্সট্রা লাইটিং ব্যবস্থা ছাড়া মোটরসাইকেলকে ভিজিবল করে যা কিনা রেগুলার হেডলাইট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে সকল মোটরসাইকেল এই সকল ফিচার নিয়ে তৈরি করা হয়। অথবা যদি অপশন থেকে থাকে তবে সেই অল্টারনেটিভ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যেসব মোটরসাইকেলগুলোতে এ ধরণের লাইট সিস্টেম নেই তাদের লাইটিং সিস্টেম আপডেট করা যায়।

মোটরসাইকেল অক্সিলিয়ারি ফগ লাইট

সাধারণত ফগ লাইট অক্সিলিয়ারি সিস্টেমের লাইট যা পাওয়ারফুল ইয়োলিশ বিমের জন্য জনপ্রিয়। এটা কুয়াশা, বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় মোটরসাইকেলের ভিজিবিলিটি বাড়িয়ে দেয়।এটি খারাপ সারফেসও কন্ট্রাস্ট করতে পারে এবং যে ফ্লোরোসেন্ট ভিজিবল করতে পারে না কিন্তু অমিট করতে পারে।

অক্সিলিয়ারি ফগ লাইট ; Image Source: dhgate.com


রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সামনে কোনো গাড়ি দূর থেকে আসছে এই ফগ লাইটের মাধ্যমে তার ভিজিবিলিটি বাড়িয়ে দেয়। যাতে করে অন্য পাশ থেকে আশা গাড়ি বা মোটরসাইকেল তার অবস্থান দেখতে ও বুঝতে পারে। সুতরাং খারাপ আবহওয়ায় বা রাস্তায় যারা রাইড করে থাকেন, তাদের অবশ্যই নিজে এবং রাস্তায় চলা অন্যদের নিরাপত্তার জন্য ফগ লাইট ব্যবহার করা উচিত।

দৃশ্যমান হওয়া নিশ্চিত করুন

মোটরসাইকেল হেডলাইট মূলত ব্যবহৃত হয় রাইডারকে সামনের রাস্তা, অন্যান্য বস্তু এবং বিপরীত দিক থেকে আসা চলমান যানবাহনসহ চলার পথের সবকিছুই দৃশ্যমান করতে, যাতে নিরাপদে রাইড করা যায়, কোন বাধাবিঘ্ন ছাড়াই। তবে রাইডারের শুধু নিজে দেখলেই হবে না বরং অন্যান্য যানবাহন চালক এবং পথচারীর কাছে যাতে সে দৃশ্যমান থাকে, তাও নিশ্চিত করতে হবে। আর দূর্গম এলাকায় রাইড করতে হলে তা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

তাই যখন আমরা হেডলাইট আনপ্লাগ করেই ফেলবো, এর আপগ্রেড এবং মোডিফিকেশনে আমাদের এই বিষয়গুলো মনে রাখা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *