in

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল দশটি প্রমোদতরী

আগেকার দিনের রাজা সম্রাট জমিদারদের বিলাসিতার অন্যতম জায়গা ছিল প্রমোদ তরীতে করে ঘুরে বেড়ানো। সেসব প্রমোদ তরীতে থাকতো বিলাসিতার প্রায় সব রকমের উপাদান। রাজা রাজড়াদের সময় গত হয়েছে বহুদিন, তবে বদলে যায়নি সব।

এখনো সেইসব রাজকীয় পরিবারের সদস্যরা যারা টিকে আছেন, রাজ্য কমেছে তাদের, কমেছে রাজকীয় ক্ষমতাও, তবে বিলাসিতায় তারা ছাড়িয়ে গেছেন পূর্বপুরুষদের, এতো বেশিই যে রাজকীয় পূর্বপুরুষরাও চোখ ভড়কে বসে যেত হয়তো।

আর তাদের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন সম্পদশালী ব্যাক্তিরাও তালিকায় চলে এসেছেন, যাদের সম্পদের পরিমাণ রাজা রাজড়া তো বটেই, কোন কোন দেশের মোট সম্পদেরও কয়েক গুণ বেশি৷

বিলাসবহুল জেট প্লেন আর বিলাসবহুল প্রমোদতরী বা ক্রুজ/ইয়ট যাই বলি না কেন, এসবই যেন বিশ্বসেরা সম্পদশালী ব্যাক্তিদের প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছে।

আজকের লেখাও আমরা সাজিয়েছি বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল প্রমোদতরীগুলো নিয়েই। প্রমোদতরীগুলো তৈরী হয়েছে সকল সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা দিয়ে আর বিলাসিতার সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে তো নিঃসন্দেহে।

ক্রুজগুলো মূলত সাজানো হয়েছে মালিকদের চাহিদা এবং ইচ্ছা অনুযায়ী, তাই এসব ইয়েটে হেলিপ্যাড যেমন দেখা যায়, তেমনি পাওয়া যায় ভেতরে সুইমিং পুলও। আর ভেতরে থাকা বিলাসবহুল আসবাবপত্র তো আছেই।

চলুন দেখে নেয়া যাক সেরা সব ইয়টগুলো,

সেভেন সি’স (Seven Seas)

২০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে সেভেন সি’স শুধু একটি ইয়টই না, এটি সৌন্দর্যের প্রতিশব্দ।

সেভেন সিস ; Image Source: beam.land

২০১০ সালে এলব্লাসারডাম, নেদারল্যান্ডসের ওসিয়ানকোতে এটি নির্মাণ করা হয়। জাহাজের বাইরে এবং ভেতরের অসাধারণ ডিজাইন করেছেন ইঞ্জিনিয়ার ন্যুভোলারি এবং লিনার্ড।

সেভেন সিস ; Image Source: marinetraffic.com

জাহাজটি ২৮২.১৫ ফিট লম্বা এবং নিজের ওজন সহ মোট ২৭৫০ টন ভর নিয়ে ভেসে চলতে সক্ষম। জাহাজটিতে ২০১৬ সালে আরো কিছু সংযুক্ত করা হয় এবং এই রিফিটিং এর কাজ করে এমিকো এন্ড কো লিমিটেড।

সেভেন সিস ; Image Source: charterworld.com

সেভেন সিসের বাহিরের দিক সুপারস্ট্রাকচার করা হয়েছে এলুমিনিয়ামের সাথে ইস্পাতের কাঠামো করে যার নোঙর প্রায় ১৪ মিটার। জাহাজটি সর্বোচ্চ ২০ নটিক্যাল বেগে ছুটতে পারে, তবে সাধারণত গড়ে ১৫ নটিক্যাল বেগে চলে জাহাজটি৷

সেভেন সিস ৭ টি কেবিনে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে চলে, আর সাথে জাহাজের ২৩ জন ক্রু মেম্বার তো রয়েছেই যারা আপনাকে সারাজীবন মনে রাখার মত একটি ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।

অক্টোপাস (Octopus)

অক্টোপাস মোটর ইয়ট মূলত একটি বড় ধরণের নৌকা যার সাবেক মালিক ব্যবসায়ী, ধনকুবের এবং বিশ্বপ্রেমিক পল গার্ডনার।

অক্টোপাস ; Image Source: charterworld.com

এটি ব্যাংকে ২০০ মিলিয়ন ডলারে ভল্টেড করা হয়। ইয়টটি লিজ দেয়া টাকা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, উদ্ধার এবং আবিষ্কার অভিজানে ব্যায় করা হচ্ছে। জার্মানির লার্সেন শিপইয়ার্ডে ইয়টটি প্রথম নির্মাণ করা হয় ২০০৩ সালে।

অক্টোপাস ; Image Source: marinetraffic.com

ইয়টটির মসৃণ এবং চকচকে বাইরের দিকটা ডিজাইন করেছেন এসপেন অনিও নেভাল আর্কিটেক্ট। আর ব্যায়বহুল অভ্যন্তর ভাগ ডিজাইন করেছেন আমেরিকার সিয়াটেলের ডিজাইনার জোনাথন কুইন বার্নেট।

অক্টোপাস ইন্টেরিয়র ; Image Source: flauminc.com

ইয়টটিতে একটি বিশাল স্টাডি, বাস্কেটবল কোর্ট, রেকর্ডিং স্টুডিও রয়েছে। বাইরের দিকে একটি বার আছে যা ঘুর্নায়মান।

চার জন অতিথির জন্য আলাদা কক্ষ, বাচ্চাদের খেলার জায়গা এবং দুই কেবিনের একটি ছোট হাসপাতালও রাখা হয়েছে।

অক্টোপাস ইন্টেরিয়র ; Image Source: jqbdesign.com

অক্টোপাস ডিজেলের আটটা ইন্জিন দিয়ে মোট ১৯২০০ হর্সপাওয়ার শক্তিতে চলে। দুটি প্রপেলার প্রমোদতরীটিকে ২০ নট বেগে ছোটায়। ইয়টটি দৈর্ঘ্যে ১২৬.২ মিটার, ২১ বিমের তৈরী অক্টোপাস ৯৯৩২ টন ওজন নিয়ে ভাসতে সক্ষম।

২৬ জন যাত্রীর ঘুমোনোর জায়গার সাথে সবসময় ৫৬ জন ক্রু নিয়ে ইয়েটটি চলাচল করে। গুগোল আর্থের প্রজেক্ট ‘এক্সপ্লোর প্রজেক্ট’ এর অর্থায়ন এই ইয়টের টাকা থেকেই হয়।

আল মিরকাব (Al Mirqab)

কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামাদ বিন জসিম বিন জাবের আল থানির জন্য ইয়টটি নির্মান করা হয় জার্মানীতে। ২০০৮ সালে নির্মিত ইয়টটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইয়ট এবং দ্বিতীয়তম সুন্দর ইয়ট বলে তুলনা করা হয়।

আল মিরকাব ; Image Source: yachtcharterfleet.com

দশটি বিলাসবহুল স্যুটসমেত ইয়টটিতে ২৪ জন অতিথির জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিজনের জন্য আলাদা বাথরুম, লিভিং রুম এবং ডাবল বেডরুম রয়েছে।

আল মিরকাব ইন্টেরিয়র ; Image Source: emirates-dubai.locanto.ae

ইয়টটি সৌভাগ্যবান মালিকের জন্য রাখা হয়েছে দুইটি আলাদা ভিআইপি রুম। এছাড়া ৫৫ জন ক্রু মেম্বারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা তো রয়েছেই৷

আল মিরকাব সুপারইয়টে একটি সিনেমা হল এবং সানডেকও আছে।

দিলবার (Dilbar)

দিলবার সুপারইয়ট, ২০০৮ সালে লার্সেন ইয়ট দ্বারা নির্মিত। ২৫৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইয়টটির মালিক রাশিয়ান নেতা আলিশার উসমানভ। ইয়টটি তার মায়ের নামে নামকরণ করা হয়।

দিলবার ; Image Source: yachtharbour.com

৩৬০.৮৯ ফিট দৈর্ঘ্যের ইয়টটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রমোদতরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইয়টের মালিক তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন দ্বীপগুলোয় যাতায়াত করতে এটি ব্যবহার করেন।

দিলবার ইন্টেরিয়র ; Image Source: youtube.com

ইয়টটিতে একটি অত্যাধুনিক সুইমিংপুলের পাশাপাশি হ্যালিপ্যাডও রাখা হয়েছে৷

সব বিলাসবহুল সুযোগসুবিধা সম্বলিত ইয়টটিতে ২০ জন অতিথির সাথে ৪৮ জন ক্রু মেম্বার যাতায়াত করতে পারে।

আল সাঈদ (Al Said)

লার্সেন ইয়ট শিপইয়ার্ড এই বিলাসবহুল ইয়টটিরও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। মালিক কাবুস বিন সাঈদ আল সাঈদের নামানুসারেই ইয়টটির নামকরণ করা হয়েছে৷

আল সাঈদ ; Image Source: superyacht.com

৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইয়টটি সম্পর্কে খুব একটা বিশদভাবে জানা না গেলেও এতে একটি বিশাল কনসার্ট হল রয়েছে যাতে ৫০ পিস অর্কেস্ট্রার সমন্বয়।

আল সাঈদ ; Image Source: thehumblerich.com

২০০৭-০৮ সালের নির্মানকালীন সময়ে এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইয়ট যাতে ১৫৪ জন ক্রু মেম্বারের সাথে ৭০ জন অতিথির সুব্যবস্থা রয়েছে।

রেডিয়েন্ট (Radiant)

৩২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল মোটর নৌযানটি ২০০৮ সালে লার্সেন নির্মান করে যার মালিক এমিরেটস মিলিয়নিয়ার আব্দুল্লাহ আল ফুত্তাইম।

রেডিয়েন্ট ; Image Source: superyachtfan.com

১১০ মিটার লম্বা রেডিয়েন্টে ১৫ মিটারের বিম ব্যবহার করা হয়েছে। নিজস্ব ভর সহ মোট ৫০২৭ টন ওজন নিয়ে ভাসতে সক্ষম।

রেডিয়েন্ট ; Image Source: yachtharbour.com

ইন্জিনটি ৮৭১৫ হর্সপাওয়ারের এমটিউ, ১৬ভি ১১৬৩ টিবি৭৩এল। সর্বোচ্চ ২১ নটিক্যাল বেগে ছুটতে পারা জাহাজটির ফুয়েল ধারণক্ষমতা ৯৬০০০ গ্যালন।

৪৪ জন ক্রু মেম্বার রয়েছে জাহাজটিতে, ২০ জন অতিথি একসাথে যাত্রা করতে পারে রেডিয়েন্টে৷

টোপাজ (Topaz)

২০১২ তে জার্মানীর লার্সেন ইয়টে নির্মিত সুপারইয়ট টোপাজের অর্থমূল্য ৫২৭ মিলিয়ন ডলার। বাইরে ডিজাইন করেছে দ্য হলিউড এবং টেরেন্স ডিসপেল ডিজাইন করেছে ভেতরের ডিজাইন।

টোপাজ ; Image Source: pinterest.com

৪৮২ ফিট লম্বা ইয়টটিতে ৭০.৫ ফিট লম্বা বিম রয়েছে, নিজের ওজন সহ ইয়টটির মোট বহনক্ষমতা ১১,৫৮৯ টন। ৭৯৯০ এইচপি ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্জিনটি ২২.৯ নটিক্যাল বেগে চলে এবং সর্বোচ্চ ২৫.৫ নটিক্যাল পর্যন্ত তুলতে সক্ষম।

টোপাজ ইন্টেরিয়র ; Image Source: boydforcongress.com

টোপাজের ভেতরে দুইটি ডিজেল চালিত জেনারেটর রাখা হয়েছে যা ইয়টটি চলা কালীন ভেতরের সকল প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক শক্তির যোগান দেয় এবং নেভিগেশন সিস্টেমের কাজ চালায়।

টোপাজ ; Image Source: youtube.com

আটটি চোখ ঝলসে দেয়া চমৎকার ডেকে আট রকমের ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতাসহ ইয়টটির কাঠামোতে থাকা ইস্পাত সরিয়ে বসানো এলুমিনিয়ামের গঠন সৌন্দর্যের কিঞ্চিৎই বর্ণনা দেয়।

এতে একটি বিল্ট ইন সুইমিং পুলসহ সুইমিং ডেক রাখা আছে। ইয়টটি পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আন্ডারওয়াটার লাইটও দেয় যখন এটি বের হয়। দুটি হেলিকপ্টার নামতে পারে এমন একটি ডাবল হ্যালিপ্যাড রয়েছে, রয়েছে আর্ট জিমনেসিয়াম, সিনেমা হল এবং একটি বিশাল কনফারেন্স রুম।

এমন একটি চমৎকার ইয়টের মালিক কে হতে পারে, অনুমান করুন তো? হ্যাঁ, মধ্যপ্রাচ্যেরই কোন ধনকুবেরই, ইউনাইটেড আরব এমিরেটসের সহাকারী প্রধান মন্ত্রী শেইখ মনসুর, একই সাথে তিনি ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মালিক এবং সৌদি রাজ পরিবারের সদস্য।

আজম (Azzam)

লার্সেন ইয়ট এই জাহাজটি নির্মাণের সাথেও জড়িত যা অতি সম্প্রতি আরব এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির আমির শেইখ খলিফা বিন জায়েদ আল নয়নের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি নির্মাণে খরচ পড়েছে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার।

আজম ; Image Source: cnn.com

আজমকে বলা হয় বিশ্বের চতুর্থ ব্যয়বহুল ইয়ট, জাহাজটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লার্সেন দাবী করে, তাদের তৈরী করা জাহাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল ডিজাইন ছিল এটি এবং তাদের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ এটা।

আজম ইন্টেরিয়র ; Image Source: newarena.com

শুধু বিশাল দামের সিলই নয়, জাহাজটিতে রয়েছে অপরিমেয় জায়গা, প্রায় ৫৯০ ফুট লম্বা জাহাজটি রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার রোমান আব্রামোভিচের ইপিক্লিপস আসার আগে পর্যন্ত দীর্ঘতম ছিল পুরো বিশ্বে৷

আজম ইন্টেরিয়র ; Image Source: gq-magazine.co.uk

এই চমৎকার ইয়টটি বিশ্বের দ্রুততম গতির জাহাজগুলোর একটি, প্রায় ৩০ নটিক্যাল বেগে চলে অথবা সহজ ভাষায় প্রায় ৩৫ মাইল প্রতি ঘন্টায়৷

বিলাসবহুল অভ্যন্তরভাগের নকশা করেছেন ফ্রান্সের ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর ক্রিস্টোফ লিওনি, নকশাটিকে অভিহিত করা হয়, ‘বাস্তব ধর্মী এবং বিলাসবহুলতা শতাব্দীর সেরা সাম্রাজ্যীয় স্টাইল!’

তবে শেষ কথা হচ্ছে বিশ্বের বিলিয়নিয়াররা ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বড় ইয়টের মালিক হওয়ার দিকে ঝুঁকছে, ব্যাপারটা এমন যেন এটিই তাদের মাপার স্কেল। তাই আজম কতদিন পর্যন্ত তার স্থান ধরে রাখতে পারবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এক্লিপস (Eclipse)

রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার রোমান আব্রামোভিচ এক্লিপসের গর্বিত মালিক। গুজব আছে এর পেছনে রাশিয়ান ধনকুবের ৮০০ মিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।

এক্লিপস ; Image Source: businessinsider.com

৫৩৬ ফিট লম্বা ইয়টটি নির্মাণ করেছে হ্যামবার্গের ব্লোম এন্ড ভস। পর্যাপ্ত জায়গা ভেতরে থাকায় সুযোগ সুবিধারও কোন কমতি রাখা হয়নি ইয়টটিতে। ২৪ টি গেস্ট রুম, দুটো সুইমিং পুল, বেশ কয়েকটি হট টাব, একটি ডিসকো হলের সাথে দুটো হেলিকপ্টার প্যাডও রাখা হয়েছে৷

এক্লিপস ইন্টেরিয়র ; Image Source: pinterst.com

ইয়টটিতে থাকা তিনটি লন্চ বোট এবং একটি মিনি-সাবমেরিন পানির ৫০ মিটার নীচে পর্যন্ত নিয়ে ঘুরে আসতে সক্ষম।

এক্লিপস ইন্টেরিয়র ; Image Source: youtube.com

এছাড়া, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য এক্লিপসে অনধিকার প্রবেশে স্বচালিত সতর্কতা রয়েছে।

চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক রোমান আব্রামোভিচ ইয়টে নিজের মাস্টার বেডরুম এবং জাহাজের ব্রিজে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমও রেখেছে। জানালার কাঁচগুলোও করা হয়েছে বুলেটপ্রুফ।

পাপারাজ্জিদের উৎপাত কমাতে জাহাজের চারপাশে রাখা হয়েছে এক বিশেষ ধরণের ব্যবস্থা যা ক্যামেরা পেলেই তার উপরে আলো ফেলে ছবি তোলা থেকে বিরত রাখে৷ ৭০ জন ক্রু মেম্বার জাহাজটি পরিচালনায় সহায়তা করে৷

হিস্ট্রি সুপ্রিম (History Supreme)

অবশেষে তুলে ধরছি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যায়বহুল নৌযানটিকে। ১০০ ফুট লম্বা প্রমোদতরীটি ডিজাইন করেছে জগদ্বিখ্যাত বিলাসবহুল আমেরিকান ডিজাইনার স্টুয়ার্ট হগস।

হিস্ট্রি সুপ্রিম ; Image Source: youtube.com

ইয়টটি তৈরী করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে এবং তার পেছনে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন এমন একজন যিনি তার নাম প্রকাশ্যে আসতে দেন না, তবে গুজব রয়েছে তিনি একজন মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী।

হিস্ট্রি সুপ্রিম ইন্টেরিয়র ; Image Source: superyacht.com

আশ্চর্যজনক সত্য হচ্ছে এতে স্বর্ণ এবং প্লাটিনামের মত দামী ধাতু এতো বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যে শুধু এই ধাতুগুলোর ওজনই ১০০ কেজির ওপরে৷

হিস্ট্রি সুপ্রিম ইন্টেরিয়র ; Image Source: superyachts.com

বেস থেকে শুরু করে ডান পাশের বর্ডার পর্যন্ত জায়গাটুকু বিভাষিত করা হয়েছে স্বর্ণের আস্তরণ দিয়ে, এছাড়া বেডরুম, ডাইনিং রুম, ডেক, রেইলস, সিড়িতেও ব্যবহার করা হয়েছে খাঁটি সোনা৷

হিস্টি সুপ্রিম ইন্টেরিয়র ; Image Source: richglare.com

ইয়টটির সবচেয়ে বিষ্ময়কর দিক হচ্ছে এর মাস্টার বেডরুমটি, এর দেয়ালগুলো তোলা হয়েছে উল্কাপিণ্ড দিয়ে এবং একটি মুর্তি রাখা আছে যা টাইরানোসোরাস রেক্স (বিলুপ্ত ডাইনোসরদের ফসিল) দিয়ে তৈরী।

এছাড়া ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরী একটি ৬৮ কেজি ওজনের একটি একুরিয়ামও আছে যার দেয়াল একুয়াভিস্তা প্যানারমিক। একুরিয়ামটি মাস্টার বেডরুমের দেয়ালে সংযুক্ত করা আছে।

বোর্ড রুমে একটি বিশেষ ওয়াইনের বোতল রাখা হয়েছে যে বোতলে ১৮.৫ ডায়মন্ড ব্যবহার করা হয়েছে যার দাম প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ৫০০ কাট ডায়মন্ড দিয়ে আইফোন জড়ানো হয়েছে জাহাজের, জাহাজের সুইচ গুলো তৈরী করা হয়েছে ৭.৪ ক্যারেটের পিংক ডায়মন্ড।

এমন অনেক রকম ফিচার হিস্ট্রি সুপ্রিমে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আমাদের কল্পনারও সুদূর পরাহত। আর এসবই করে তুলেছে ইয়টটিকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *