in

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল দশটি ব্যক্তিগত জেট বিমান

আপনি কি কখনো ইকোনমি ক্লাস ফ্লাইটের সরু করিডোর দিয়ে হেঁটেছেন আপনার ছোট চাপা সিটটাতে পৌছানোর জন্য? যে সিটটাতে বসে ভ্রমণ আরামদায়ক নয় তবে শেষমেশ তা আপনাকে গন্তব্যে পৌছেই দেয় তুলনামূলক দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

সময়মত উইন্ডো সিটটাও মেলে না ইকোনমি ক্লাসে ; Image Source: gearhungry.com

বর্তমানে আকাশপথে ভ্রমণ অনেক বেশি আমাদের সাধ্যের মধ্যে, বিশেষত বড় এবং জনবহুল শহরগুলোর উপর দিয়ে যাত্রা করলে ট্রাফিকের কারণে যে সময়টা সড়কপথে নষ্ট হতো, তা সহজেই বাঁচিয়ে নেয়া যায়। আর চাহিদা বাড়ার কারণে এয়ারলাইনসগুলোও যতবেশি সম্ভব যাত্রী নেয়ার চেষ্টা করে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থেকে উচ্চ মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে।

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই এই আঁটোসাটো পরিবেশ নিয়ে তেমন আপত্তি করে না যাত্রা পথ কম হলে তবে দীর্ঘ যাত্রা পথে এই অবস্থা প্রায় দুঃস্বপ্নের মত।

এমন সময় আমাদের মন একরকম বিধ্বস্ত হয়ে যায় আর আমরা দিবাস্বপ্ন দেখতে শুরু করি একটা ব্যক্তিগত জেট প্লেন থাকার ব্যাপারে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের বেশিরভাগেরই একটা ব্যক্তিগত জেট প্লেন কেবল একটা স্বপ্নই। পা ছড়িয়ে বসার জন্য জায়গা পাওয়ার সমৃদ্ধি এবং কিছুটা প্রাইভেসি যারা আপনার সাথে যাচ্ছে যাত্রাসঙ্গী হয়ে তাদের থেকে, এসব কিছুই বিলাসিতার এক দিবাস্বপ্ন হয়ে আমাদের মাঝে থেকে যায় সারা জীবন।

আপনার কল্পনাকে সাহায্য করতে এবং আপনার দিবাস্বপ্নকে পরবর্তী ধাপে পৌছে দিতে আজ আমরা আলোচনা করবো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দশটি প্রাইভেট জেট নিয়ে, যা হয়তো আপনাকে ধারণা দেবে কত চমৎকার হতে পারে আকাশপথে ভ্রমণ,

এয়ারবাস ৩৮০ কাস্টম জেট (Airbus 380 Custom Jet)

এয়ারবাস ৩৮০ এর মত জেটের মালিক হতে গেলে আপনাকে বিশাল পকেটওয়ালা হতেই হবে, তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জেটটির মালিক একজন সৌদি রাজকুমার। এয়ারবাস ৩৮০ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি যাত্রী বহন ক্ষমতা সম্পন্ন এয়ারলাইনস ছিল তা জেটে রূপান্তরের পূর্বে, প্রায় ৮৫০ জন যাত্রী একসাথে যাত্রা করতে পারতো এয়ারলাইনসটিতে। তাহলে আপনি কল্পনা করতেই পারছেন ঠিক কত প্রয়োজন ছিল এটিকে একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানে রূপান্তরিত করতে।

এয়ারবাস ৩৮০ কাস্টম জেট ; Image Source: gearhungry.com

বিমানটিতে একটি ঘুর্ণন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রার্থনা ঘর রয়েছে যা সবসময়ই মক্কার দিকে মুখ করে থাকে। বিমানের ভেতরে প্রিন্সের গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজ তো বটেই, রয়েছে উট এবং ঘোড়া রাখার জন্য আলাদা আস্তাবল।

প্রিন্সের নিজস্ব সিংহাসন বসানো হয়েছে জেটের ভেতরে কনফারেন্স রুমে। আলাদা বোর্ড রুম এবং কনসার্ট হলও আছে জেটটিতে। আসবাবপত্র সংবলিত শয়নকক্ষ রয়েছে বেশ কয়েকটি, সাথে সকল ধরণের বিলাসবহুল জিনিসপত্র তো আছেই৷

সব ধরণের বিলাসী দ্রব্য জেটে থাকার পরও প্রিন্সের যাত্রাসঙ্গীরা যত বেশি ইচ্ছে সাথে নিতে পারে লাগেজ সেট, তাদের জন্যও রয়েছে সুব্যবস্থা।

প্লেনটির বর্তমান মূল্য হিসেব করলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাড়ায়, একে একটি উড়ন্ত প্রাসাদ হিসেবেই তুলনা করা যায়।

আপনি যদি কখনো এমন সৌভাগ্যবান হয়েই যান এই জেটে প্রিন্সের সাথে ভ্রমণের, অবশ্যই ট্রাভেল ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না, কারণ আপনি ‘হ্যাপি মোমেন্ট’ গুলো বন্দী করতেই চাইবেন।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ৫০০ মিলিয়ন ডলার

মালিক – প্রিন্স আল-ওয়ালেদ বিন তালাল, সৌদি আরব

ইন্জিন – ফোর এক্স ইন্জিন এলিয়েন্স জিপি৭২৭০

সর্বোচ্চ ওড়ার গতি – ১০৫০.৮৭ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – সর্বোচ্চ ১৫,৭০০ কিলোমিটার

কেবিন স্পেস – ৫৫০ বর্গ মিটার

বোয়িং ৭৪৭-৮ ভিআইপি (Boeing 747-8 VIP)

এই প্রাইভেট জেটটির অভ্যন্তরীণ নকশা অত্যাধিক আতিশয্যপূর্ণ। বিলাশবহুল বেডরুমের পাশাপাশি একটি পরিপূর্ণ মাস্টার স্যুট এমনকি অতিথিদের জন্য রাখা বেডরুমেও চাকচিক্যের কমতি নেই৷

বোয়িং ৭৪৭-৮ ভিআইপি ; Image Source: gearhungry.com

সব ধরণের সুযোগসুবিধা সম্বলিত বাথরুমগুলোর বেসিন গুলোও সোনার তৈরী।

লিভিং রুমগুলো সবধরণের আসবাবপত্রে পরিপূর্ণ, রয়েছে একটি প্রাইভেট অফিস, যেখানে আছে একটা বিশাল টেলিভিশন।

জেট প্লেনটির মালিক অন্যসব রুমগুলো ডিজাইনেও বিলাশিতার কমতি রাখেননি৷ বোয়িং ৭৪৭-৮ জেট প্লেনটির মালিক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে তার নাম প্রকাশ করেন না, সকল প্রকার সংস্কার করার পূর্বে প্লেনটি তিনি ১৫৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কেনেন।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ৬১৭ মিলিয়ন ডলার (আনুমানিক)

মালিক – অজানা

ইন্জিন – ৪ এক্স সেন্ট্রাল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স ২বি৬৭

সর্বোচ্চ গতি – ১০৪৪.৪৪ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১৩,৪৫০ কিলোমিটার

কেবিন স্পেস – ১৪৫৮ বর্গ মিটার

বোয়িং ৭৫৭ (Boeing 757)

এটিও আরেকটি বিশাল বানিজ্যিক বিমান ছিল যেটিকে সংস্কার করে প্রাইভেট জেটে রূপান্তরিত করা হয়েছে বিখ্যাত ধনীদের জন্য। প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেটটির মালিক। অবশ্য যখন তিনি জেট বিমানটি কেনেন, তখনো তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হননি৷

বোয়িং ৭৫৭ ; Image Source: gearhungry.com

বিমানটি যখন বানিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন করতো, তখন একসাথে ২৪০ জন যাত্রী নিয়ে উড়তো। কিন্তু ট্রাম্প মালিকানা নেয়ার পর সংস্কার করে এখানে ৪৩ জন যাত্রীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷

যথেষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে লাগেজ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নেয়ার জন্য, যার সদ্ব্যবহার ট্রাম্প পত্নী সঠিকভাবেই করে থাকেন নিয়মিত। এছাড়া ফ্লাইট এবং কেবিন ক্রুরাও তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সহজেই সাথে রাখতে পারেন৷ আবার এসব জিনিসপত্র রাখার জায়গাটাও চোখের সীমানার বাইরেই।

বাথরুমগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ স্বর্ণের ব্যবহার হয়েছে ট্রাম্প স্টাইলেই, এমনকি সিট বেল্টের বাকলস গুলোতেও ব্যবহৃত হয়েছে ২৪ ক্যারেটের সোনা৷

অন্যান্য সুযোগসুবিধার মধ্যে রয়েছে বিশাল স্ক্রিনের টেলিভিশন,. বেহিসেবী মাস্টার স্যুট এবং অন্যান্য রুমও৷ এ যেন বিলাসিতা এবং আরামদায়কতা একই সূত্রে গাঁথা।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ১০০ মিলিয়ন ডলার (সংস্কারের পূর্বে)

মালিক – ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইন্জিন – ২ রোল রয়েলস আরবি২১১ টার্বোফ্যান ইন্জিন

সর্বোচ্চ গতি – ১০৪৪.৪৪ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১২৮৭৪ কিলোমিটার

কেবিন রেন্জ – ৩৯৫ বর্গ মিটার

গাল্ফস্ট্রিম III (Gulfstream III)

মালিক টাইলার পেরির দারুণ ব্যবসাসফল ক্যারিয়ার রয়েছে মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে৷ তাই তার প্রাইভেট জেটে বেশ কয়েকটি বিশাল পর্দার টেলিভিশন থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷

গাল্ফস্ট্রিম ; Image Source: gearhungry.com

বিমানটির লাইটিংও এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বিন্দুমাত্র চোখে লাগা ছাড়া আপনি মুভি উপভোগ করতে পারেন। বসার সুব্যবস্থাও যে কোন প্রথম শ্রেণীর সিনেমা হল থেকে আরামদায়ক।

এতে রয়েছে একটা দারুণ ডাইনিং এরিয়া, সকল সুযোগসুবিধায় সজ্জিত রান্নাঘর এবং বাথরুম, আর ভিআইপিদের জন্য ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ তো বটেই।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জেটটিতে টাইলার পেরির সবচেয়ে বিখ্যাত যাত্রাসঙ্গী ছিল হুইটনি হোউস্টোন, এটা ছিল তার শেষকৃত্যে।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ১২৫ মিলিয়ন ডলার

মালিক – টাইলার পেরি

ইন্জিন – ২ রোলস রয়েলস স্পে টার্বোফ্যান ইন্জিন

সর্বোচ্চ গতি – ৯০৩ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ৭৪০২.৯৮ কিলোমিটার

কেবিন রেন্জ – ৩৮ ঘন মিটার

এয়ারবাস এ৩১৯ কর্পোরেট জেট ( Airbus A319 Corporate Jet)

জমকালো এই জেটটির ভেতরে এবং বাইরের সৌন্দর্য চোখ ঝলসে দেয়ার মতই। চমৎকার ডাইনিং এরিয়ার পাশে রয়েছে একটি পরিপূর্ণ বার।

এয়ারবাস এ৩১৯ কর্পোরেট জেট ; Image Source: gearhungry.com

স্টেটরুম থেকে বোর্ডরুম পর্যন্ত, এমনকি বাথরুমও এমন নিপুণতার সাথে সাজানো হয়েছে যে ভ্রমণকারী সম্ভব সকল রকম বিলাসিতা উপভোগ করতে পারবে চাইলেই।

ব্যবসায়ীদের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হবে না যাত্রাকালে, প্লেনটির নিজস্ব বোর্ডরুমে রয়েছে সকল সুযোগ সুবিধা, চাইলে ভিডিও কনফারেন্সও করে নিতে পারেন যেকোন সময়। তাই ব্যবসার কাজ থামতে পারে শুধু খাওয়া এবং ঘুমের প্রয়োজনেই।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, লিকার টাইকুনকে এই আভিজাত্য প্রতীককে বিক্রি করে দিতে হয়, যদিও এর ভেতরের ডিজাইন কিছুটা পুরোনো হয়ে গিয়েছিল, তারপরও তা তার আসল দামের ধারে কাছেও ছিল না।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ৮০.৭ মিলিয়ন ডলার

মালিক – ভিজয় মালয়া

ইন্জিন – ২ উইং পাইলন-মাউন্টেড টার্বোফ্যান ইন্জিন

সর্বোচ্চ গতি – ৮২৮ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ৯৪৮৫ কিলোমিটার

কেবিন রেন্জ – ত্রিশ জনের বেশি যাত্রীর জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে।

বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ/ইআর (Boeing 767-33A/ER)

রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার রোমান আব্রামোভিচ শুধু চেলসি ফুটবল ক্লাবটিই কেনেননি, ফুটবলপাগল এই ধনকুবের ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য এই জেটটিও কিনেছেন যাতে খেলোয়াড়েরা এওয়ে ম্যাচগুলোতে কোনরকম ক্লান্তি ছাড়াই দ্রুততম সময়ের মধ্যে পৌছতে পারে৷

বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ/ইআর ; Image Source: gearhungry.com

খেলোয়াড়দের লাগেজ এবং দরকারী সামগ্রী বহনের জন্য বিশাল জায়গা রাখা হয়েছে বিমানটিতে।

অভ্যন্তরীণ সজ্জায় বাদামী রঙের সাথে প্রচুর ব্যয় করা হয়েছে স্বর্ণ দিয়ে সাজিয়ে৷

ডাইনিং এরিয়ায় ত্রিশ জন একসাথে বসেই লান্চ অথবা ডিনার সারতে পারে৷

উড্ডয়নকালে যাতে কোন হুমকির সম্মুখীন হতে না হয়, আব্রামোভিচ জেটটির সিকিউরিটি সিস্টেমে যোগ করেছেন এন্টি-মিসাইল সিস্টেম।

অভ্যন্তরীণ এবং বাহিরের দারুণ নকশার পাশাপাশি বিশাল পর্দার টিভি, প্লে স্টেশন রাখা আছে।

খেলোয়াড়দের ঘুম এবং রিলাক্স করার জায়গাতেও কমতি রাখা হয় নাই৷

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ১৭০ মিলিয়ন ডলার

মালিক – রোমান আব্রামোভিচ

ইন্জিন – জেনারেল ইলেকট্রিক জিএফ৬-৮০সি২বি২এফ

সর্বোচ্চ গতি – ৮৫০ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১১০৯০ কিলোমিটার

কেবিন ওয়াইডথ – ৪.৫ মিটার

বোয়িং ৭৪৭-৪৩০ (Boeing 747-430)

জেট বিমানটির দাম অত্যাধিক না অন্যান্য জেটের তুলনায়, তবে এর মালিক ব্রুনেইয়ের সুলতান ১০০ মিলিয়নের বেশি খরচ করেছেন সংস্কার করে একে বিলাসবহুল করে তুলতে৷

বোয়িং ৭৪৭-৪৩০ ; Image Source: airlines.in

বিমানটি অভ্যন্তরীণ সজ্জা করা হয়েছে স্বর্ণ এবং ক্রিস্টালের সমন্বয়ে, এটাই শেষ নয়, বাথরুমগুলোর বেসিন তৈরী করতে ব্যবহার করা হয়েছে খাঁটি সোনা।

বেডরুম এবং লিভিং এরিয়া এমনভাবে সজ্জিত করা হয়েছে যে পৃথিবীর সেরা হোটেলগুলোর রুমের সাথেই কেবল তুলনা চলতে পারে।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ২৩৩ মিলিয়ন ডলার

মালিক – সুলতান অফ ব্রুনেই

ইন্জিন – জেট ইন্জিন টার্বোফ্যান

সর্বোচ্চ গতি – ৯৮৮ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১৩,৪৫০ কিলোমিটার

কেবিন স্পেস – ৫২৪.৯ বর্গ মিটার

এয়ারবাস এ৩৪০-৩০০ (Airbus A340-300)

ধনী রাশিয়ানরা তাদের অমিতব্যয়িতার জন্য বিখ্যাত ( নাকি কুখ্যাত?)। বিলাসিতার অত্যাধিকতায় পরিপূর্ণ প্লেনটি জাঁকজমকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এয়ারবাস এ৩৪০-৩০০ ; Image Source: youtube.com

শুধু প্লেনটির বাইরের সাজসজ্জার দিকে তাকিয়েই আপনি চমৎকৃত হবেন, কী দারুণ পেইন্টিং চারপাশে।

ভেতরের দিকে যেতে থাকলে চোখ ঝলসে যাওয়া বাড়বে বৈ কমবে না যেদিকেই তাকান৷ কোন কিছুরই কমতি রাখা হয়নি বিমানটিতে।

আরামপ্রদ চামড়ার চেয়ার সাজানো রয়েছে ডাইনিং এর চারপাশ জুড়ে এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধাও অদ্বিতীয়। ঘুমানোর জন্য রয়েছে আলাদা কোয়ার্টার, সম্পূর্ণ সজ্জিত বাথরুম, বসার জায়গা রাখা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

নিরাপদ, ঝামেলাহীন ভ্রমণের জন্য সকল ধরণের সিকিউরিটি সিস্টেম যোগ করা হয়েছে বিমানটিতে।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ৪০০ মিলিয়ন ডলার (সম্ভাব্য দাম আরো বেশি হতে পারে)

মালিক – এলিশার উসমানিয়ভ (রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার)

ইন্জিন – ৪ টার্বোফ্যান ইন্জিন

সর্বোচ্চ গতি – ৯১৫ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১৩৬৯৯ কিলোমিটার

প্লেন লেন্থ – ৬৩.৬৯ মিটার

বোয়িং ৭৪৭-৮১ ভিআইপি (Boeing 747-81 VIP)

নামই বলে দিচ্ছে প্লেনটি ভিআইপিদের জন্য এবং টাইটেলটি আরো বলছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত একটি ডাবল প্লেনের চেয়ে কম কিছুর আশা আপনি করতেই পারবেন না। খুব সম্ভবত এতে লাগেজ ট্রেকার টেকনোলজিও যুক্ত করা হয়েছে।

বোয়িং ৭৪৭-৮১ ভিআইপি ; Image Source: zodiacluxary.com

একটি চোখ ধাধানো সর্পিল সিড়ি প্লেনটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। একটি চমৎকার প্রাইভেট অফিস তৈরী করা হয়েছে বিজনেস মিটিং করার জন্য।

একটি ভল্টেড ছাদ জেটটিকে দেখতে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে, যাতে রাখা হয়েছে যাত্রীদের জন্য আলাদা রুম এবং একটি ব্যক্তিগত জিমনেসিয়াম।

ভ্রমণকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আর কি ই বা প্রয়োজন হতে পারে একটি বিমানে?

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ১৫৩ মিলিয়ন ডলার

মালিক – জোসেফ লো – হংকং প্রোপার্টি এবং রিয়েল স্টেট টাইকুন

ইন্জিন – জেনারেল ইলেকট্রিক জিইএনএক্স ইন্জিন

সর্বোচ্চ গতি – ১১৯৫ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১৭,০২০ কিলোমিটার

কেবিন স্পেস – ৪৪৫ বর্গ মিটার

বোয়িং বিজনেস জেট ২ (Boeing Business Jet 2)

ইন্ডিয়ার সবচেয়ে ধনী এবং সফল ব্যবসায়ীকে পরিচয় দেয়ার জন্য জেটটির নামই যথেষ্ট, মুকেশ আম্বানি। একটি সম্পূর্ণ বোর্ডরুম তো বিমানটিতে বসানো হয়েছেই, সাথে রয়েছে এর নিজস্ব বেডরুম এবং বাথরুমও।

বোয়িং বিজনেস জেট ২ ; Image Source: gearhungry.com

উড়ন্ত বিমানই হয়ে উঠেছে যেন থাকার এবং ব্যবসায়িক মিটিং করার এক দুর্দান্ত ক্ষেত্র৷

আলাদা বসার স্থানের সাথে ডাইনিং এরিয়া, পর্যাপ্ত বিলাসবহুল আসবাব সমেত বিমানটি হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ সজ্জার এক আরামদায়ক উদাহারন।

স্পেসিফিকেশন

মূল্য – ৭৩ মিলিয়ন ডলার

মালিক – মুকেশ আম্বানি

ইন্জিন – ২ সিএমএফ ৫৬-৭বি২৭ টার্বোফ্যান ইন্জিন

সর্বোচ্চ গতি – ৮৭০ কিলোমিটার / ঘন্টা

ফ্লাইট রেন্জ – ১২,৩০০ কিলোমিটার

কেবিন স্পেস – ৯৫.২ বর্গ মিটার

এমন যে কোন একটি ব্যক্তিগত বিমানের মালিক হওয়া হয়তো জীবনের সেরা স্বপ্ন। যেখানে লাগেজ, ব্যাগ অথবা ডাফেল ব্যাগের ঝাঁকুনি নেই, নেই যাত্রাপথে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠা শুধু পাশের যাত্রীর বাথরুমে যাওয়া প্রয়োজন বলে তাকে জায়গা দিতে যাওয়ার। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন বিমানের সেই একঘেয়ে নির্দিষ্ট খাবার থেকে মুক্তি অথবা নিজের ইচ্ছে মত রান্না করা খাবার তৈরী হবে বিমানেরই কিচেনে?

কী চমৎকারই হতো যদি প্লাস্টিকের অস্বাস্থ্যকর প্লেট গ্লাসের পরিবর্তে চিনামাটির চমৎকার বাসনে খাবার এবং পানীয় পেলে!

দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে ঘাড় এবং পিঠ ব্যাথার পরিবর্তে যদি নিজের বেডরুমের মতই যাত্রাপথে ঘুমিয়ে আসা যেত, গন্তব্যে পৌছার পূর্বে বিমানের শাওয়ারে গোসল করে নিয়ে পরিষ্কার নতুন কাপড়ে বেরিয়ে আসা গেলে তো আর কোন কথাই নেই৷

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের বেশিরভাগেরই তেমন সামর্থ্য কখনোই হবে না এমন একটা জেটের মালিক হওয়ার, সত্যি বলতে অধিকাংশ পাবে না সুযোগই কখনো বিলাসবহুল এসব বিমানে ভ্রমণের সুযোগ।

তারপরও এসব চমৎকার জিনিস সম্পর্কে জানা এবং স্বপ্ন দেখায় বাঁধা দেয়ার উপায় নেই মনকে৷ অন্তত বিলাসবহুল কোন জেটে ভ্রমণের অনুভূতি কেমন হবে তা আমরা কল্পনা করতেই থাকি তখনো যখন আমরা ইকোনমি ক্লাসের কোন চাপা সিটে কষ্ট করে গন্তব্যে পৌছার অপেক্ষা করছি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *