in

গাড়ির অবস্থান যেভাবে ট্র্যাক করবেন

বর্তমানে অনেকেই গাড়ি ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। আর তাই গাড়ি চুরির ঘটনাও ঘটছে অহরহ। গাড়ি চুরি হওয়ার পূর্বেই গাড়িকে সতর্কতার সাথে নিরাপদ স্থানে রাখা উচিত। কিন্তু তারপরও চুরি হওয়াটা ঠেকানো সম্ভব নয়। আর সেজন্য আপনাকে গাড়ি ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে আপনার গাড়িকে ট্র্যাক করবেন। গাড়িকে ট্র্যাক করার জন্য দুটো পদ্ধতির ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রথমটা হচ্ছে, যেকোনো জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা ও দ্বিতীয়টি হচ্ছে, কমদামী মোবাইল ও ম্যাপিং সফটওয়্যার দিয়ে ট্র্যাক করা।

যেকোনো গাড়িকেই ট্র্যাক করা সম্ভব; Source: chrismendlascorner.com

সেরা ৫টি জিপিএস ট্র্যাকার

১. স্পাইটেক এসটিআইজিএল থ্রি হান্ড্রেড মিনি পোর্টেবল রিয়েল টাইম জিপিএস ট্র্যাকার

স্পাইটেক জিএল থ্রি হান্ড্রেড হচ্ছে অ্যামাজনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া যানবাহন ট্র্যাকার। এটার সাইজ ছোটো একটা ম্যাচবক্সের সমান। প্রায় ১৫ ফুট দূর থেকেও এটা যানবাহনের অবস্থান পিনপয়েন্ট করতে পারে। এই ট্র্যাকারকে গাড়ির যেকোনো জায়গায় চুম্বকের মতো করে আটকে রাখা যায়। এই ট্র্যাকারের সাথে একটি এস ও এস বাটন পাওয়া যায়। যেটার মধ্যে চাপ পড়লেই সেটার সঠিক অবস্থান ইউজারের মোবাইলে চলে যায়। স্পাই টেক ট্র্যাকারটি একইসাথে এসএসএল সিকিউরড এবং পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত। অসুবিধা হচ্ছে এই ট্র্যাকারের ব্যাটারি লাইফ মাত্র দুই সপ্তাহ। তবে ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর জন্য চাইলে অতিরিক্ত একটি ব্যাটারি কিনতে পারেন।

স্পাই টেক ট্র্যাকার; Source: groupon.com

২. মোটো সেইফটি ওবিডি ভেহিকল মনিটরিং সিস্টেম

মোটো সেইফটি ট্র্যাকার ড্রাইভারকেও ট্র্যাক করতে ব্যবহার করা হয়। গাড়ির অবস্থানের সাথে এটি গাড়ির গতি, ব্রেইকিং সিস্টেম এবং গতির উঠানামাও ট্র্যাক করতে সম্ভব। প্রতিদিনের গাড়ির অবস্থা সম্পর্কে এটি ইউজারকে রিপোর্ট পাঠাতেও সক্ষম। এটা মূলত প্যারেন্টাল গাইডের অন্তর্ভুক্ত। গাড়ির ড্যাশবোর্ডের নিচে ডায়াগনস্টিক পোর্টের সাথে যুক্ত করে এই মোটো সেইফটি ট্র্যাকার সংযোগ করা যায়। রিপোর্ট কার্ড প্রেরণের মাধ্যমে গাড়ির মালিক চাইলে ড্রাইভার সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারে।

মোটো সেইফটি ট্র্যাকার; Source: youtube.com

এর অসাধারণ একটি ফিচার হচ্ছে, আপনি ঘরে বসেই জানতে পারবেন যে, আপনার গাড়িতে কতটা জ্বালানী রয়েছে। গাড়ির মালিক চাইলে ঘরে বসেই ট্র্যাকারে সংকেত পাঠাতে পারবে, সবকিছু রেকর্ড করা হচ্ছে। যদিও এর বিশেষ কিছু সমস্যা হচ্ছে, এটা গুগল ম্যাপের মাধ্যমে লোকেশন সিলেক্ট করে থাকে, যার ফলে সঠিক স্থান ও দুরত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না।

৩. অ্যামেরিকালক মিনি পোর্টেবল জিপিএস ট্র্যাকার

অ্যামেরিকালক ট্র্যাকার মূলত জিএলথ্রি হান্ড্রেডের আপডেটেড ভার্সন। এটা অনেক ছোটো আকারের মধ্যে পাওয়া যায়। যার ফলে খুব সহজেই ব্যবহারযোগ্য। এটার ব্যাটারি লাইফও অন্যান্য ট্র্যাকারের থেকে বেশ ভালো। এর ফি দেয়ার ক্ষেত্রেও আপনাকে প্রত্যেক বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আপনি চাইলে কিস্তিতেও এর বিল দিতে পারবেন। রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের জন্য এই ট্র্যাকার অসাধারণ সার্ভিস দিয়ে থাকে।

অ্যামেরিকালক মিনি পোর্টেবল জিপিএস ট্র্যাকার; Source: zpymart.com

৪. ম্যাসট্র্যাক ওবিডি রিয়েল টাইম জিপিএস ভেহিকল ট্র্যাকার

ম্যাসট্র্যাক ট্র্যাকার প্রায় অটো টেকনিশিয়ানের মতোই কাজ করে থাকে। এটাও গাড়ির ড্যাশবোর্ডের নিচে থাকা ডায়াগনস্টিক পোর্টের সাথে সংযুক্ত করে রাখা যায়। এটা আপনাকে রিয়েল টাইম লোকেশন জানাবে, অতিরিক্ত গতি সম্পর্কে জানাবে এবং কখন গাড়িকে মেইনটেনেন্সের জন্য নিতে হবে সেটাও জানাবে। যদিও এর মোট খরচ প্রায় ৩০০ ডলারের কাছাকাছি কিন্তু আপনি চাইলে কিস্তিতেও তা শোধ করতে পারবেন।

ম্যাসট্র্যাক ওবিডি ট্র্যাকার; Source: amazon.com

৫. অপ্টিমাস রিয়েল টাইম জিপিএস ট্র্যাকার

মাত্র ২.৭ ইঞ্চি সাইজের এই ট্র্যাকার মূলত যেকোনো গাড়ির মধ্যেই ব্যবহার করা যায়। এটা প্রায় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটরদের মতোই কাজ করে থাকে। আপনি চাইলে চুম্বক দিয়ে এটাকে যেকোনো জায়গায় লাগিয়ে রাখতে পারবেন কিংবা চাইলে গাড়ির ফ্রেমের সাথে যেকোনো স্থানেই সেট করে রাখতে পারবেন। অপ্টিমাস রিয়েল টাইম ট্র্যাকার থেকে আপনি ট্র্যাকারের অবস্থান, প্রত্যেক জায়গায় কতক্ষণ অবস্থান করেছে সেটার অবস্থা, পার্কিং টাইম, মুভমেন্ট টাইমসহ আরো অনেক তথ্য বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। এটাতেও পাবেন একটি ইন-বিল্ট এস ও এস বাটন।

অপ্টিমাস রিয়েল টাইম ট্র্যাকার; Source: amazon.com

উপরের এই পাঁচটি জিপিএস ট্র্যাকার দিয়ে আপনি খুব সহজেই আপনার গাড়িকে ট্র্যাক করতে পারবেন। এই ধরণের ট্র্যাকারের ইন্সটলেশন পদ্ধতিও ততটা জটিল নয়। ইন্সটল করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে।

১. ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারেরর ওয়েবসাইট থেকে একটি পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট করতে হবে।

২. সেখান থেকে ডিভাইসটি অন করে দিতে হবে। তারপর সিনক্রোনাইজেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

৩. এখন আপনি সহজেই সেই ডিভাইসের তথ্য আপনার মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমে বা ম্যানুফ্যাকচারের সাইট থেকে দেখতে পাবেন।

যানবাহনের ট্র্যাকার ব্যবহার করা উচিত; Source: amazon.com

কমদামী মোবাইল ও ম্যাপিং সফটওয়্যার দিয়ে যেভাবে গাড়িকে ট্র্যাক করবেন

প্রথমে ভালো ডেটা প্ল্যানসহ একটি প্রিপেইড সিম কিনুন। ঘরে যদি কমদামী মোবাইল থেকে থাকে তাহলে সেটাকেই ব্যবহার করুন, নয়তো চাইলে এখান থেকে কমদামে মোবাইল ক্রয় করতে পারেন। মাত্র ৩,০০০ টাকার মধ্যেই বেশ ভালো মানের মোবাইল পেয়ে যাবেন। এখন আপনার দরকার পড়বে একটি জিপিএসের। যেটা ট্র্যাকার হিসেবে কাজ করবে। এখন আপনি চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্যামিলি লোকেটর অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন। এটা বেশ ভালোমানের একটি জিপিএস ট্র্যাকার হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও অ্যাকুট্র্যাকিং অ্যাপটিও অসাধারণ সার্ভিস দিয়ে থাকে।

ভালোমানের ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করুন; Source: maptive.com

প্রথমে আপনার ফোনের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস এনেবল (Internet Acces) করুন। ফোনটাকে এবার মিউটে নিয়ে যান। এবার ফোনের জিপিএস অপশনে যান। এখন ম্যাপিং অ্যাপ থেকে সেটার ট্র্যাকার কোডটা নিয়ে এই জিপিএস অপশনে সেটা করে দিন। এখন আপনার ফোন ট্র্যাকিং শুরু করার জন্য পারমিশন চাইবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফোন ট্র্যাকিং করে আপনাকে অবস্থান দেখানো শুরু করবে। এখন আপনার ফোনে সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে আনুন। চাইলে গাড়ির ব্যাটারির সাথেও ফোনের ব্যাটারি বা চার্জার যুক্ত করে দিতে পারেন। এতে কখনোই চার্জ শেষ হবে না। তারপর গাড়ির মধ্যে যেকোনো জায়গায় ফোনটা রেখে দিন। এবার আপনার ব্যবহৃত ফোন দিয়েও আপনার গাড়িকে ট্র্যাক করতে পারবেন।

Featured Image: insights.workwave.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *