in

বাইক নিয়ে যত মজার গিনেজ বুক অফ রেকর্ড

মোটরসাইকেল টেকনোলজি এবং ইন্জিনিয়ারিং ধারাবাহিক ভাবে কেবল উন্নতিই হচ্ছে। ক্রমশ গতি হচ্ছে দ্রুত, বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ, টিকছে বেশিদিন এবং সর্বোপরি মেশিনে নির্ভরতাও বাড়ছে দিন দিন।

প্রযুক্তির এই অগ্রগামীতার জন্য মোটরসাইকেলের দ্রুততম গতির রেকর্ড কিংবা সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে বছর বছরই।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা আজ আর্টিকেলটি এমন সব রেকর্ড দিয়ে সাজিয়েছি, যা টিকে রয়েছে বহুদিন, টিকে থাকবেও হয়তো আরো অনেক কাল। 

তালিকাটিতে মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, ইন্জিন পাওয়ার এসবের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে রেকর্ড হোল্ডারদের ব্যক্তিগত কৌশল-ক্ষমতাকে, অসাধারণ সব আইডিয়াকে৷

রেকর্ড শোনার পর হয়তো নাক কুঁচকে বলে বসতে পারেন, এ আর এমন কি, যে কেউ ভেঙে ফেলতে পারে এ রেকর্ড যে কোন দিন, তবে এমন অদ্ভুত রেকর্ডের আইডিয়াটা না আসলে ভাঙার প্রশ্নও কিন্তু আসতো না।

রেকর্ডগুলোও খুব কম পরিচিত, যা বেশিরভাগই হয়তো অধিকাংশ মানুষের অজানা। সত্যি বলতে এমন উদ্ভট সব রেকর্ডের যে কোন অস্তিত্ব আছে, এটাই আমাদের মাথায় কখনো আসবে না জানার আগে৷

কথা না বাড়িয়ে চলুন ঘুরে আসি উদ্ভট রেকর্ডগুলোর দুনিয়ায়,

দীর্ঘতম মোটরসাইকেল

দীর্ঘ সময় মোটরসাইক্লিং, দীর্ঘ দূরত্বে মোটরসাইকেল রাইডিং, দীর্ঘ সময় চাকার উপরে থাকা কিংবা দীর্ঘ সময় থেকে থাকা, এমন হয় তো ডজন খানেকেরও বেশি রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাবে।

পৃথিবীর দীর্ঘতম মোটরসাইকেল ; Image Source: rideapart.com

তবে ২০১৩ সালের মার্চের ১২ তারিখে, ভরতশীন পার্কার নামে এক ভারতীয় ৫৪ ফুট লম্বা বাইক নিয়ে বের হন যা পৃথিবী নামক গ্রহে সবচেয়ে লম্বা মোটরসাইকেল হিসেবে এখনো রেকর্ড বুকে টিকে রয়েছে।

সবচেয়ে ভারী মোটরসাইকেল উত্তোলন

আপনি হয়তো ভাবতেও পারবেন না, কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে এমন কিছু করার কথা ভাবতে পারে, কিন্তু মন্টিস্টার আগারওয়াল নামের শক্তিশালী এই ভদ্রলোক শুধু ভাবেইনি, করেও দেখিয়েছে।

মন্টিস্টার আগারওয়াল মোটরসাইকেলটি তুলে আটটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আবার নীচে নামেন ; Image Source: rideapart.com

২৪২.৫ পাউন্ড ওজনের মোটরসাইকেল দুই হাতে তুলে নিয়ে তিনি আটটি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আবার নামিয়েও আনেন একই ভাবে, ২০১৪ সালের জুন মাসের ২১ তারিখে রেকর্ডটি অধিভুক্ত হয়।

৪৯ সিসি স্কুটার দিয়ে সর্বোচ্চ দূরত্ব

লেখা শুরুর সময় বলেছিলাম যদিও, গতানুগতিক সব রেকর্ড যেমন সর্বোচ্চ গতি কিংবা সর্বোচ্চ দূরত্বের মতো রেকর্ডকে সযত্নে এড়িয়া যাওয়া হবে। তবুও এই সর্বোচ্চ দূরত্ব পাড়ি দেয়ার রেকর্ডটি না দিয়ে পারা গেল না।

মাত্র ৪৯ সিসির স্কুটার নিয়ে পাড়ি দেন হাজার মাইল ; Image Source: youtube.com

মাত্র ৪৯ সিসি ইন্জিনের একটি স্কুটার দিয়ে লয়েড ওয়েমা পাড়ি দেন ১১৭৭ মাইল। ২০১৪ সালের ১৪ জুন পোর্টল্যান্ড, ওরেগন থেকে যাত্রা শুরু করে লস এন্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া পৌছান এবং জায়গা করে নেন গিনেজ বুক অফ রেকর্ডে।

দীর্ঘতম অফিস চেয়ার ট্রেন টানা মোটরসাইকেলে

এমন একটি রেকর্ড যা সাধারণ মানুষের মাথায় আসবেও না কখনো যে, এমন কিছুও করা যেতে পারে। সত্যি বলতে, আর্টিকেলটি লেখার আগে পর্যন্ত আমি জানতামও না, অফিস চেয়ার ট্রেন বলে কিছু আছে বা থাকতে পারে।

অফিস চেয়ার দিয়ে তৈরী ট্রেন টানছে মোটরসাইকেল ; Image Source: bikeradar.com

নেদারল্যান্ডসের ড্রাইয়েস্টার কলেজের স্টুডেন্টদের দ্বারা এই রেকর্ডটি হয় প্রথমে, অফিস চেয়ার ট্রেনটি টানার জন্য ব্যবহৃত হয় ভিনটেজ ইয়ামাহা স্ক্রাম্বলার।

যেহেতু রেকর্ডটি ভাঙ্গা খুবই সহজ এবং পরবর্তীতে রেকর্ডটি ভেঙেছেও অনেকবার তবুও একে এই লিস্টে টানার কারণ এই উদ্ভট আইডিয়াটি প্রথম নেদারল্যান্ডসের ওই কলেজ ছাত্রদের মাথা থেকেই বেরিয়েছিল।

দীর্ঘতম সময় চলন্ত মোটরসাইকেল টেনে থামিয়ে রাখা (প্রমিলা রেকর্ড)

রেকর্ড এবং সংখ্যাগুলো আসলেই অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য রকমের। চারটা চলন্ত মোটরসাইকেল হাতের বাহু দিয়ে টেনে থামিয়ে রাখা, দীর্ঘতম সময় হাতের মুষ্টি দিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেল টেনে থামিয়ে রাখা।

চারটি চলন্ত মোটরসাইকেল টেনে থামিয়ে রাখতে পারেন শক্তিশালী এই নারী ; Image Source: bikeradar.com

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে দাঁত দিয়ে টেনে মোটরসাইকেল থামিয়ে রাখার রেকর্ডটি।

এখানেই থেমে নেই, লিস্টটি আরো লম্বা, গিনেজ বুক অফ রেকর্ডে এতো বার নাম লেখানো এই নারীর নাম জুলি মুডি।

আগস্টের ২৫ তারিখ, ২০১২ সালে তিনি ১৫০০ সিসির দুটি চলন্ত মোটরসাইকেল হাত দিয়ে টেনে ১ মিনিট ২৩.৫৩ সেকেন্ড থামিয়ে রেখে প্রথম বারের মত গিনেজ বুক অফ রেকর্ডে নিজের নাম লেখান।

পরবর্তীতে নতুন নতুন রেকর্ডের সাথে সাথে নিজের রেকর্ডও ভেঙেছেন অনেকবার।

‘গ্লোব অফ দ্য ডেথ’ এ কনিষ্ঠতম রাইডার

কিশোর বয়স পেরিয়ে এসেও বেশিরভাগ কাজে আমরা যখন বাবা মা ছাড়া কিছু বুঝি না, তখন ম্যাক্সিমাস গার্সিয়া নামের আমেরিকান এই শিশু একজন সপ্তম প্রজন্মের সার্কাস পারফর্মার।

এই আশ্চর্য বালকের কান্ডকারখানা চোখ ভড়কে দিতে যথেষ্ট ; Image Source: rideapart.com

২০০৬ সালের ১৬ আগস্ট, মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে ম্যাক্সিমাস তার ছোট সুজুকি বাইক নিয়ে গ্লোব অফ দ্য ডেথে স্টান্ট পারফর্ম করতে শুরু করে তার পরিবারের সাথে। ম্যাক্সিমাসের দিকে তাকালে শুধু অবাক হয়ে তাকিয়েই থাকতে হয়।

দীর্ঘকাল সিটে দাড়িয়ে মোটরসাইকেল রাইড

একটা চলন্ত মোটরসাইকেল স্থির ভারসাম্য চায়, বসার চেয়ে দাড়িয়ে  থাকলে যেহেতু ভর আরো বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, পদার্থ বিজ্ঞানের মতে তাই বসার চেয়ে দাড়িয়ে মোটরসাইকেল বেশি ভারসাম্য রাখা সম্ভব।

২০ মাইল রাইড করেছেন এভাবে দাড়িয়েই ; Image Source: rideapart.com

তবে পদার্থ বিজ্ঞানের থিউরিতে হলেও, বাস্তবে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকা, তাও চলন্ত কিছুর উপর নিতান্তই কঠিন, আর যদি বলা হয় টানা ২০ মাইল (৩২.৩ কিলোমিটার) দাড়িয়ে থাকতে, স্রেফ অসম্ভব বলা ছাড়া আর কি ই বা উপায় আছে? 

তবে এই রেকর্ডটিই করেছেন রত্নেশ পান্ডে নামক একজন ভারতীয়, ২০০৫ সালের ৫ ডিসেম্বর, হোন্ডা ইউনিকর্নে।

টানা ২০ মাইল পথ রত্নেশ মোটরসাইলের উপর দাড়িয়ে রাইডিং করেছেন এক মুহূর্তের জন্যও না বসে এবং হাত দিয়ে হ্যান্ডেলবার না ছুঁয়ে৷

অসম্ভব, অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে?  নিজেই দেখে আসুন।

কাঁটাতারের বেড়ার বদৌলতে আমরা বলি, পৃথিবীতে হয়তো ২০০ র মত দেশ আছে। এ ভাগবন্টন, বাটোয়ারা আমাদের নিজেদের করা।

তবে মানুষ আলাদা, হাজারেরও বেশি জাতি রয়েছে পৃথিবী জুড়ে। অথচ ভেতরে মনের খবর খোঁজ নিয়ে দেখেন, প্রতিটি জাতিরই প্রতিটি মানুষ আলাদা। তারা আলাদাভাবে ভাবে, আলাদ পথে চিন্তা করে৷

তাই আমি আপনি যখন সকাল আটটায় অফিস ধরতে গিয়ে যেন জ্যামের ফাঁদে না পড়ি গাড়ি নিয়ে, অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হই। মোটরসাইকেলের কার্যকারিতা হয়তো আমাদের কাছে এতটুকুই!

তবে কেউ কেউ ভাবে ভিন্নভাবে।  তারা ভিন্ন রকম কিছু করতে চায়, ভিন্ন রকম কিছু দেখাতে চায়, তখনই জন্ম নেয় অদ্ভুত সব রেকর্ডের। আবার কেউ কেউ রেকর্ডের নেশাতেই রেকর্ড করে বসে, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এখানে গিনেজ বুক অফ রেকর্ডে নিজের নামখানা দেখকে পাওয়া!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *