in

গাড়ি নিয়ে যত গিনেজ বুক অফ রেকর্ড

আপনি কোন কিছুতে বিশ্বসেরা, এমন একটা অনুভূতি সবসময়ই মনের জন্য প্রশান্তির। আর সেই বিশ্বসেরা হওয়ার প্রমাণস্বরূপ যদি সার্টিফিকেটখানা ড্রইংরুমে ঝুলিয়ে রাখা যায় সেই জায়গাটায়, যেখানে অতিথিদের চোখ পড়বে প্রথম নজরেই, তাহলে তো কথাই নেই।

এমন গর্ব আনন্দের নেশা থেকেই মানুষ রেকর্ডের পেছনে ছোটে, গিনেজ বুক অফ রেকর্ডের উদ্ভাবনও এই রেকর্ডের নেশায় পড়া মানুষগুলোকে লক্ষ্য বেঁধে দেয়ার লক্ষ্যেই।

গিনেজ কর্তৃপক্ষ রেকর্ডের অফিশিয়াল কাগজপত্র যেমন তৈরী করে নথিভুক্ত করে, তেমনি উৎসাহ দিতে থাকে অন্যদের যেন দ্রুত আগের নথি নষ্ট করা যায়।

তবে আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, আজ আমরা এমন সব রেকর্ডের তালিকা নিয়ে বসেছি, যেগুলো হয়তো আপনিও ভাঙতে পারেন, শুধু প্রয়োজন, গাড়ি, কিছুটা দক্ষতা আর অনেকখানি পাগলাটে ইচ্ছাশক্তি,

প্যারালাল পার্কিং (Parallel Parking)

আপনার প্যারালাল পার্কিং স্কিল কেমন? 

স্টান্ট ড্রাইভার এ্যালিস্টার মোফ্যাট তার নিজের করা আগের রেকর্ডই ভাঙেন একটি ৫০০ সি ফিয়াট নিয়ে পার্কিং করে, গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার চেয়ে মাত্র ৭.৫ সেন্টিমিটার বেশি জায়গা নিয়ে তিনি গাড়ি পার্ক করেন, এক্ষেত্রে তিনি গাড়ির হ্যান্ডব্রেকের সাহায্য নিয়েছেন অবশ্য।

প্যারালাল পার্কিং ; Image Source: hotcars.com

এ্যালিস্টারের আগের রেকর্ডটি ছিল বার্মিংহামে, এনইসি তে, ৮.৫ সেন্টিমিটার ছিল তার ব্যক্তিগত সর্বনিম্ন। 

আপনার যদি মনে হয়, আপনি এর থেকেও কম জায়গা নিয়ে আপনার গাড়িটি প্যারালালি পার্ক করতে পারবেন, গিনেজ রেকর্ড কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদনপত্রের অপেক্ষায়!

গাড়িকে দীর্ঘতম চুমু (Longest Time to Kiss A Car) 

নিজের গাড়িটাকে ভালোবাসেন?  প্রমাণ করুন তো!

মেক্সিকান অধিবাসী এরনেস্তো হার্নান্দেজ এ্যামব্রোসিও এবং জেসুস সুয়ারেজ ভিতে ২০১৩ সালে তাদের গাড়িকে চুমু খান দীর্ঘ ৭৬ ঘন্টা ধরে(তিন দিনেরও বেশি)।

গাড়িকে ৭৬ ঘন্টার চুমু ; Image Source: holtsauto.com

আপনার যদি এমন অদম্য ইচ্ছা এবং এই সময়ের চেয়ে বেশি অবসর থাকে, আপনি যদি সত্যিই রেকর্ডবুকে নিজের নামখানা দেখতেই চান, হয়ে যাবে নাকি একটা চেষ্টা? 

গাড়িতে সবচেয়ে বেশি দেশে ভ্রমণ (Most Country Visited by Car)

জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের খোঁজ করছেন? একঘেয়ে লাগছে প্রতিদিনের বৈচিত্রহীন জীবন?

জার্মান নাগরিক গান্থার হলটর্ফের চাকার দাগকে অনুসরণ করে ছুটতে পারেন, হয়ে যাবে বিশ্ব ভ্রমণ।

গাড়িতে ১৮০ টি দেশ ভ্রমণ ; Image Source: rac.co.uk

হলটর্ম তার জীবনের ছাব্বিশ বছর ব্যয় করেছে তার মার্সিডিজ বেন্জ জি-ওয়াগেন চালিয়ে। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি গাড়িকে করে বিশ্ব ভ্রমণ করেন, এ সময় তিনি ১৮০ টি দেশে ঘুরেছেন, যা একটি বিশ্বরেকর্ডও!

তবে আপনার যদি এতো সময় না থাকে, তাহলে আপনি একটু ভিন্ন পথেও একটা রেকর্ড বাগিয়ে নিতেই পারেন।

একটা টানা গাড়ি ভ্রমণে সর্বোচ্চ দেশে ভ্রমণের রেকর্ডটি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়।

বর্তমান রেকর্ডটি ১১১ টি দেশ ভ্রমণের, জিম রজার এবং পেইজ পার্কার আমেরিকা থেকে রেকর্ড যাত্রাটি শুরু করেন।

ছয়টি মহাদেশে ১,৫২,০০০ মাইল পথ গাড়িতে ভ্রমণ করতে তাদের সময় লেগেছে তিন বছর।

এ সময় তারা হলুদ এসএলকে কনভার্টেবল বডি দিয়ে কাস্টোমাইজ করা মার্সিডিজ জি-ওয়াগেন গাড়িটি ব্যবহার করেন।

দ্রুততম চাকা পরিবর্তন (Fastest Wheel Change)

ভাঙ্গা তো দূরে থাক, আমাদের বরং পরামর্শ থাকবে এটা বাড়িতে চেষ্টা না করার জন্যই।

জার্মানীর রেইফেন উমার্টের চারজন টেকনিশিয়ান ২০১৫ সালে একটি ফোর্ড ফোকাসের চারটি চাকাই পরিবর্তন করে রেকর্ড করেন এক মিনিটেরও কম সময়ে।

এক মিনিটেরও কম সময়ে চাকা পরিবর্তন ; Image Source: rac.co.uk

নির্দিষ্ট করে বললে স্টান্টটি সম্পন্ন করতে তাদের সময় লেগেছে ৫৮.৪৩ সেকেন্ড, এই সময়ের মধ্যে তারা প্রাচীন পদ্ধতিতেই গাড়িকে উঁচু করেছে, নাট খোলা, লাগানো, শক্ত করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে হাতের জ্যাকই।

কোন রকম প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়া এতো কম সময়ে কোন গাড়ির চারটি চাকাই পরিবর্তন করে নতুন চাকা লাগিয়ে গাগিকে চলার উপযোগী করে তোলা আপাতদৃষ্টিতে প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে হয়তো, তবে অসম্ভবকে সম্ভব করেই তো গড়ে ওঠে রেকর্ড।

গাড়ি দিয়ে বৃহত্তম জিপিএস ড্রইং (Largest GPS Drawing by A Car)

স্মার্টফোনের এ্যাপকে ধন্যবাদ দিতেই হয়, জিপিএস ড্রইং এখন আমাদের যে কারো নাগালের মধ্যেই।

বৃহত্তম জিপিএস ড্রইং ; Image Source: rac.co.uk

জিপিএস যে কারো লোকেশন এবং রুট জানতে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে থাকে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে শুধু ছবিই নয়, তার বর্তমান গতিবিধিও নির্দিষ্ট করে দেখা যায়।

বিশ্বের বৃহত্তম জিপিএস ড্রইং রেকর্ড বর্তমানে ভক্সহালের অধীনে, ২০১৪ সালে নিউ কোর্সার একটি পাবলিক স্টান্টের অংশ হিসেবে রেকর্ডটি করা হয়েছিল।

শিল্পী জেরেমী উড ইউনাইটেড কিংডমের চারপাশে ৬০৮০ মাইল পথ ড্রাইভ করেন গাড়ি, হ্যালোইনের একটি চমৎকার থিম ইমেজও তৈরী করেন এসময়, অক্টোবরের ৩১ তারিখে।

তাহলে জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে, লাফিয়ে উঠে বসুন গাড়িতে, চলতে এবং চালাতে থাকুন, থামবেন না যতক্ষণ না ৬০৮০ মাইলের বেশি রাস্তা অতিক্রম করেছেন।

দীর্ঘতম কার স্কিড (Longest Continuous Car Skid)

এই রেকর্ডটি অতীতে ভাঙ্গা হয়েছিল দূর্ঘটনাবশত।

১৯৬৪ সালে, নরম্যান ক্রেইগ ব্রিডলভ নামের এক আমেরিকান জেট পাওয়ারড গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বোনেভিলে লবনাক্ত ভূমির ছয় মাইলে টানা স্কিড করে যাওয়ার চিহ্ন রেখে যান৷

দীর্ঘতম কার স্কিড ; Image Source: hotcars.com

এটা অবশ্য জানা যায় না কেন তিনি বাড়ির কাছাকাছি এসে এতো দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছিলেন অথবা ঠিক কত গতিতেই বা চালাচ্ছিলেন।

পাবলিক রোডে দীর্ঘতম স্কিড ৩০০ মিটারের, ১৯৬০ সালের জুনে লুটনের কাছে জুগুয়ার গাড়িতে ক্রাশের ফলে স্কিডটি তৈরী হয়৷

জাগুয়ার গাড়িটি গতি তখন ঘন্টায় ১০০ মাইলের বেশি ছিল বলেই ধারণা করা হয়, আর জেনে রাখার স্বার্থে বলা যায়, ঘন্টায় সত্তর মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না, নাহলে টিকেট ধরিয়ে দেবে ট্রাফিক সার্জেন্ট, এমন সব আইনের জন্ম ১৯৬৬ সালের আগে হয়নি।

উপরের অন্য সব রেকর্ডের কথা ছাড়ুন, আপনি যদি এই রেকর্ডটি ভাঙ্গতেই চান, আমরা বরং পরামর্শ দেবো কোন এয়ারফিল্ড অথবা রানওয়ে বুকিং করতে, কারণ আজকের দিনের এই ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত রাস্তায় স্কিড করে নিজের এবং অন্যদের জীবনের ঝুঁকি নেয়ার পরামর্শ আমরা কিভাবেই বা আপনাকে দিতে পারি? 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *