in ,

গরমে সাইক্লিং টিপস

বাতাসে চুল উড়িয়ে উষ্ণ আবহাওয়ায় খোলা প্রান্তরের পাশের রাস্তায় সাইক্লিং করার অনুভূতি স্বর্গীয়। মুক্ত স্বাধীন জীবনের স্বাদ হৃদয় বুঝি তখনই উপভোগ করে।

তবে উষ্ণ আবহাওয়ায় সাইকেল রাইডের নেতিবাচক দিকও রয়েছে, রোদ।

গ্রীষ্মের সোনালী রোদ মেখে সাইক্লিং ; Image Source: fortmyershop.com

হ্যাঁ, গ্রীষ্মের সকাল পেরুনো দুপুরে সূর্যের সোনালি রশ্মিতে আশেপাশের পরিবেশ দেখতে চমৎকার হয়ে গেলেও রাইডারদের জন্য রাইডিং হয়ে ওঠে চ্যালেন্জিং, তা হোক গরমে মোটরসাইকেল রাইডিং কিংবা সাইকেল।

উপরন্তু সাইক্লিং আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং কারণ এতে নিজের শরীর থেকে প্রচুর ক্যালরিও খরচ করতে হয় রাইডের সময়।

তাই গ্রীষ্মকালীন সময়ে রাইডিং করতে গিয়ে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন না করলে হতে পারে ডিহাইড্রেশন এবং আল্ট্রা ভায়োলেট ড্যামেজের মত ক্ষতিকর ব্যাপার।

ডিহাইড্রেটিং মূলত মানব দেহের মেটাবলিক রেটের (বেশি পরিশ্রমে বেশি ঘেমে যাওয়া এবং তা শরীরে খাদ্য থেকে উৎপাদিত ক্যালরির থেকে বেশি) সাথে সম্পর্কিত। একই সাথে রোদের তাপে এবং উষ্ণ বাতাসে আরো বেশি ঘেমে যাওয়া এবং শুষ্কতা ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দেয়।

তাই গরমে সাইকেল রাইডিং এ বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন অতীব গুরুত্বপূর্ণ,

পর্যাপ্ত পাানি এবং তরল

হাইড্রেশনের জন্য রাইডে যাওয়ার পূর্বে, রাইডিং এ, রাইডের পরে তিনটি পর্যায়ই অতি গুরুত্বপূর্ণ।

বেশিরভাগ রাইডার রাইডের পূর্বে এবং রাইডিং এ কম পানি এবং তরল পান করে, এ ক্ষেত্রে তাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, পেট ভরা থাকলে সাইক্লিং কষ্টকর। কিন্তু পর্যাপ্ত খাবারে তৈরী ক্যালরি শরীরে না থাকলে এবং পর্যাপ্ত পানি এবং তরল ক্যালরি তৈরীর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারলে রাইডারের জন্য তা আরো বেশি ক্ষতিকর।

পর্যাপ্ত পানি এবং তরল পানীয় রাখবে সতেজ আপনাকে ; Image Source: Getty Images

তাই রাইডের পূর্বে পর্যাপ্ত পানি এবং তরল জাতীয় খাবার খেয়ে নিতে হবে এবং রাইডিং এ যাওয়ার সময়ও যাতে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সাথে নেয়া যায়, সে অনুপাতের এক্সেসরিজ সাথে রাখতে হবে।

রাইডে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে থামতে হবে এবং পানি পান করতে হবে। আর গ্রীষ্মকালীন সময়ে পানি পানের হার হতে হবে আরো বেশি।

সবচেয়ে ভালো হয়, পানির সাথে খাবার স্যালাইন সাথে রাখলে, গরমে সাইকেল রাইড করতে গিয়ে স্যালাইনের চেয়ে উপকারী বন্ধু আর কে ই বা হতে পারে।

রোদ থেকে বাঁচতে সর্বোচ্চ সুরক্ষা

রাইডারদের অসুস্থ হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ সূর্যের বিকিরণ বা রেডিয়েশন। সানস্ক্রিন ক্রিমের আস্তরণ হয়তো চামড়াকে কিছুক্ষণের জন্য রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করে, তবে তাও চিরকালীন নয়। ঘামের সাথে সানস্ক্রিনও ঝরে পড়ে যায় কিছু সময় পরই।

রোদ পোড়া থেকে চামড়াকে বাঁচাতে চাই সানস্ক্রিন ক্রিমের সঠিক ব্যবহার ; Image Source: youtube.com

ভালো সানস্ক্রিন দেয়ার পর বড়জোর দুই ঘন্টার জন্য ত্বক সুরক্ষিত থাকে, তাই সাথে সানস্ক্রিন ক্রিম রাখা ভালো।

রোদ থেকে বাঁচতে তাই পর্যাপ্ত পোশাক প্রয়োজন। ছইওয়ালা টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

ছইওয়ালা টুপি বা ক্যাপ মাথা এবং মুখকে বাঁচাবে রোদ থেকে ; Image Source: cashflowblog.com

একটা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, শরীর খোলা থাকে এমন ড্রেস রাইডিং এর জন্য ভাল গরমকালে। গরমকালে রোদের সরাসরি তাপ যাতে শরীরে না লাগে এবং বাতাস দেহের ত্বককে দ্রুত শুষ্ক করতে না পারে, সেজন্যই পাতলা কিন্তু শরীর ঢেকে থাকে এমন কস্টিউম বেশি উপকারী।

ঘেমে যাওয়া এবং তা দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া ডিহাইড্রেশনকে ত্বরান্বিত করে।

গরমে রাইডের পূর্ব প্রশিক্ষণ

আপনি পর্যাপ্ত পানি এবং তরল পান করতে পারেন, সঠিক গিয়ার, এক্সেসরিজ এবং ড্রেসের সমন্বয়ে রাইড শুরু করতে পারেন, তবুও আপনি অসুস্থ হয়ে পড়ার একটা সম্ভাবনা থাকবে যদি না আপনার গরমকালে অত্যাধিক তাপমাত্রায় রাইডিং এর পূর্ব প্রশিক্ষণ নেয়া না হয়ে থাকে৷

প্রশিক্ষণ করে তোলে রাইডারকে প্রস্তুত ; Image Source: chasesun.org

প্রশিক্ষণের সময় ঘেমে যাওয়া শরীর আপনাকে গরমে রাইড করার জন্য প্রস্তুত করে তুলবে৷

আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই শরীর থেকে সঠিক মাত্রার হরমোনাল টুইকস ঘটতে শুরু করবে যা পরবর্তীতে রাইডিং এর সময় শরীর থেকে তরল ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবে।

এখানে দুইটি আলাদা টিপস দেয়া হলো প্রশিক্ষণের যা গরমেও ফিটনেস ধরে রেখে রাইডে সহায়তা করবে,

সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় রাইডিং

সপ্তাহে অন্তত একদিন মধ্য দুপুরে যখন সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকে, তখন রাইডে বেরুনো উচিৎ, প্রথম দিনে অল্প সময়ের জন্য এবং ধীরে ধীরে সময় এবং দূরত্ব বাড়ানো যেতে পারে।

প্রথম দিকে এ ধরণের প্রশিক্ষণ ভীষণ কষ্টকর এবং অস্বস্তিকর মনে হলেও পরবর্তী এই অভ্যাসটাই ভীষণ কাজে লাগবে।

থাকুন চর্বিহীন এবং ফিট

নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনিতেই শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমতে থাকবে, অতিরিক্ত চর্বি এমনিতেই শরীরকে অল্পতে ক্লান্ত করে ফেলে। অন্য দিকে গরমও অনুভূত হয় বেশি চর্বির কারণে।

সুতরাং অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফিট থাকার মাধ্যমে গরমে রাইডিং হতে পারে তুলনামূলক কম কষ্টকর এবং বেশি আনন্দদায়ক।

নিজেকে সীমাবদ্ধতা মনে রাখুন

আপনার জানা প্রয়োজন কী পরিমাণ পানীয় রয়েছে আপনার, কতটা তাপমাত্রা মাথার ওপর এবং আপনার শরীর আর কতটুকু সহ্য করতে পারবে।

প্রশিক্ষণের সময় ড্রিংকিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করে, মধ্যবর্তী বিশ্রামের সময় বাড়িয়ে কমিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করে নিজের সর্বোচ্চ উপযোগিতা কোথায় তা বের করতে হবে।

যখন আপনি রাইড করবেন, শুধু ফিটনেসের কথাই চিন্তা না করে বাহ্যিক পরিবেশে নিজে সহ্য ক্ষমতা কতটা, তাও বের করে নেয়া উচিৎ।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের শক্তির জায়গা এবং দূর্বলতার জায়গা, দুটোই জানা থাকলে পরবর্তী রাইড অনেক সহজ এবং নিরাপদ হয়ে যায় রাইডারের জন্য।

গরমে ঠান্ডা থাকার কিছু পকেট টিপস

*পানীয়ের জন্য রাইডে যদি আপনার খুব সীমাবদ্ধ সুযোগ এবং সময় থাকে, তাহলে হিসেবটা জেনে রাখুন, প্রতি চার ঘন্টায় গরমে শরীরে প্রায় ৭৫০ এমএল ঘাম বের হয়ে যায়। সে অনুযায়ী পানি ও তরল পানের সময় সুযোগ বের করে নিন।

*মধ্যবর্তী বিশ্রামের সময় অবশ্যই ছায়ায় থামার চেষ্টা করুন।

*রাইডিং এর সময়ও যদি রাস্তার পাশে গাছ থাকে এবং ছায়াতে চালানোর সুযোগ থাকে, অবশ্যই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন।

*অবশ্যই অ্যালকোহল এবং কফি জাতীয় পানীয় সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে হবে।

প্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ

*গরমে লম্বা রাইডের জন্য ভেন্টেড হেলমেট সবচেয়ে উপযোগী।

*হালকা রঙের জামা বিশেষত সাদা সবচেয়ে উপকারী কারণ এসব রঙ তাপ কম শোষণ করে৷

*এনার্জি পাউডার অথবা এনার্জি জেলের কৌটা বা টিউব সাথে রাখা যেতে পারে।

*ছোট সাইজের সানস্ক্রিন ক্রিমের কৌটা।

*মানিব্যাগে কিছু অতিরিক্ত টাকা যা আইসক্রিম, বরফ এবং হাই ক্যালরি সমৃদ্ধ স্ন্যাকস কেনা যেতে পারে প্রয়োজনে।

আশা করা যায়, এসব প্রস্তুতি আপনার সাইক্লিং কে করে তুলবে আনন্দদায়ক এবং উপভোগ্য গ্রীষ্মকালীন দুপুরেও।

হ্যাপি সাইক্লিং!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *