in ,

গাড়ি ধুয়ে পরিষ্কার রাখার টিউটোরিয়াল

সদ্য ধুয়ে পরিষ্কার করে বের করা গাড়ির সামনের চকচকে ডালা যখন রোদে ঝিলিক দিয়ে ওঠে, সে দৃশ্য বোধহয় একজন গাড়িপ্রেমীর জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য, আর গাড়ির মালিকের জন্য তো বটেই। তবে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, গাড়ি ধুয়ে পরিষ্কার করার কথা বলা যতটা সহজ, করা ঠিক ততটা সহজ নয়।

আবার গাড়ি পরিষ্কার এবং দীর্ঘকালীন সুরক্ষার জন্য নিয়মিত ওয়াশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমস্যা হচ্ছে কার ওয়াশ বেশ ভালো রকমের ব্যয়বহুল, কার ওয়াশ সেন্টারগুলো প্রায় গলা কাটা বিল করে, তাই খুব উচ্চমাত্রার ধনী না হলে নিয়মিত কার ওয়াশ সেন্টারগুলো থেকে গাড়ি ধোয়া মোটামুটি অসম্ভব।

আর এসব সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে নিজেই কার ওয়াশের খুঁটিনাটি শিখে ফেলা,

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র

গাড়িটিকে সবচেয়ে ভালো চেহারায় দেখতে এবং কোন ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে চাইলে, প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, সঠিক যন্ত্রটি সংগ্রহ করা। গাড়ি পরিষ্কার করতে এবং ধুয়ে মুছে চকচকে করে তুলতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে তার একটি তালিকা নীচে তৈরী করা হল,

*বিভিন্ন সাইজের মুখসহ পানির নল

*নরম স্পন্জ অথবা কার ওয়াশ মিট

*কার ওয়াশিং লিকুইড

*চাকার ব্রাশ

*কয়েকটি মাইক্রো ফাইবারের কাপড়ের টুকরো

*একটি বড় মাইক্রো ফাইবারের টাওয়েল

*ইন্টেরিয়রের জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার

*রাবার গ্লাভস

*হুইল ক্লিনার

*পেপার টাওয়েল

*উইন্ডো ক্লিনার

গাড়ি ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ; Image Source: beavan.com

অন্যদিকে, কার ওয়াশিং ডিটারজেন্ট ছাড়া অন্য যে কোন কিছু যেমন, ডিশওয়াশিং লিকুইড, হ্যান্ড সোপ ইত্যাদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। কার ওয়াশিং ডিটারজেন্ট পর্যাপ্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরী হয় বলে এটি গাড়ির পেইন্টের কোন ক্ষতি করে না।

এবং সবশেষে প্রয়োজন দুটো বালতি পানি রাখার জন্য, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা একই বালতি থেকে লিকুইড সোপ নিই, একই বালতিতে স্পন্জ ভেজাই৷ ফলে আমরা ঠিক গাড়ি পরিষ্কার করার পর আবার একই ময়লা গাড়িতে গিয়ে লাগাই৷ দুটো বালতি এই সমস্যার চমৎকার সমাধান করে দিতে পারে।

কোথায় এবং কখন

জায়গা এবং সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি ধোয়ার জন্য। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা গাড়ি ধোয়ার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে রোদ ঝকঝকে উচ্চ তাপমাত্রায়।

এটি খুবই ভুল ধারণা, কারণ খুব দ্রুত পানি এবং সাবান শুকিয়ে যাওয়া মানে গাড়িতে, জানালার কাঁচে দাগ থেকে যাওয়া।

সঠিক স্থান এবং সময় নির্বাচন করতে হবে ; Image Source: budgetdirect.com.au

তাই গাড়ি ধোয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে মেঘলা আবহাওয়া, যখন আপনি পর্যাপ্ত সময় পাবেন যত্ন সহকারে গাড়ি পরিষ্কার করার।

জায়গা হিসেবে কম ব্যস্ত ফ্লাট এবং ছায়াময় জায়গার কোন পার্কিং লট খোঁজা যেতে পারে, যেখানে সহজেই আপনি গাড়ির দুটো দরজা খোলার জায়গা পাবেন ইন্টেরিয়র পরিষ্কার করার সময়।

চাকা পরিষ্কার

সকল জিনিসপত্র এবং জায়গা নির্বাচনের পর গাড়ি পরিষ্কারের মূল কাজ শুরু, আর তা শুরু করতে হবে চাকা পরিষ্কারের মাধ্যমে। কারণ চাকা, রাবারের টায়ার ইত্যাদিতে সবচেয়ে বেশি নোংরা জমে আর এই নোংরা কখনোই আপনি আপনার গাড়িতে লাগতে দিতে চাইবেন না, তাতে গাড়ির পেইন্ট নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

চাকা পরিষ্কার অন্যান্য ধাপের চেয়ে একটু বেশিই কঠিন ; Image Source: shutterstock.com

চাকা পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজন সাবান জল এবং ভালো মাজুনী। চাকা পরিষ্কারের জন্য একটু সময় লেগে যায়, এবং খাটুনিও বোধকরি কিছুটা বেশি।

তবে ধৈর্য্য ধরে করে ফেলাই ভালো কারণ পরবর্তী ধাপগুলো তুলনামূলক সহজ।

চাকা পরিষ্কারের জন্য ভালো ব্র্যান্ডের হুইল ক্লিনার ব্যবহার করুন, সস্তা খোলাবাজারের সাবান এবং ডিটারজেন্ট চাকা এবং টায়ারের ক্ষতি করতে পারে।

চাকা ধোয়ার সময় টায়ার ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করুন এবং নাটগুলো পরিষ্কার করতেও ভুলবেন না।

এক্সটেরিয়র পরিষ্কার

আপনার গাড়ির চাকা ঝকঝকে পরিষ্কার?

তাহলে এখন সময় চাকার সাথে গাড়ির বাকি অংশকে মানানসই করে তোলা। তবে শুরুতেই গাড়ি ঘষতে শুরু করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, জলের নল দিয়ে সব শক্ত ধরণের নোংরা গাড়ি থেকে ঝেড়ে ফেলা হয়েছে। কারণ শক্ত ধরণের কোন নোংরা গাড়ির গায়ে লেগে থাকলে ঘষে পরিষ্কারের সময় গাড়িতে যেমন দাগ পড়তে পারে তেমনি অসাবধানতার কারণে কাটতে পারে হাতও।

নল দিয়ে গাড়ির পুরো বডি ধোয়ার জন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে সুবিধে হয়, যেমন প্রথমে ছাদ, তারপর পেছনের জানালা এবং সামনের জানালা, এরপর বনেট, ট্রাঙ্ক এবং সবশেষে ডোর পরিষ্কারের মাধ্যমে কার ওয়াশের আসল অংশ এক্সটেরিয়র ওয়াশ সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

জানালার কাঁচ, আয়না, উইন্ডস্ক্রিন পরিষ্কার

শুধু দেখতে ভালো লাগবে বলে নয়, এগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার করা এবং পরিষ্কার রাখা আমাদের নিরাপত্তার জন্যও জরুরী। ড্রাইভারের জন্য গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়ায় যদি এগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার করা না থাকে আর ড্রাইভারের দেখতে সমস্যা হয়৷

কাঁচের যে কোন কিছু সাবধানে নেয়া উচিৎ কারণ তাতে দাগ পড়ার সম্ভাবনা থাকে ; Image Source: 123rf.com

টিন্টেড কাঁচ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে খানিকটা সোজা সাপ্টা নিয়ম কানুন, গ্লাস ক্লিনার এবং পেপার টাওয়েল হাতে নিন, পেপার টাওয়েল রেখে তারপর ক্লিনার স্পে করুন। ফলে ক্লিনার অন্যান্য জায়গায় পড়ে অন্য সারফেস নষ্ট করতে পারে না।

আনটিন্টেড গ্লাসের ক্ষেত্রে, সফট মাইক্রো ফাইবার এবং স্যোপি ওয়াটার ব্যবহার করতে হবে।

আর অতি জরুরী সাবধানতা, গাড়ি বডি ধোয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন গাড়িতে কোন ইলেকট্রিক কানেক্টর খোলা আছে কিনা, গাড়ি ধোয়ার সময় সল্প ব্যাটারি থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে৷

ইন্টেরিয়র পরিষ্কার

এক্সটেরিয়র পরিষ্কারের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে পরিষ্কারের পর চকচকে নতুনের মত গাড়ি দেখে পরিশ্রমের কথা ভুলে যাওয়া যায়৷ তবে ইন্টেরিয়র পরিষ্কারের ব্যাপারটা ভিন্ন। এটা খোলা চোখে দেখা যায় না বলে অনেকেই তেমন গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু গাড়ির ইন্টেরিয়র পরিষ্কার না রাখলে আপনি কখনোই আপনার জার্নি পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন না।

বাইরে চকচকে রেখে ভেতরে নোংরা রাখলে তাতে ভালো জার্নি উপভোগ করা হবে না ; Image Source: inoutcarwash.com

প্রথমে গাড়ির ভেতরের পুরোটা ভালোভাবে চেক করুন, আপনার কোন দরকারী জিনিস পড়ে রয়েছে কিনা, তাহলে তা ভ্যাকুয়ামে হারিয়ে যেতে পারে৷ দেখে নেয়ার পর ভ্যাকুয়ামে ক্লিন করতে শুরু করুন। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার যে কোন এক দিক থেকে এগুতে শুরু করুন, এতে ধারাবাহিকতা থাকবে এবং কোন জায়গা পরিষ্কারের বাদ থাকবে না৷

ভ্যাকুয়াম করা শেষ হলে ব্রাশ দিয়ে ব্রেক, প্যাডেল ইত্যাদি মুছে পরিষ্কার করে ফেলুন। শেষে টাওয়েল ব্যবহার করুন মুছে ফেলার জন্য।

শেষ কথা ; গাড়িকে পরিষ্কার রাখুন

গাড়ি যদিও নিয়মিত ওয়াশ করতেই হয়, তারপরও যদি আপনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে না করেন, তাহলে নিয়মিন ওয়াশের পরও গাড়ির লুকে যেমন পরিবর্তন আসবে না, তেমনি গাড়ির আয়ুও কমতে থাকবে দিনকে দিন।

তাই গাড়িই হোক কিংবা মোটরসাইকেল ওয়াশ, নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি পরিষ্কার রাখাও জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *