in

গাড়ীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন উপায়

Car Maintenance Efficiency
Car Fuel Economy Efficiency

গাড়ি কেনার পরবর্তী যে ব্যাপারটি সবার আগে মাথায় রাখতে হয় তা হচ্ছে গাড়ির জ্বালানি কোথা থেকে নেয়া হচ্ছে এবং এতে খরচ কতটুকু হচ্ছে। সাধারণত, বাজেটের ভেতরে গাড়ি কেনার সময় এই ব্যাপারটি উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে, গাড়ি কেনার পর সাধারণত ফুয়েল (জ্বালানি) নিয়ে ক্রেতার হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা করা এবং এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। যদিও বর্তমানে হাইব্রিড ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহার করার জন্য ক্রেতাকে যথাসম্ভব উৎসাহিত করা হচ্ছে কিন্তু দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা মূলত অটো এবং ম্যানুয়াল গাড়ির দিকে বেশি উৎসাহী। সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি কেনা এবং ব্যবহারের কিছু টিপস নিয়ে আমাদের আজকের ফিচার।

মাত্রাতিরিক্ত দ্রুত গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা

হাতে স্টিয়ারিং আর পায়ে প্যাডেল আসার পরপরই সবার মধ্যে একটা পৈশাচিক আনন্দ আসে। মনে হয় আজ সবার আগে এবং দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে নেবার ক্ষমতা একমাত্র আমারই। কিন্তু আপনি যদি জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামিয়ে থাকেন তাহলে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে নিজেকে বিরত করতে হবে। কেননা, যার গতি যত বেশি বৃদ্ধি পাবে, জ্বালানি তত বেশি খরচ হবে। 

Image Source: Pixabay.com

অপ্রয়োজনীয় ব্রেক না দেয়া

গাড়ী থামানোর সময় ব্রেকের দিকটা মাথায় রাখা উচিত। হঠাৎ করে ব্রেক করার ফলে গাড়ি তার জ্বালানিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে ফেলে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি নষ্ট হয়। তাছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় যে, ট্রাফিক লাইট হলুদ হবার সাথে সাথে এক্সেলেটর চাপ দেওয়া হয়। এতে পরিমাণে বেশি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।

গাড়ির সাথে মানানসই জ্বালানি

সাধারণত দেখা যায় যে, উৎপাদক যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন তা অনেকেরই পছন্দ নয়। অনেক সময় দেখা যায় যে, খুবই কম দামি পেট্রোল ব্যবহার করার কথা বলা হয়, দামি অকটেনের জায়গায়। সেক্ষেত্রে, যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়, সে ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত। কেননা উৎপাদক কর্তৃক তা অবশ্যই পরিক্ষিত হয়ে এসেছে।


Image Source: Pixabay.com

অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাফেরা না করা

অনেক সময় দেখা যায়, গাড়িতে অতিরিক্ত জিনিসপত্র রাখা হয়ে থাকে। এতে গাড়ির ওজন বৃদ্ধি পায়। গাড়ির ওজন যত বৃদ্ধি পাবে, তত বেশি জ্বালানি খরচ হবে। ঠিক যেমন আমরা যখন অতিরিক্ত ভারি জিনিস নিয়ে চলাফেরা করলে আমাদের দেহ হতে শক্তি খরচ হয়। তাই খেয়াল রাখতে হবে যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওজন বহন করা না হয়।

অপ্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা

ঠিক যেমনটা প্রথমে বলা হয়েছে, ওজন বৃদ্ধি পেলে গাড়ির জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। ঠিক তেমনই অপ্রয়োজনীয় এক্সসেসারিজ ব্যবহার করলে গাড়ির ওজন বৃদ্ধি পাবে। অপ্রয়োজনীয় এক্সসেসারিজ বলতে রুফ ড্রেগ কিংবা অন্যান্য স্টোরেজ এক্সসেসারিজ যা হয়ত বা গাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে কিন্তু সেই সাথে ওজনকেও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।

অযথা ইঞ্জিন চালু রাখা

অনেকে অনেক সময় ট্রাফিক সিগন্যালের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অযথা গাড়ির ইঞ্জিন চালিয়ে রাখেন। অনেক সময় বন্ধ করতে ভুলে যান কিংবা সময়ের অপচয় রোধ করতে এই ধরনের কাজ করেন অনেকে। কিন্তু এতে হয়তো সময়ের অপচয় রোধ হয় ঠিকই কিন্তু সেই সাথে গাড়ির জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যেন অযথা গাড়ির ইঞ্জিন চালু না রাখা হয়।

Image Source: Pexels.com

এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন

সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন করা জরুরি। এতে আরো বেশি মাইলেজ পাবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

রক্ষণাবেক্ষণ

গাড়ি কেনার পর গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক সময় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে গাড়ি ভালো থাকবে এবং সেই সাথে জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও রোধ করা যাবে।

দীর্ঘক্ষণ ধরে ইঞ্জিন চালু না রাখা

সাধারণত গাড়ি চালানোত আগে গাড়িকে গরম করে প্রস্তুত করা হয়ে থাকে যাকে ওয়ার্ম আপ বলে। কিন্তু বেশিক্ষন ধরে গাড়ী চালিয়ে রেখে ওয়ার্ম আপ করলে গাড়ি তত বেশি ফুয়েল ব্যবহার করবে। বড়জোর ৩০ সেকেন্ডে একটি গাড়ীকে চালানোর জন্য প্রস্তুত করা উচিত।

টায়ার প্রেসার নিয়মিত চেক করা  

টায়ার এর প্রেসার যাতে সঠিক থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। উৎপাদক কর্তৃক যতটুকু প্রসারের নির্দেশনা দেয়া আছে ঠিক ততটুকু প্রেসার রাখা আবশ্যক।

Image Source: Pexels.com

প্ল্যানিং করে ঘুরতে যাওয়া

দূরে কোথাও ঘুরতে গেলে সব সময় প্ল্যান করে তারপর যাওয়া উচিত এতে করে অতিরিক্ত তেলের খরচ কমানো সম্ভব।

অযথা এসি চালু না রাখা

অপ্রয়োজনে এসি না চালিয়ে রাখাই ভালো কেননা গাড়ীর এসি সাধারনত ফুয়েলের সাহায্য চালানো হয়ে থাকে। যদি অতিরিক্ত গরম না পরে তাহলে গাড়ির এসি বন্ধ রেখেও ফুয়েলের ব্যবহার কমানো যেতে পারে

আপনার গাড়ীর যত্নে প্রয়োজনীয় কিছু টিপস

সর্বশেষ বলা যেতে পারে যে একটি গাড়ি পিছনে সাধারনত অনেক মুল্য ব্যয় করতে হয় যা মধ্যবিত্তদের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সঠিক ভাবে এবং ভেবে চিনতে সিদ্ধান্তে পৌছালে অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যয়ের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করা সম্ভব। ফুয়েল হচ্ছে গাড়ির একটি অপরিহার্য অংশ। আমরা যেমন দেহে শক্তির জন্য খাবার খেয়ে থাকি ঠিক তেমনই গাড়িরও খাদ্যের প্রয়োজন। সুতরাং কম খরচে যাতে ফুয়েল পাওয়া যায় এবং তা যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা হয়ত ফুয়েলের দাম কমাতে পারব না কিন্তু খরচ এর দিক থেকে ঠিক সাশ্রয় হতে পারব সে দিক থেকে উপরে বর্নিত বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করলে যথাসম্ভব খরচ বাচানো সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *