in

মোটরসাইকেল পারফরম্যান্স বাড়ানোর দশটি উপায়

মানুষ মোটরসাইকেল কেনে, যেহেতু গাড়ির মতো খুব বেশি না হলেও দামটা নেহায়েত কমও না, তাই বেশ অনেকদিন ধরেই ব্যবহার করে কিংবা করার আশা নিয়েই কেনে। সেরা মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডদের ফিচারে তাই ডিউরেবিলিটি বা স্থায়িত্বও বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থান দখল করে।

তারপরও আমরা প্রায় সবার কাছেই একটা অভিযোগ শুনি, তাদের বাইক শুরুতে যেভাবে সার্ভিস দিতো, সময়ের সাথে সাথে সেই পারফরম্যান্স কমে গেছে। যেহেতু সিংহভাগ রাইডারের এই অভিযোগ রয়েছে, তাই একে আমরা একটা কমন ইস্যু হিসেবে ধরে নিয়েছি। গবেষণা করে দেখা গেছে, পুরনো হওয়ার পাশাপাশি আরো ভিন্ন ভিন্ন কিছু ব্যপার রয়েছে যার কারণে মোটরসাইকেলের কর্মদক্ষতা নতুনের মত থাকে না।

আজ আমরা দশটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলো জেনে নিয়মিতভাবে অনুসরণ করলে আপনি নিজেই আপনার মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স বুস্ট আপ করে নিতে পারবেন।

তাহলে চলুন দেখেই নেয়া যাক আজকের রেসিপি, কিভাবে মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স বুস্ট করবেন

মানুষের যেমন বেঁচে থাকার জন্য খেতে ঘুমাতে হয়, তাতে শরীর বেঁচে থাকে। তেমনি আত্বাকে বাঁচিয়ে রাখতে আরো অনেককিছু করতে হয় সময় করে, কেউ গান শোনে, কেউ বই পড়ে, কেউ মুভিতে খুঁজে পায় মনের রসদ।

বলা হয়ে থাকে, রাইডারের আত্মা ঘুমায় মোটরসাইকেলে, প্যাশনেট রাইডারদের সাথে তাদের বাইকের আত্বিক যোগাযোগ থাকে৷

আবার বলা হয়ে থাকে, মোটরসাইকেল রাইডিং এর অন্য নাম স্বাধীনতা, আর স্বাধীনতার ব্যাপারটি কি আর অন্য কোন কিছুর সাথে তুলনা হতে পারে?

আর যদি আত্বিক যোগাযোগ থাকা আত্বার সাথে যোগাযোগ দিনকে দিন কমতে থাকে কিংবা পড়ে স্বাধীনতায় কোন হস্তক্ষেপ?

বিমর্ষ হয়ে মুষড়ে পড়ারই কথা। কিন্তু বেলাশেষে মোটরসাইকেল একটা মেশিনই, এর পার্টস চলতে চলতে ক্ষয়ে যায়, কর্মদক্ষতা কমে, বাইক পারে না প্রথমের মত আনন্দ তার রাইডারকে দিতে।

তবে এসব সামলাতে কিছু মৌলিক এবং নির্দিষ্ট মেয়াদী ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাছাড়া কিছু অন্তর্বর্তী পর্যায়ের ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন হয় যা কোন সারাই হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। এসবও বাইক ব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে কিংবা পারফরম্যান্স বাড়ানোর টেকনিক হিসেবে একটা লম্বা বিরতির পর ধরতে পারবেন।

বুস্ট টিপসগুলোকে আমরা তাই দুটো ভাগে ভাগ করে দেখিয়েছি এখানে,

বেসিক লেভেল

বেসিক লেভেলের পরামর্শ গুলো মোটরসাইকেল কেনার প্রথম দিন থেকেই অনুসরণ করা উচিৎ। বেসিক লেভেলের টিপসগুলো নিয়ে প্রথম ভাগে আলোচনা করবো আমরা,

কোয়ালিটি ফুয়েল

সবসময় ভালো মানে ফুয়েল ব্যবহার করুন। অল্প কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে কমদামী ফুয়েল যে মোটরসাইকেলের বৃহৎ ক্ষতি করে ফেলে, তা অনেকেরই মাথায় থাকে না।

ভালো মানের ফুয়েল ব্যবহার করুন ; Image Source: motorcycledaily.com

একই সাথে ফুয়েল সংগ্রহ করতে হবে সুখ্যাতি সম্পন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে, যাদের সচরাচর ভুল/ভেজাল ফুয়েল দেয়ার দুর্নাম নেই। এটি সত্যিকার অর্থেই আপনার মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স বাড়াবে।

স্পার্ক প্লাগ

সবসময় পরিষ্কার এবং ভাল প্রস্তুতকারক দ্বারা তৈরী স্পার্ক প্লাগ ব্যবহার করুন। প্রস্তুতকারকের পরামর্শ মেনে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর পর ইলেট্রোড গ্যাপ পরীক্ষা করে দেখুন।

স্পার্ক প্লাগ পরিষ্কার করতে হবে নিয়মিত ; Image Source: dhgate.com

প্লাগের পারফরম্যান্স ভাল কিংবা খারাপ যাই হোক, সোস্যাল সাইটগুলোতে তার রিভিউ এবং রেটিং দিয়ে রাখতে পারেন যা পরবর্তীতে সকল রাইডারের জন্যই উপকারী হয়ে উঠতে পারে।

এয়ার ফিল্টার

এয়ার ফিল্টার সবসময় পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন। নিয়মিত বিরতিতে ভেতরের উপাদান পরিষ্কার করুন। অবশ্যই নষ্ট হওয়ার পূর্বেই বদলে ফেলুন।

এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে ; Image Source: banggood.com

খোলা বাজারের এয়ার ফিল্টার প্রয়োজন হলে আপনার মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ডের পরামর্শকে অনুসরণ করুন।

ইন্জিন ওয়েল

প্রস্তুতকারকের পরামর্শের সাথে সাথে গ্রেড এবং রেটিং দেখে ইন্জিন ওয়েল ব্যবহার করুন। সুখ্যাতিসম্পন্ন ব্র্যান্ডের ইন্জিন ওয়েল ব্যবহার করুন এবং একই ব্র্যান্ডে স্থির থাকুন, হুট করে ইন্জিন ওয়েলের ব্র্যান্ড বদলে ফেলা ভালো রকমের ক্ষতিকর।

চেইন

নিয়মিত বিরতিতে চেইনে লুবরিক্যান্ট ব্যবহার করুন এবং লিউব ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভালভাবে চেইনটি পরিষ্কার করে নিন।

চেইন এবং সুইং আর্মের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন ; Image Source: youtube.com

চেইনের সাথে এবং চাকার অবস্থানের সাথে সুইং আর্মগুলো ঠিকভাবে সেট আছে কিনা, তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করে দেখুন।

ব্রেক

ব্রেক মেকানিজমকে সরাসরি কাজ করার সুযোগ দিন। ব্রেক ক্লিপারের সমাবেশ এবং ড্রাম ব্রেকিং মেকানিজমকে শ্রেণীবিন্যাস করে নিন যাতে চাকা ঠিকভাবে ঘুরতে পারে।

ব্রেক মেকানিজম কোনভাবে বাঁধা পাচ্ছে কিনা খেয়াল করুন ; Image Source: bikebandit.com

আবার, ব্রেককে সমন্বিত করে ক্লাচ ক্যাবলকে মুক্ত রাখুন। টায়ার টায়ারে সবসময় সঠিক মাত্রার এয়ার প্রেসার রাখুন। এটি মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স এবং রাইডারের নিরাপত্তার সাথে সরাসরি সংযুক্ত।

তাই আপনার মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পিএসআই(PSI) নির্বাচন করুন।

ইন্টারমিডিয়েট লেভেল

যখন কেউ মোটামুটি লম্বা একটা সময় মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করে ফেলে, তখনই প্রয়োজন হয় ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের ব্যবস্থাপনা যা মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স বাড়ায় এবং পুনর্বিন্যাস করে।

তবে আমাদের মনে রাখা উচিৎ এটা একটা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং এবং কোন ভাবেই একে মেরামত হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

এ ধরণের রক্ষণাবেক্ষণ শুধু সেসব মোটরসাইকেলেই করতে হবে যেগুলো বড় একটা সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

এবং এসব অনুসরণ করতে হবে বেসিক লেভেলে দেয়া পরামর্শগুলোর পাশাপাশি যা আমরা আগে পড়ে এসেছি।

চলুন দেখে নেয়া যাক এবার,

ভালভ সমন্বয়

ভালভ সমন্বিত করে নিন। ভালভ ক্লিয়ারেন্স এবং ট্যাপেস্ট সমন্বয় করুন।

ভালভ এডজাস্টমেন্ট করতে হবে দক্ষ হাতে ; Image Source: bikesrepublic.com

যেহেতু এ ধরণের কাজ বেশ জটিল, অবশ্যই কাজটি কোন সস্তা মেকানিকের দোকান থেকে করাবেন না। আপনার মোটরসাইকেল কোম্পানির অথোরাইজড মেকানিকাল শপ কিংবা কোন সুখ্যাতি সম্পন্ন মেকানিককে দিয়ে করিয়ে নিন। করানোর আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন, কাজটি করার মত প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং যন্ত্রপাতি তার রয়েছে কিনা।

চেইন সমন্বয়

চেইনের টাইমিং সমন্বয় করে নিন। চেইনের টাইমিং সরাসরি মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স এবং স্মুথনেসের সাথে সম্পর্ক যুক্ত।

চেইন এডজাস্টমেন্টের উপর সার্বিক কার্যক্রম নির্ভর করে ; Image Source: fortnine.ea

সুতরাং একটা নির্দিষ্ট সময় মোটরসাইকেল চালানোর পর এমন সেনসেটিভ একটা জায়গার রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরী।

কার্বুরেটর

কার্বুরেটর অথবা ফুয়েল ইনজেকটর এবং থ্রোটল বডিকে পরিষ্কার রাখুন। যদি প্রয়োজন হয় ইসিইউ (ECU) ম্যাপিং আপডেট করাতে পারেন কিন্তু ডিফল্ট সেটিংসকে সবসময়ই উত্তম বলে ধরে নেয়া হয়।

কার্বুরেটরে ডিফল্টই সর্বোত্তম হয় সাধারণত ; Image Source: dansmc.com

আর এতেও সেই একই পরামর্শ, এ ধরণের জটিল কাজে অবশ্যই সস্তা মেকানিকের দোকান পরিত্যাজ্য, পরামর্শ থাকবে মোটরসাইকেল কোম্পানির অথোরাইজড সার্ভিস সেন্টার থেকে করানোর।

প্রিয় রাইডারস, এই ছিল আমাদের রেসিপি যা আপনার মোটরসাইকেল পারফরম্যান্স বাড়াবে এবং দীর্ঘস্থায়ী করবে। তাই যারা নিয়মিত বিরতিতে মেইনটেনেন্স শপে যায় এবং কাজগুলো করিয়ে নেয়, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই, যারা করেন না, তারাও হতে পারেন সচেতন। নিয়মিত ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্ন সব মোটরসাইকেলের সেরা সার্ভিসটা বের করে আনতে সাহায্য করে৷

উপরে বলা বেশিরভাগ রক্ষণাবেক্ষণ নিজে নিজেই কিংবা স্থানীয় সার্ভিস সেন্টারে করে নেয়া সম্ভব৷ তবে কিছু জটিল ক্ষেত্রে দক্ষ হাতের সাহায্য প্রয়োজন, সাথে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির।

বেশিদিন ধরে সেরা পারফরম্যান্স পেতে মোটরসাইকেলের প্রতি যত্নশীল হন এবং নিয়মিত বিরতিতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করুন।

রাইড সেইফ & স্টে সেইফ ; চিয়ার্স!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *