in

যেভাবে মোটরসাইকেল গিয়ার পরিবর্তন করবেন

মোটরসাইকেল প্রথম প্রথম চালানোর সময় বাইকার যে জিনিসটা নিয়ে বিপত্তিতে পড়ে তা হলো গিয়ার (Gears) পরিবর্তন করা। সেই গিয়ার পরিবর্তন করার কাজটি সহজ করার জন্য আজকের এই আর্টিকেল। গিয়ার পরিবর্তন করা সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে মোটরসাইকেলের কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। এগুলো সম্পর্কে জানলে গিয়ার পরিবর্তনের কাজটা সহজ হয়ে যায়।

থ্রোটল (Throttle)

এটি ইঞ্জিন চালু করতে সাহায্য করে।

ক্লাচ (Clutch)

এটি ধীরে ধীরে ছাড়তে থাকলে মোটরসাইকেল চলতে শুরু করে এবং এটি ধরে রাখলে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।

গিয়ার শিফটার (Gear Shifter)

এটি দ্বারা আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী গিয়ার বাড়াতে কিংবা কমাতে পারবেন।

আপনার বাইকের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন; Source: 4usky

কী প্যাটার্নে গিয়ার পরিবর্তন করবেন?

একেক ধরণের মোটরসাইকেলে গিয়ারের প্যাটার্ণ একেকরকম থাকে। এছাড়া, এটি সম্পুর্ণ বাইকারের উপর নির্ভর করে। তারপরও আপনার সুবিধার্থে নীচের প্যাটার্নটি দেওয়া হলো।

  • ৬ষ্ঠ গিয়ার
  • ৫ম গিয়ার
  • ৪র্থ গিয়ার
  • ৩য় গিয়ার
  • ২য় গিয়ার
  • নিরপেক্ষ (Neutral)
  • ১ম গিয়ার

বেশিরভাগ বাইক ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি উপরের গিয়ার প্যাটার্ন অনুসরণ করে থাকে। আর যদি আপনার বাইকের অন্য কোনো গিয়ার প্যাটার্ন থাকে তবে তার সাথে একটু মানিয়ে নিতে হবে। বেশিরভাগ ১৫০ সিসির বাইকেই উপরের গিয়ার প্যাটার্ন ব্যবহার করে।

নিয়মিত অনুশীলন করুন; Source: Ecosia

প্রথম গিয়ার কীভাবে পরিবর্তন করবেন?

  • বাইকের ক্লাচটা আপনার দিকে টেনে ধরুন।
  • আপনি যে গিয়ারেই থাকেন না কেন, গিয়ার পরিবর্তন করুন।
  • বাইকের থ্রোটল চালু করে ইঞ্জিনকে সামনে এগিয়ে যাবার শক্তি দিন ।
  • আপনার থ্রোটল বাড়াবার সাথে সাথে আস্তে আস্তে ক্লাচটা ছাড়তে থাকুন ।
  • থ্রোটল ও ক্লাচ দুটাই আস্তে আস্তে ছাড়তে থাকুন, বিষয়টা যেন একই সাথে এবং একই সময়ে হয়। এবার দেখতে পাবেন, আপনার বাইকটি আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ।
  • বাইকটি যখন চলতে শুরু করবে তখন গতি বাড়াতে থ্রোটল বাড়াতে থাকুন এবং বাইক অতিরিক্ত শব্দ করার সাথে সাথে ২য় গিয়ারটি পরিবর্তন করুন ।

খুব দ্রুত কিংবা দেরিতে গিয়ার পরিবর্তন করবেন না; Source: iloster

পরবর্তী গিয়ারগুলো ক্ষেত্রে কী করবেন?

প্রথম গিয়ারের পরের গিয়ারগুলো পরিবর্তন করার জন্য আসলে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মকানুন নেই। এটি আপনাকে নিজে থেকে অনুভব করে করতে হবে। আপনার ইঞ্জিনের শব্দ যখন অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে, তখন আস্তে আস্তে গিয়ার পরিবর্তন করবেন। এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভালো, প্রতিটি গিয়ারের একটি পয়েন্ট আছে যার পরে বাইকের পিকআপ বাড়ালেও বাইক আর সেই গিয়ারে তার থেকে বেশি স্পিড তুলতে পারে না বা ইঞ্জিন আর বেশি শক্তি কিংবা টর্ক তৈরি করতে পারে না।

আপনার বাইকটি যদি গিয়ারের সেই লেভেলে চলে যায়, তাহলে আপনি আপনার বাইকের গিয়ার পরিবর্তন করে দিতে পারেন। আর তখনও গিয়ার পরিবর্তন না করলে এটা আপনার বাইকের ভেতরের যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। এক্ষেত্রে, আপনাকে বুঝতে হবে ইঞ্জিনের এই লেভেলটা আসলে কখন আসে যখন এক্সেলেরেট করার পরও ইঞ্জিন আর শক্তি উৎপন্ন করতে পারে না।

আবার, খুব দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন করাটাও খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এর ফলে আপনার ইঞ্জিনের লাইফটাইম কমে যেতে পারে। আপনি যদি ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ লেভেলে যাবার অনেক আগেই গিয়ার পরিবর্তন করতে থাকেন, তবে দেখা যাবে, একসময় আপনার ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই, সময় বুঝে সবসময় কাজ করতে হবে। আপনার বাইককে আপনার বুঝতে হবে। আর এক্ষেত্রে বারবার অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই।

আপনার বাইককে অনুভব করুন; Source: pinterest

কীভাবে সহজে গিয়ার পরিবর্তন করবেন?

প্রায় প্রত্যেক ব্যক্তিই প্রথমবার গিয়ার পরিবর্তন করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে যেটা হয়ে থাকে সেটা হলো হয় ক্লাচ দ্রুত ছেড়ে দেবার ফলে আপনার বাইকের স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়, না হয় বাইক চলছে না দেখে আপনি যদি ক্রমাগতভাবে থ্রোটল বাড়াতে থাকেন, তখন বাইকের সামনের চাকা উঁচু হয়ে বাইককে জোরে ঝাঁকি মারতে পারে। তাই গিয়ার পরিবর্তন করার সময় সবসময়ই ক্লাচ ও থ্রোটল একইসাথে ছাড়ার চেষ্টা করুন এবং কাজটি মনোযোগের সাথে করুন।

ডাউনশিফট করবেন কীভাবে?

গিয়ার ডাউনশিফটের সময় ক্লাচটি প্রথমে চেপে ধরুন এবং আপনি যে গিয়ারে যেতে চাইছেন সেই গিয়ারে শিফট করুন। এই সময় খেয়াল রাখবেন যেন থ্রোটল এর পরিমাণও আপনার সিলেক্টেড গিয়ার অনুযায়ী কম থাকে। অর্থাৎ, আাপনি যে গিয়ারে শিফট করছেন, সেই গিয়ারে সবোর্চ্চ যতটুকু থ্রোটল লাগে সবোর্চ্চ ততটুকু ধরুন। এরপর আস্তে আস্তে ক্লাচ ছেড়ে দিন। তবে, ক্লাচ টেনে ধরে রাখা অবস্থায় ব্রেক করবেন না। কারণ, আপনার বাইক যখন লো গিয়ারে চলে যায় তখন খুব স্বাভাবিকভাবে ইঞ্জিনের গতি সেই গিয়ারের লেভেলে চলে আসে। তখন একটি অটোমেটিক ব্রেকিং হয়ে যায় সেটাকে ইঞ্জিন ব্রেকিংও বলা হয়।

নিউট্রালে বাইক পার্ক করুন; Source: Ecosia

পার্ক করার ক্ষেত্রে কী করবেন?

বাইক পার্ক করার সময় সাধারণভাবে বাইকটি নিউট্রাল করে ফেলুন। বাইকটি অন্য কোনো গিয়ারে থাকলে হয়তোবা একটু লাফ মারতে পারে। তাই, নিউট্রাল করাই ভালো। এরপর, আপনি যেখানে বাইকটি রাখবেন সেখানে ভালভাবে রেখে দিন। তারপর এটার ১ম গিয়ার শিফট করিয়ে রাখুন। কারণ ১ম গিয়ারে বাইকটি থাকলে এটার চাকা নড়াচড়া করার কোনো অপশন থাকবে না। তাই, এই পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন।

এই হলো মোটরসাইকেলের গিয়ার পরিবর্তনের সকল খুঁটিনাটি। এভাবে চেষ্টা করলে গিয়ার পরিবর্তন নিয়ে হওয়া ঝামেলা একেবারে কেটে যাবে বলে আশা রাখছি। তবে, একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, মোটরসাইকেল চালানো তথ্যগত বিদ্যার কাজ না। তাই শুধু জানলেই হবে না, বারবার অনুশীলন করতে হবে। মনে রাখবেন, অনুশীলন ছাড়া যতই জ্ঞান রাখুন না কেন, তা কোনো কাজে আসবে না।

Feature Image Source: Nintendo Insider

3 Comments

Leave a Reply

Leave a Reply to Alam Faysal Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *