in

আপনার বাজেটের মধ্যে টয়োটার যে গাড়িগুলো সেরা

best budget car 2018 toyota

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুত চলার জন্য গাড়ির বিকল্প নেই। কেননা নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াত করলে যতটা তাড়াতাড়ি এবং আরামে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব, তা অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থায় সম্ভব হয় না। তাই গাড়িকে শুধু আজ বিলাসের বস্তু হিসেবে নয় বরং নগর জীবনের অত্যন্ত অপরিহার্য বস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন শুধু মাত্র উচ্চবিত্তরাই গাড়ি কিনতে সক্ষম ছিলেন কিন্তু এখন মধ্যম আয়ের ব্যক্তিরাও যাতে কম খরচে ভালো মানের গাড়ি কিনতে পারেন এজন্য বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন দাম এবং ফিচারের গাড়ি প্রতিনিয়িত বাজারে বের করছে।

গাড়ি কেনার সময় যা খেয়াল রাখতে হবে

বাজেটের মধ্যের গাড়ি কিনতে গেলে আগে দেখতে হবে গাড়ি রিকন্ডিশন নাকি সেকেন্ড হ্যান্ড। রিকন্ডিশন বলতে বোঝায় গাড়িটি বিদেশে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেকেন্ড হ্যান্ড হচ্ছে নিজ দেশে গাড়িটি কয়েক সময় যাবত ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর গাড়ির সিসি, পাওয়ার এবং ইঞ্জিনের দিকে নজর রাখাটা জরুরী।

শুধু তাই নয়, খেয়াল রাখতে হবে যাতে গাড়ির মূল্য দিয়ে গাড়ির বিচার করা না হয় কেননা অনেক সময় খুব স্বল্প মূল্যে ভালো মানের গাড়ি পাওয়া সম্ভব। গাড়ির ভালো মান বলতে বোঝায় গাড়ি এর আগে কত দিন এবং কী রকম পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়েছে। সেইসাথে খেয়াল রাখতে হবে গাড়ির পার্টস সহজলভ্য কিনা।

গাড়ির মান, ফিচার, দাম, পার্টসের সহজলভ্যতা এবং ব্যবহারকারীর রিভিউয়ের উপর বিচার করে বর্তমানে সব থেকে জনপ্রিয় এবং বাজেটের মধ্যে যে গাড়ির নাম সবার আগে আসে তা হলো ‘টয়োটা’। এর অনেকগুলো রেঞ্জ আছে যা গাড়ির ফিচার এবং ধরন ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।  

আজ বাজেটের মধ্যে কিছু ‘টয়োটা’ ব্র্যান্ডের গাড়ির ফিচার এবং তার দাম তুলে ধরা হয়েছে। আশা করা যায়, যা ক্রেতাদের গাড়ি কেনার সময় সাহায্য করবে।

টয়োটা প্রবক্স জিএল অল পাওয়ার

টয়োটা ব্র্যান্ডের প্রবক্স মডেলের এই ৪ সিটের গাড়িটি প্রথম বাজারে আসে ২০০৩ সালে।  যার ইঞ্জিন হচ্ছে ১৫০০ সিসি এবং মাইলেজ হচ্ছে ৭৫০০০ কি.মি। এই এসি গাড়ির অভ্যন্তরে রয়েছে অরিজিনাল টয়োটা সিডি এবিং পোর্টেবেল ইউএসবি সাইন্ড সিস্টেম। গাড়িটি ফুয়েল হিসেবে সিএনজি এবং অক্টেন ব্যবহার করে থাকে।

যার বাজার মূল্য প্রায় ৬,৯৫,০০০ টাকা।

                            Image source: tradecarview.com

টয়োটা ভিটস জি

ভিটস মডেলের জি পুশ স্টার্ট এডিশনের এই গাড়িটি বাজারে আসে ২০১০ সালে। গাড়িটি মূলত এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বানানো হয়েছে কারণ এই গাড়িটিতে রয়েছে ৬টি এয়ার ব্যাগ যা অ্যাকসিডেন্টের সময় আরোহীকে আহত হওয়া থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া রয়েছে অ্যান্টি থেফট সিকিউরিটি সিস্টেম, সেন্ট্রাল লক, ইউভিএস এবিং টেম্পারড গ্লাস এবং ব্যাক ক্যামেরা। গাড়িটির ট্রান্সমিশন হচ্ছে অটো; যার ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি হচ্ছে ১৩০০ সিসি, ফুয়েল হিসেবে অক্টেন ব্যবহার করা হয় এবং মাইলেজ হচ্ছে ৭৩,০০০ কি.মি।

এর বাজারমূল্য প্রায় ৯,৪৫,০০০ টাকা।

                                   Image source: motor1.com

টয়োটা করোলা এক্স

আপনি যদি ক্ল্যাসিক সেডান ধরনের কিছু খোজেন তাহলে টয়োটার এই করোলা এক্স হচ্ছে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট। টয়োটার এই করোলা মডেলের গাড়িটির ২০০৪ সালে প্রথম বাজারে আসে। এর সিসি হচ্ছে ১৫০০ এবং মাইলেজ হচ্ছে প্রায় ৯২,৮২১ কি.মি। ফুয়েল হিসেবে সিএনজি এবং অক্টেন দুটোই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ৪ সিটের এই গাড়ির রয়েছে ৪টি দরজা এবং গাড়ির ভিতরে বসার জন্য যথেষ্ঠ জায়গা রয়েছে যা খুবই আরামদায়ক।

এর বাজার মূল্য প্রায় ১০,৭০,০০০ টাকা।

                        Image Source: goo-net-exchange.com

টয়োটা এক্সাইও জি ব্লু

এক্সাইও মডেলের জি এডিশনের এই ৪ সিটের গাড়িটি ২০০৬ সালে বাজারে আসে। এই গাড়িটিও মূলত এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে কেননা এতে রয়েছে ২টি এয়ার ব্যাগ, পুশ স্টার্ট, টিভি নেভিগেশন ক্যামেরা, সেন্ট্রাল লক, ইউভিএস এবং টেম্পারড গ্লাস এবং অরিজিনাল জাপানিজ টয়োটা রিম এবং টায়ার। এর ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১,৫০০ সিসি এবিং মাইলেজ হচ্ছে ১,৩৭,০০০ কি.মি। ফুয়েল হিসেবে অক্টেন এবং সিএনজি ব্যবহৃত হয়।

এর বাজার মূল্য প্রায় ১১,৩০,০০০ টাকা।

                      Image source: goo-net-exchange.com

টয়োটা অ্যাকুয়া এস হাইব্রিড

হাইব্রিড গাড়ি বলতে ইঞ্জিন এবং ব্যাটারি উভয়ের শক্তি দিয়ে চলতে পারে এমন গাড়িকে বোঝায়। অ্যাকুয়া এস হাইব্রিড মডেলের এই গাড়িটি বাজারে প্রথম আসে ২০১৩ সালে। যা নিঃসন্দেহ বলা যেতে পারে একটি যুগোপযোগী গাড়ি। গাড়িতে রয়েছে পুশ স্টার্ট, প্রো এইচ আই ডি লাইট, অটো গিয়ার, টিভি নেভিগেশন, ব্যাক ক্যামেরা, এয়ার ব্যাগ এবং ফগ লাইট। গাড়িটি ১,৫০০ সিসি এবং ফুয়েল সিস্টেম দুই ধরনের। আর জ্বালানী হিসেবে অক্টেন ব্যবহার করা হয়।

এর বাজারমূল্য প্রায় ১৪,৬০,০০০ টাকা

                     Image source: axleaddict.com

সবশেষে, গাড়ি কেনার সময় গাড়ির ইঞ্জিন, মাইলেজ, সিসি ইত্যাদি দেখার পাশাপাশি গাড়ির পার্টসগুলো সহজলভ্য কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কেননা কোনো পার্টস নষ্ট হয়ে গেলে তা সারাতে যত অর্থের প্রয়োজন হয় তার থেকে বেশি অর্থ ব্যয় হয় বিদেশ থেকে সেই পার্টসগুলো আনতে। তাছাড়া সস্তা গাড়ির দিকে না গিয়ে বরং বাজেটের মধ্যে ভালো গাড়ির কেনার দিকে খেয়াল রাখাটা জরুরি।

আপনার গাড়ি যাতে আপনাকে ভালো সার্ভিস দেয় সেই দিক বিবেচনা করে গাড়ি কেনা দরকার। এবং কেনার সময় গাড়ির যাবতীয় কাগজ পত্র এবং গাড়িটি কোনো রকম আইনি মামলায় জড়িত ছিল কিনা সে বিষয়ে অবশ্যই অবগত হয়ে নেবেন। এ সম্পর্কে আরো জানতে পারেন এখান থেকে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *