in ,

প্রথম বাইসাইকেল কেনার আগে যেসব বিষয় জেনে রাখা উচিৎ

যখন সামনে অনেকগুলো বিকল্প থাকে বেছে নেয়ার পছন্দমতো, তখন মনে তত বেশি প্রশ্নও কাজ করে৷ বাইসাইকেল কেনার ক্ষেত্রেও এটাই ঘটে। আমরা সবাই জানি বাইসাইকেল বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, সাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত গ্রাহকের বয়স, চলাচলের এলাকা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, মানসিকতা এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে সাইকেল তৈরী করে। এতো বেশি বিকল্প থাকার কারণে আমরা সাইকেল কিনতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাই কোনটা আমাদের প্রয়োজন ভেবে এবং অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল সাইকেলটা কিনে ফেলি, শেষমেশ আগ্রহ হারাই সাইকেলে৷

বর্তমানে, বিশেষত ঢাকার মত জনবহুল শহরে সাইকেল হয়ে উঠছে দারুণ প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী ব্যক্তিগত যানবাহন।

জ্যামের নগরী ঢাকায় সাইকেল হতে পারে দ্রুতগামী সাশ্রয়ী বাহন ; Image Source: totalwomencycling.com

জ্বালানী সল্পতার এ যুগে যখন জ্বালানী তেল ও গ্যাসের দাম দিন দিন আকাশ ছুঁতে চাচ্ছে, তখন বাইসাইকেল শুধু ঢাকা কিংবা ঢাকার মত বড়, জনবহুল শহরের না, হতে পারে বৈশ্বিক এক বিশাল জলবায়ু বিপর্যয়ের অন্যতম সমাধান।

দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বাইসাইকেল হতে পারে প্রধান যানবাহন ; Image Source: shutterstock.com

সচেতন মানুষের মধ্যে তাই দিন দিন বাড়ছে বাইসাইকেলের চাহিদা।

প্রথমত আমাদের জানতে হবে বাইসাইকেলের প্রকারভেদ, অর্থাৎ কত ধরণের সাইকেল পাওয়া যাচ্ছে আমাদের স্থানীয় বাজারে৷ সাধারণত আমাদের বাজারে রোড বাইক, মাউন্টেইন বাইক, ট্যুরিং বাইক, রেসিং বাইক, লেডিস বাইক ইত্যাদি পাওয়া যায়। তবে আসল প্রশ্নটা হচ্ছে প্রয়োজন, কী চাই আপনার তা বের করতে হবে আপনাকেই৷

বাইসাইকেল কেনার আগে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা উচিৎ তা নিয়েই আলোচনা করবো আজ,

প্রয়োজন অনুযায়ী বাছাই করুন

আমরা যখন প্রথম সাইকেলটি কেনার জন্য দোকানে যাই, আমরা জানিও না ‘একটা ভাল সুন্দর বাইক’ ছাড়া আর কী প্রয়োজন, তা দোকানীকে জানাবো। শেষমেশ আমরা বলি আশেপাশে ঘোরার জন্য একটা সাইকেল প্রয়োজন, তারপর আমরা জানতে শুরু করি সাইকেল আমাদের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে কত বিচিত্রভাবে তৈরী হয়, আবিষ্কার করি কত বিকল্প রয়েছে সেখানে।

কেনার আগেই নির্ধারণ করে নিন প্রয়োজন ; Image Source: lifehacker.com

ন্যাশনাল বাইসাইকেল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (এনবিডিএ) একটি লিস্ট রয়েছে যেখানে আপনি জানতে পারবেন কত ধরণের বাইক প্রচলিত আমাদের স্থানীয় বাজারে।

খুব সম্ভবত আপনি জানেন একটা মাউন্টেইন বাইক এবং একটা ক্রুজারের পার্থক্য, কিন্তু এদের মাঝে আরো কিছু প্রকারভেদ রয়েছে, চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক,

মাউন্টেইন বাইক ; Image Source: wikipedia.com

মাউন্টেইন বাইকঃ অসমতল এবং এমন যেখানে রাস্তাই নেই সেসব জায়গায় চলাচলে সক্ষম তেমনি চলতে পারে শান বাঁধানো পাকা রাস্তাতেও৷

রোড বাইক ; Image Source: gearpetrol.com

রোড বাইকঃ পাকা রাস্তাতে চলাচলের জন্য উপযোগী, শহরে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়, মূলত এই ধরণের বাইক ব্যবহারকারীরা গতিকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

হাইব্রিড বাইক ; Image Source: 6ku.com

হাইব্রিড বাইকঃ এটাকে বলা যেতে পারে মাউন্টেইন এবং রোড বাইকে সংকরায়ন।

রোড বাইকের মত দ্রুত গতির নয় আবার মাউন্টেইন বাইকের মত রুক্ষও নয় তবে দুটোর সমন্বয়ে দারুণ একটা বাইক হতে পারে হাইব্রিড।

ক্রুজার বাইক ; Image Source: bicycledesigner.com

ক্রুজারঃ সাধারণ বাইকের মতই তবে সমুদ্র ভ্রমণে এই ধরণের বাইক বেশি দেখা যায় সমুদ্রের পাশে বালুর সৈকতে চলাচল করতে।

দ্য ইনফোগ্রাফিকও একটা চমৎকার প্রকারভেদ বের করেছে বাইসাইকেল বিগেইনারদের জন্য, অবশ্যই এখানে সব দিক বিবেচনা করে আরো বিশেষভাবে সাইকেলের প্রকারভেদ করা হয়েছে, যেমন, ট্যান্ডেম বাইক, বিএমএক্স বাইক, ফিক্সড গিয়ার বাইক।

তবে সবকিছু বিবেচনা করে প্রথম সাইকেলটি হাইব্রিড বাইক হওয়াই সবচেয়ে সুবিধাজনক বলে আমাদের ধারণা৷

কত খরচ করতে ইচ্ছুক

বাইসাইকেল কেনাটা বেশ ব্যয়বহুল তা না বললেও চলে। বাইসাইকেলের দাম বেশ উর্ধ্বমুখী তবে সাত-আট হাজার টাকাতেও বাইক পাওয়া যায়। আসলে কত খরচ পড়বে তা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের উপর৷

প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে বাজেট নির্ধারন করুন ; Image Source: lifehacker.com

তবে আপনার বাজেট যদি সীমিত হয়, তাহলে দামের উপর ভিত্তি করেই আপনার প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে, এ ব্যাপারে আমরা সবসময়ই আপনাকে অনুৎসাহিত করবো। ইবাইসাইকেল.কমের মতে বিগেনারদের একদম কম বা বেশি দামি সাইকেল না কিনে মাঝামাঝি রেন্জে আগ্রহী হওয়া উচিৎ।

কস্টহেল্পার দাম অনুযায়ী বাইককে তিন ভাগে ভাগ করেছে,

লো রেন্জ বাইকঃ সাড়ে ছয় হাজার থেকে শুরু করে পঁচিশ হাজার পর্যন্ত দামের সাইকেলকে লো রেন্জে রাখা হয়েছে। সাধারণত এ ধরণের বাইকে বেসিক মেটাল ফ্রেম ফাংশনাল থাকে যদিও প্রায়ই স্টাইলিশও হয়ে থাকে। হাফি এবং ফোর্জের মত অনেক ব্র্যান্ডের লক্ষ্যই থাকে লো রেন্জের বাইক সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা।

মিড রেন্জ বাইকঃ পঁচিশ হাজার থেকে আশি হাজার টাকায় পাওয়া যায় এমন বাইকগুলোকে মিড রেন্জ বাইকের তালিকায় রাখা হয়। এদের মূলত এলুমিনিয়াম অথবা যেকোন হালকা ধাতুর সমন্বয়ে ফ্রেম করা হয় যা প্রতিদিনের চলাচল করার বাইক হিসেবে বেশ আরামদায়ক, এছাড়া এই বাইকগুলোতে উন্নত মানের চাকা, চেইন এবং প্যাডেল ব্যবহার করা হয় যা সাইকেলকে আরো বেশি মজবুত হিসেবে তৈরী করে।

হাইএন্ড বাইকঃ আশি হাজার থেকে শুরু করে তার চেয়ে বেশি দামের বাইককে এই কাতারে ফেলা হয়। এই ধরণের বাইক সাধারণত তৈরী হয় সবচেয়ে হালকা ধাতু দিয়ে, কার্বন এবং টিটানিয়ামের মত, পদার্থ বিজ্ঞানের থিউরি কঠোরভাবে অনুসরণ করে ডিজাইন করা বাইকগুলো প্রতিদিনের ব্যবহার কিংবা হালকা ধরণের প্রতিযোগিতার জন্য দারুণ উপযোগী।

অবশ্য রাইডাররা এত কিছু না ভেবে নিজেদের প্রয়োজন এবং পছন্দসই যন্ত্রপাতি দোকান অথবা অনলাইন থেকে কিনে স্থানীয় ভালো কোন সাইকেল মেকানিকের দোকান থেকে বানিয়েও নিতে পারে।

এছাড়া খোঁজখবর রাখলে অনেকসময় চাহিদা অনুযায়ী এবং সাধ্যের মধ্যে পুরনো বাইকও পাওয়া যায়। এছাড়া ইদানিং অনেক দোকানও হয়েছে যারা পুরনো বাইক কেনাবেচা করে থাকে, বাজেট সল্পতা থাকলে ঢু মারতে পারেন সেদিকেও।

শরীরের সাথে মানানসই

হয়তো আপনি ততটা লম্বা না, আবার জুভেনিল বাইক ব্যবহারের মত কম উচ্চতাও না আপনার।

শরীরের সাথে মানানসই হওয়া চাই বাইক ; Image Source: lifehacke.com

শরীরের সাথে মানানসই বাইক খুবই প্রয়োজনীয়, অন্যথায়, বাইকের উপর বসা আপনাকে যেমন দেখতে হাস্যকর লাগবে তেমনি বাইকটি হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য আরামদায়ক যানের ঠিক বিপরীত। বাইকের ফ্রেমের আকার আপনার শরীর, উচ্চতার উপর ভিত্তি করে বাছাই করা উচিৎ।

আদর্শ আকারের বাইকটি পছন্দ করতে হবে সতর্কতার সাথে, বিবেচনায় রাখতে হবে আপনার উচ্চতা, ওজন এবং শারিরীক সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে।

কোন সাইজের ফ্রেম আপনার জন্য সেরা হবে তা বোঝার জন্য দেখে নিতে পারেন ফ্রেম সাইজিং চার্টস, যা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে। আরো ভালো হবে যদি আপনি বাইসাইকেল ফ্রেম সাইজ নির্ধারণ ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করেন।

বেশিরভাগ সাইকেল শপে সেলসম্যান আপনাকে ব্যাপার গুলো বুঝিয়ে সঠিক সাইকেলটি বেছে নিতে সাহায্য করবে, তারপরও নিজে থেকে একটা ধারণা নিয়ে রাখা সবসময়ই ভালো। বাইসাইকেল এবং বাইক ডেমনস্ট্রেশনের কিছু ভিডিও দেখে রাখতে পারেন যা আপনাকে বাইসাইকেল সম্পর্কে আরো ভালোভাবে ব্যাখ্যা দেবে।

ফ্রেমের পাশাপাশি হ্যান্ডেলবারও গুরুত্বপূর্ণ, সিট এবং হ্যান্ডেলবারের দূরত্ব এমন হতে হবে যেন আপনি সহজেই হ্যান্ডেলবারটি ধরতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আবার এতো বেশি কাছেও না যে আপনার পিঠ ব্যাথা হয়ে যাবে তা ধরতে গিয়ে।

আরইআই এর মতে, হ্যান্ডেলবারের উপর নির্ভর করে সাইকেলটি কেমন হবে, হ্যান্ডেলবারের উচ্চতা যেমন বেশি হলে প্যাডেলে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয় চালানোর সময়।

হ্যান্ডেলবারের অবস্থানের উপর ভিত্তি করেও সাইকেলকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়,

ড্রপ হ্যান্ডেলবার ; Image Source: cxmagazine.com

ড্রপ বারঃ প্রায় সব রোড বাইকে ড্রপ বার থাকে, হালকা ওজন এবং বায়ুগতি বিজ্ঞানের সূত্র মেনে তৈরী করা এসব বাইসাইকেল দ্রত গতির জন্য আদর্শ। নীচু এবং বাঁকা হয়ে চালাতে হয় বলে দীর্ঘদিন ব্যবহার আপনার মেরুদণ্ডে ব্যথার কারণ হতে পারে।

ফ্ল্যাট হ্যান্ডেল বার ; Image Source: allcitycycles.com

ফ্ল্যাট বারঃ হাইব্রিড বাইকে সাধারণত ফ্ল্যাট বার ব্যবহৃত হয়, কিছু ক্ষেত্রে রোড এবং মাউন্টেইন বাইকেও ফ্ল্যাট বার থাকে। সাইকেলের সিটে সোজা হয়ে বসে আরামদায়ক ভাবে হ্যান্ডেল ধরা যায় বলে হাত, কবজি এবং কাঁধে ব্যথার কারণ হয় না এই ধরণের সাইকেলগুলো৷

রাইজার হ্যান্ডেল বার ; Image Source: bikerumor.com

রাইজার বারঃ মাউন্টেইন বাইকে রাইজার বার ব্যবহৃত হয়, কিছুটা উপরের দিকে থাকায় এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হওয়ায় আপনি সহজেই সামনে নজর রাখতে পারবেন এবং উঁচুনিচু রাস্তায় সাইকেল নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।

মুস্টাছ হ্যান্ডেল বার ; Image Source: pinch-flat.com

মুস্টাছ বারঃ কিছু রোড এবং হাইব্রিড বাইকে দেখা যায়৷ এটা অনেকটা ড্রপ বারের মতই তবে ততটা গভীর নয়৷ উপরে কিছুটা বাঁকানো থাকায় হাতের অবস্থানে বিচিত্রতা আনতে পারে বলে দীর্ঘক্ষণ চালনায় হাত এবং পিঠ ব্যাথা হয়ে যায় না। আর ড্রপ বারের মত গভীর না বলে মেরুদণ্ডও কিছুটা আরাম পায়৷

গিয়ার, সাসপেনশন এবং ব্রেক

ছেলেবেলায় আমাদের সবারই স্বপ্ন ছিল একটা টেন স্পিড বাইকের।

এখনকার দিনে, বাইকে অনেক ধরণের গিয়ার দেয়া থাকে এবং আরো অনেক কিছু যোগ করার সুযোগও থাকে। তবে বিগেনার হিসেবে সাইকেলকে যত বেশি ছিমছাম সিম্পল রাখা যায় তত ভালো৷

প্রথম সাইকেলটি ছিমছাম হওয়াই শ্রেয় ; Image Source: lifehacke.com

সাসপেনশনও বিবেচনায় রাখা উচিৎ সাইকেল কেনার পূর্বে। আপনার চলাচলের রাস্তা যদি উঁচুনিচু কিংবা খারাপ রাস্তা হয়ে থাকে তাহলে সাসপেনশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উঁচুনিচু রাস্তায় সাসপেনশন রাইডিংকে আরামদায়ক করে তোলে ; Image Source: road.cc

আর যদি আপনি পাহাড়ি এলাকায় রাইডিং এ ইচ্ছুক হন, তাহলে আপনার ফুল সাসপেনশনই প্রয়োজন, অন্তত সামনের চাকায় তো বটেই, যা আপনাকে ক্ষণে ক্ষণে সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে রক্ষা করবে। সামনে এবং পেছনে সাসপেনশন থাকলে তা স্মুথ রাইডিং এ সহায়ক, বেশিরভাগ হাইব্রিড বাইক সাসপেনশন সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। রোড বাইকে সাধারণত সাসপেনশন থাকে না, তেমন প্রয়োজনও হয় না৷

শেষে, বলা যেতে পারে ব্রেকের আদ্যোপান্ত, ব্রেক অনেক ধরণেরই হয়ে থাকে, সবগুলোতেই ভালো মন্দ রয়েছে, এখানে সবচেয়ে পরিচিত, বেশি ব্যবহৃত ব্রেক নিয়ে আলোচনা করা হলো,

রিম ব্রেকস ; Image Source: cyclingabout.com

রিম ব্রেকসঃ চাকার প্রান্ত বা পরিধির সাথে প্যাড চেপে ধরে এই ব্রেক কাজ করে বলে একে প্রান্ত বা রিম ব্রেক বলে। এই ব্রেকের কার্যপ্রণালী সাধারণ এবং সহজেই ব্যবহার করা যায়। তবে ভেজা কিংবা কাদামাটির রাস্তায় রিম ব্রেক তেমন কাজ করে না।

ডিস্ক ব্রেকস ; Image Source: cyclingweekly.com

ডিস্ক ব্রেকসঃ ছবির মত, এই ধরণের ব্রেক চাকার কেন্দ্রে লেগে থাকে। এদের পর্যবেক্ষণ এবং স্থানান্তর করা কিছুটা জটিল কিন্তু এই ব্রেকগুলো যে কোন আবহাওয়ায়ই দারুণ কাজ করে।

কোস্টার ব্রেকস ; Image Source: kidsbikegear.com

কোস্টার ব্রেকসঃ কোস্টাল ব্রেক তখনই কাজ করে যখন আপনি উল্টোদিকে প্যাডেল করবেন। এটা তেমন ভাবে সাইকেল নিয়ন্ত্রণ করবে না। এই ব্রেক সাধারণত বাচ্চাদের সাইকেলে ব্যবহার করা হয়, আর যাদের হাতে তেমন জোর নেই, তারাও কোস্টাল ব্রেকে উৎসাহী হন। যদিও উপর থেকে নীচের দিকে নামতে গেলে কোস্টাল ব্রেক কোন কাজই করে না।

ড্রামস ব্রেকস ; Image Source: alamy.com

ড্রাম ব্রেকসঃ চাকার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত। ড্রামস ব্রেকে কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয়। তবে, যদি ব্রেক বদলাতে হয় কখনো, তাহলে পুরো চাকাই বদলে ফেলতে হয়৷

আমরা কখনোই আপনাকে পরামর্শ দেবো না ব্রেকের উপর নির্ভর করে সাইকেল পছন্দ করতে তবে ব্রেকও যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, তাই কেনার আগে কিছুটা পরিচিত হয়ে থাকাই শ্রেয়।

টেস্ট ড্রাইভ

সবকিছু দেখার এবং জানার পরেও মনের মধ্যে একটা সংশয় থেকেই যায়, নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যায় না। সেই সংশয়কে দূর করার উপায় হচ্ছে টেস্ট ড্রাইভে চলে যাওয়া। পছন্দ হওয়া বাইকটি কিছুক্ষণ চালিয়ে দেখুন বিভিন্নভাবে।

যত বেশি সম্ভব এক্সপেরিমেন্ট করুন টেস্ট ড্রাইভে ; Image Source: lifehacker.com

খেয়াল রাখুন হ্যান্ডেল ধরতে গিয়ে বেশি সোজা কিংবা বেশি বাঁকা হতে হচ্ছে কিনা, প্যাডেলে পা সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারছেন কিনা, হাঁটু বেশি বাঁকা করতে হচ্ছে কিনা।

সিটে বসে শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গের দিকে খেয়াল রাখুন, চালানোর সময় কোনভাবে কষ্ট হচ্ছে কিনা শরীরের কোথাও, বিশেষত হাত, পা, কাঁধ, ঘাড়, মেরুদণ্ডে।

পছন্দের বাইকটা কেনার পূর্বে তা নিয়ে একটা টেস্ট ড্রাইভ দিয়ে দিন। যখন আপনি টেস্ট ড্রাইভে যাবেন, ইবাইসাইকেল পরামর্শ দেয় নিচের বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে,

আরামদায়কঃ যে বাইকটা পছন্দ করেছেন, তা চালানোর সময় কি আরামদায়ক মনে হয়েছে আপনার কাছে? যদি পছন্দের সাইকেলটি হাইব্রিড হয়ে থাকে, তাহলে ওই পজিশনে বসে চালিয়ে আপনি কি স্বাভাবিক থাকতে পারছেন? বাইকটি যদি রোড বাইক হয়, ততক্ষণ আপনি কি কষ্টহীনভাবে প্যাডেল করতে সক্ষম যতক্ষণ আপনি সাইকেলে প্রতিদিন চলাচল করতে চান?

নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাঃ আসলে আপনার উচিৎ বিভিন্নধরনের রাস্তায় বিভিন্নভাবে সাইকেলটি চালানো যাতে আপনি বুঝতে পারেন আপনি সত্যিই সাইকেলটি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম কিনা, বুঝে নিন বাঁকানো কিংবা উঁচুনিচু রাস্তায় বাইকটি আপনার হাতে কেমন আচরণ করছে৷

বহন সক্ষমতাঃ আপনি যদি চালানোর সময় নিজের কিছু জিনিসপত্রও সাইকেলে বহন করতে চান, তাহলে তা রাখার মত সুব্যবস্থা আছে কিনা, কতটুকু ওজনে সাইকেলটি নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব, সেসব বিষয় ভালভাবে বিবেচনা করে নিন।

বাইক কিনতে গিয়ে সবগুলো পছন্দের বাইক নিয়ে টেস্ট ড্রাইভে গিয়ে বাছাই করা সম্ভব নয়, যেহেতু অগণিত বাইক রয়েছে সেখানে। পছন্দ করার প্রক্রিয়া যদিও বেশ জটিল তবে আমাদের উল্লেখিত বেসিক ব্যাপারগুলো মাথায় রাখলে বাইক পছন্দ করা আপনার জন্য সহজ হবে বলে আশা করা যায়।

বেসিক পয়েন্টগুলো আপনাকে বাইক বাছাই শুরু করতে সাহায্য করবে এবং সবকিছু খেয়াল করে কিনলে আপনি সঠিক বাইকটিই পছন্দ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস, যা আপনার রাইডিংকে করবে নিরাপদ এবং আরামদায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *