in , , ,

প্রথম মোটরসাইকেল কেনার পূর্বে যে ৫টি বিষয় মাথায় রাখবেন

কৈশোর বা যৌবনের কোনো না কোনো সময়ে সবাই একটি মোটর সাইকেল কেনার স্বপ্ন দেখে। মোটর সাইকেল শুধু একটি জ্বালানী সাশ্রয়ী মোটরযান না, এটি স্বাধীনতা ও তারুণ্যের উদ্দামতারও প্রতীক, কোনো গাড়িই যার পরিপূরক হতে পারে না। প্রথম মোটরসাইকেল কেনার পূর্বে যে ৫টি বিষয় মাথায় রাখা উচিত তা নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

কোন মোটর সাইকেল আপনার জন্য মানানসই

মোটর সাইকেল কেনার পূর্বে আপনার বয়স, প্রয়োজন ও ব্যবহারের সাথে মানানসই ব্র্যান্ড ও মডেল খুঁজে বের করা জরুরি। মোটর সাইকেল তো অনেক ধরনেরই হতে পারে, সাধারণ স্কুটারের মতো শান্তশিষ্ট যেমন হয় তেমনি হয় রণতরীর মতো প্রকান্ড ও দুর্বার।

মানানসই মোটরসাইকেল বাছাই খুব জরুরী; Image Source: amazon.com

কিভাবে ব্যবহার হবে, কতটা দূরত্ব যাবেন, প্রতিদিন নাকি সপ্তাহান্তে? প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবহারের জন্য সাইজে হালকা এবং বেশি এমপিজি (মাইলিজ পার গ্যালন) সম্পন্ন বাইক নেয়া উচিত, যা হবে আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, শুধু সপ্তাহান্তে চালানোর জন্য একটু দামী এবং স্টাইলিশ বাইককে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

আপনার শারিরীক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিন। প্রথম মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে বেশিরভাগেরই আকর্ষণ থাকে পারফরম্যান্সের উপর, কিন্তু সেটি হ্যান্ডেল করার মতো অবস্থা বাইকটির আছে কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। ভাল চালক হতে হলে শুধু সাইজে বড়, বড় ইঞ্জিনওয়ালা বাইক নিলেই হয় না বরং আপনার শরীরের সাথে মানানসই বাইকটিই আপনাকে তুলনামূলক ভালো চালক করে তুলবে, তা হতে পারে ছোট কিংবা কমশক্তি সম্পন্ন। বাইক অনেকটা এক জোড়া জুতা কেনার মতো, ছোট কিংবা বড় কোনোটিই আরামদায়ক হবে না, ঠিকঠাক হাঁটার জন্য সঠিক মাপটাই প্রয়োজন।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না, দেখুন, জানুন তারপর কিনুন। এখন প্রতিটি ব্র্যান্ডের ভালো এবং মন্দ দিকগুলো নিয়ে প্রচুর রিভিউ পাওয়া যায় ইউটিউব, বাইক সম্পর্কিত ব্লগসাইট এবং ফেসবুক গ্রুপগুলোতে, সময় নিয়ে সেগুলো দেখুন, ঘাঁটাঘাঁটি করুন এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

ট্রেনিং কোর্স করে রাখুন

অল্প বিদ্যা সত্যিই ভয়ংকর। দুয়েকদিন বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে খোলা মাঠে দুবার ঘুরে শিখে গেছি – এমন ভাবনা না ভাবাই ভালো। সঠিক কায়দাকানুন না জেনে রাস্তায় নেমে যাওয়া মানে নিজের এবং রাস্তায় চলাচল করা অন্যদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়া।

শিখুন সঠিক নিয়মে; Image Source: msf-usa.org

এখন বাইক চালানো শেখানোর জন্য বিভিন্ন একাডেমিক কোচিং হয়েছে, সবচেয়ে ভালো হয় এরকম কোথাও থেকে একটি কোর্স করে ফেললে। সঠিক নিয়মগুলো জেনে বুঝে শিখলে তা আপনার জীবন ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা বাড়াবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স

মোটরসাইকেল কেনার পূর্বেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন। কারণ এটি এমনিতেই একটি সময় সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া। মোটর সাইকেল কেনার পর সেটিরও লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, বিটিআরসির মাধ্যমে সেটিও সংগ্রহ করুন।

একটি মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স; Image Source: hambur.com

লাইসেন্স নিয়ে এবং সঠিক সময়ে নবায়ন করে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করুন।

আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি

সঠিক বাইকের সাথে সঠিক গিয়ারগুলো পছন্দ করাও জরুরি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার বাইকের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গিয়ার আপনার যাত্রাকে একই সাথে করে তুলবে নিরাপদ এবং আরামদায়ক। সাধারণত একজন মোটর সাইকেল আরোহীর হেলমেট, জ্যাকেট, বুটস, প্যান্ট, গ্লাভস প্রয়োজন হয়।

সঠিক আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র প্রয়োজনীয়; Image Source: ebay.com

বাংলাদেশের আইনে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো বেআইনী, এমনকি চালকের পেছনে কেউ বসলে তারও হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। এমনিতেও হেলমেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে। হেলমেট বিভিন্ন ধরনের, আকারের হয়ে থাকে তবে আমাদের পরামর্শ সবসময়ই পুরো মুখ ঢাকা হেলমেটের পক্ষে কারণ এটা সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

সাধারণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে জ্যাকেট – প্যান্ট বাধ্যতামূলক না হলেও দীর্ঘ ভ্রমণের (Long Journey) জন্য বাইক জ্যাকেট প্যান্ট পরা উচিত। কারণ এগুলো আপনার শরীরকে রক্ষা করবে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে। বাইকের জন্য সাধারণত চামড়ার জ্যাকেট অথবা বাইক স্পেশাল জ্যাকেট ব্যবহার করা হয়।

প্যান্ট জ্যাকেট আপনাকে দিতে পারে অতিরিক্ত সুরক্ষা; Image Source: mpowerpd.co.uk

গ্লাভসের ব্যবহার খুবই উপকারী একজন চালকের জন্য। হাতের নিরাপত্তার সাথে সাথে হাত শুকনো রেখে কাজগুলো আরামদায়ক করে তোলে বাইক গ্লাভস।

বাইক বুটস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাইকের জন্যই। সাথে সাথে মাথায় রাখা হয় রাইডারের নিরাপত্তাও। এই বুটগুলো আপনার পা এবং গোড়ালিকে ইঞ্জিনের তাপ থেকে যেমন রক্ষা করবে তেমনি হঠাৎ পা পিছলে যেতেও বাধা প্রদান করবে। এছাড়াও অতিরিক্ত কিছু প্যাডিং /আর্মার রয়েছে কনুই, কাঁধ, ঘাড়, হাঁটু, কোমর এবং মেরুদণ্ড প্রতিরক্ষার জন্য, লং রাইডে গেলে এসবসহ প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

অনুশীলনের বিকল্প নেই

একবার আপনার ট্রেনিং শেষ হলো কিংবা আপনি পরীক্ষা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েও গেলেন, তার মানে এই নয় যে, আপনি এখনই লং রাইডে বেরিয়ে যেতে পারেন কিংবা প্রতিযোগিতায় নেমে যেতে পারেন। তাড়াহুড়োর কিছু নেই। ধৈর্যশীল হোন, ধীরে ধীরে শুরু করুন।

শেখার শেষ নেই; Image Source: driver-start.com

লাইসেন্স পাওয়া কিংবা ট্রেনিং কোর্সে আপনি ছিলেন খালি রাস্তায়, কিন্তু পাবলিক রোড সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। তাই অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে না গিয়ে চলতে শুরু করুন, পাবলিক রোড মানেই এখানে শুধু নিজের কাজটা ঠিকভাবে করে নিশ্চিত থাকা যায় না, অন্য কেউ ভুল করছে কিনা এবং সেই ভুলের ক্ষতিটা যাতে আপনার উপর যায় সেদিকেও লক্ষ রাখা জরুরি।

মোটর সাইকেল চালানো শেখার সময় যে সিগনালগুলো দিতে শেখানো হয়েছে সঠিকভাবে তার ব্যবহার নিশ্চিত করুন, কোনোভাবেই অবহেলা করবেন না।

ব্যস্ত রাস্তায় আঙ্গুল অবশ্যই ব্রেকের উপর রাখুন। নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করুন যেন খোলা রাস্তায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি অন্য লেনে থাকলেও যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আঙ্গুল ব্রেকের উপর গিয়ে স্পর্শ করে থাকে।

পুরোপুরি নিজের চালনাতে বিশ্বাস না আসা অবধি পিলিয়ন (পেছনে যাত্রী) না নেওয়াই ভাল। কারণ পিলিয়ন নেয়া মানেই মোটরসাইকেলের ওজন বেড়ে যাওয়া, তখন তার কন্ট্রোল একসিলারেশনও আলাদা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, একাধিক পিলিয়ন কখনোই নয় কারণ এটি আইনত দন্ডনীয়।

প্রথম মোটরসাইকেল কেনার পূর্বে এই মূল ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করলে আপনার মোটরসাইকেল চালানো অনেক বেশি সহজ, আরামদায়ক এবং নিরাপদ হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়। তাই যাত্রা হোক নিরাপদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *