in

মোটরসাইকেল চালানোর আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

মোটরসাইকেল চালানো যতটা রোমাঞ্চকর, ঠিক ততটাই বিপজ্জনক। ন্যাশনাল মোটরসাইকেল ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় জানা গেছে, গাড়ি চালানোর তুলনায় মোটরসাইকেল চালানো ২৭ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মোটরসাইকেল চালানোর সময় একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তারপরও আপনি যদি মোটরসাইকেলের রোমাঞ্চকর যাত্রার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন তবে এই ১৭টি নিরাপত্তা টিপস আপনার জন্য।

১. দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে চালান

পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করলে আপনি মোটরসাইকেল নিয়ে কসরত (stunt) দেখাতে পারেন। কিন্তু কিছু কিছু রাস্তা দেখতে সহজ মনে হলেও সহজ হয় না। তাই কসরত দেখানোর জন্য আগে থেকে পর্যাপ্ত অনুশীলন করে নিন, যাতে হঠাৎ সামনে আসা যেকোনো বাঁকে আপনি মোটরসাইকেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

নিজের দক্ষতা অনুসারে চালান; source: Carmudi Phillipine

২. মোটরসাইকেল নিরাপত্তা কোর্স করুন

অধিকাংশ দেশে বাইক লাইসেন্স পাওয়ার জন্য একটি পরীক্ষা দিতে হয়। আবার, কিছু কিছু দেশে পরীক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তা কোর্স করতে হয়। যদি আপনার দেশে লাইসেন্সের জন্য মোটরসাইকেল নিরাপত্তা কোর্স করার প্রয়োজনীয়তা না থাকে, তারপরও একটি কোর্স করে ফেলুন। কেননা, এই কোর্স আপনাকে আপনার দেশের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শেখাবে, সাথে শেখাবে জরুরী মুহুর্তে কী আচরণ করতে হয়, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেবে।

৩. চালানোর জন্য প্রস্তুত হন

প্রতিবার যাত্রা শুরু করার আগে হর্ণ, লাইট, দিকনির্দেশক সংকেত ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা দেখে নিন। এরপর দেখুন বেল্ট, চেইন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা। সর্বশেষ চাকার দিকে খেয়াল করুন। দেখুন, সেটি পর্যাপ্ত চাপে ঠিক জায়গায় আছে কিনা, কোনোভাবে খুলে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি আছে কি না।

নির্দিষ্ট গতিতে চালান; source: SetAsWall

৪. নির্দিষ্ট গতিতে চালান

প্রতিটি রাস্তার জন্য গতির সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাস্তা অনুযায়ী নির্ধারিত গতির সীমাও বিভিন্ন হয়। এজন্য আশেপাশের সবকিছু দেখে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। তবে, রাস্তা ফাঁকা থাকলে আপনি ঐ রাস্তার সর্বোচ্চ নির্ধারিত গতিতে মোটরসাইকেল চলাতে পারেন।

৫. খারাপ আবহাওয়ায় চালানো থেকে বিরত থাকুন

বরফ ও বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানো খুবই বিপজ্জনক। তাই, কোন সফরের পরিকল্পনা করে থাকলে প্রথমে সেখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে খেয়াল রাখুন। সেখানকার আবহাওয়া খারাপ হলে মোটরসাইকেল ব্যবহার না করে অন্য কোন যানবাহন ব্যবহার করুন।

৬. আপনার জন্য ভালো মোটরসাইকেলটি কিনুন

আপনি যদি নতুন বাইকার হয়ে থাকেন, তবে একটু ভেবে চিন্তে মোটরসাইকেল কিনুন। আজকালকার মোটরসাইকেল আগের মোটরসাইকেলগুলো থেকে অনেক শক্তিশালী ও গতিশীল। তাই ভেবে চিন্তে আপনার জন্য ভালো মোটরসাইকেলটি কিনুন।

৭. মোটরসাইকেলের সবকিছু পরিদর্শন করুন

এটি নিরাপত্তার জন্য খুব জরুরি একটি কাজ। প্রতিবার মোটরসাইকেল চালানোর আগে সবকিছু ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা দেখে নিবেন। এমনকি আপনার মোটরসাইকেলটি যদি একদম নতুন হয়, তাহলেও সবকিছু ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিবেন।

সবসময় হেলমেট ব্যবহার করুন; source: Canada Motor Guide

৮. সবসময় হেলমেট ব্যবহার করুন

হেলমেট বাইকারের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। হেলমেটের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে বাইকার রক্ষা পেতে পারেন। তাই, একটি বেশি খরচ হলেও ভালো মানের হেলমেট সবসময় ব্যবহার করুন। কেননা, জীবনের চেয়ে দামী আর কিছুই হতে পারেনা।

৯. আবহাওয়া সম্পর্কে জানুন

এটি সম্পর্কে ধারণা রাখা একজন আরোহীর জন্য খুবই জরুরী। সেক্ষেত্রে দূরের কোন সফরের পরিকল্পনা করার আগে যে শহর থেকে যাত্রা শুরু হবে সেখানকার আবহাওয়ার পাশাপাশি গন্তব্যের আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা রাখতে হয়।

১০. নির্ধারিত পোশাক পড়ুন

স্যান্ডেল কিংবা শর্টস পরতে আরামদায়ক হলেও মোটরসাইকেল চালানোর সময় এটি খুবই বিপজ্জনক। কেননা কোন কারণে আপনি যদি পড়ে যান, তবে এধরনের কাপড় আপনাকে আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

নির্ধারিত পোষাক পরে মোটরসাইকেল চালান; source: Getty Images

১১. রক্ষণাত্মকভাবে মোটরসাইকেল চালান

রক্ষণাত্মকভাবে মোটরসাইকেল চালালে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এজন্য প্রতিযোগিতা না করে নিয়ম মেনে আশেপাশে লক্ষ্য রেখে মোটরসাইকেল চালান।

১২. আপনার লক্ষ্যের দিকে নজর রাখুন ও বাঁকের প্রতি খেয়াল রাখুন

আপনি যেদিকে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন সেদিকে ভালো করে খেয়াল রাখুন। সামনে বাঁক থাকলে কতটুকে গিয়ে আপনি বাঁক নিবেন সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

১৩. আপনার মোটরসাইকেলে এন্টি লক ব্রেক লাগান

এন্টি লক ব্রেক (Anti lock Break) আপনার মোটরসাইকেলের ব্রেককে পুরো নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি আপনাকে ব্রেকের কারণে হওয়া দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করবে। তাই আপনার মোটরসাইকেল কেনার সময় অ্যান্টি লক ব্রেক লাগিয়ে নিন।

১৪. পছন্দের জায়গায় বাইক চালান

আপনার সামর্থ্য সম্পর্কে জানুন। সেই রাস্তায় মোটরসাইকেল চালান যে রাস্তায় আপনার চেয়ে ভালো কেউ মোটরসাইকেল চালাতে পারবে না এমন আত্নবিশ্বাস যেন আপনার থাকে।

নিয়ম মেনে চলুন; source: wvns

১৫. ট্রাফিক আইন মেনে চলুন

ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক আইন মেনে চললে হয়তো আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হবে, কিন্তু সময়ের চেয়ে আপনার জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই সবসময় ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।

১৬. আপনার পেছনের যাত্রীকে শিক্ষা দিন

পেছনের যাত্রীর জন্য বেশ কিছু নিরাপত্তাজনিত নিয়ম রয়েছে। তাকে সেসব সম্পর্কে জানিয়ে দিন। কেননা, পেছনের যাত্রীর অসতর্কতার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

১৭. ভালো মেজাজে চালান

মন, মেজাজ ভালো না থাকলে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, বাইকার প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে মোটরসাইকেল চালাতে পারেন না। যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। তাই মোটরসাইকেল চালানোর আগে নিজের মেজাজের বিষয়টি কখনো অবহেলা করবেন না।

যদিও এটি প্রমাগত সত্য, মোটরসাইকেল অন্যান্য যানবাহন থেকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ; তারপরও উপরে উল্লেখিত সতর্কতাগুলি অবলম্বন করলে আপনার দূর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। তাই, মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই নিরাপত্তা টিপসগুলো মেনে চলুন। মনে রাখবেন, যেকোন কিছু থেকে আপনার জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

Feature Image Source: Wallpapers HD

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *