in

নতুন গাড়ি কেনার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

গাড়ি নাগরিক জীবনের শুধুমাত্র একটি বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনও বটে। ব্যস্ত নগরের পরিবহন সঙ্কট ও পারিবারিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অনেকেই জমানো টাকায় অথবা ব্যাংক লোন নিয়ে গাড়ি কিনতে চান।

Image Source: Pexels.com

অনেক প্রতিষ্ঠান এখন স্বল্পমূল্য এবং কিস্তির মাধ্যমে গাড়ি বিক্রি করে থাকে। এখন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার তাই সাধ্যের মধ্যে ভালো মানের গাড়ি কিনতে পারেন। তবে, এত টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার আগে কিছু জিনিস অবশ্যই আপনার জানা জরুরী। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই ব্যাপারগুলো কী সম্পর্কে।   

আপনার বাজেট

বাজেটের ব্যাপারে শুরুতেই একটু সতর্ক থাকতে হবে। গাড়ি কেনার আগে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র, ভ্যাট-ট্যাক্স আর আনুষঙ্গিক যাবতীয় খরচ মিলিয়ে মোট বাজেট ঠিক করতে হবে। ব্যাংক লোন নিয়ে কিনতে চাইলে ব্যাংকের যাবতীয় খরচও মাথায় রাখতে হবে। এসকল কিছু মাথায় রেখে হিসাব করে দেখতে হবে বাজেট আসলে কত হওয়া দরকার। তারপর যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিন আপনার বাজেটকে সামনে রেখে।


Image Source: Pexels.com

বাজেট করতে পারেন খরচের ধরন অনুসারে।

প্রাথমিক খরচ

  • গাড়ির মূল্য বাবদ মূল টাকা (যদি এককালীন কিনতে চান)
  • ডাউন পেমেন্ট (যদি ব্যাংক লোন বা কিস্তিতে কিনতে চান)
  • লাইসেন্স ও দরকারী কাগজ পত্র
  • অন্যান্য কাগজপত্র
  • ইন্স্যুরেন্স কাগজপত্র

মাসিক খরচ

  • গাড়ির কিস্তি
  • ড্রাইভারের বেতন (যদি ড্রাইভার রাখতে চান)
  • পার্কিং খরচ
  • জ্বালানি খরচ
  • মেইন্টেন্যান্স
  • ইন্স্যুরেন্স ফি

বাৎসরিক খরচ

  • লাইসেন্স নবায়ন
  • গাড়ি সম্পর্কিত ট্যাক্স অথবা ভ্যাট

গাড়ির ধরন

বাজেট ঠিকঠাক হয়ে গেলে কী ধরনের গাড়ি আপনি কিনতে চান সেটা ঠিক করতে হবে। নতুন গাড়ি নাকি ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনবেন সিদ্ধান্ত নিন। ব্যক্তিগত গাড়ি নাকি পারিবারিক গাড়ি। গঠন কেমন হবে, রঙ কেমন হবে ইত্যাদি। কারণ ব্র্যান্ড ভেদে অনেক সময় ছোট গাড়ি অনেক দামী হয় আবার বড় গাড়িও কম দামে পাওয়া যায়। তাই আগে থেকেই ঠিক করে নেয়া ভালো। কারণ বাজেট মেলানোর একটি ব্যাপার থেকেই যায়।

আবার, আপনি যে উদ্দেশ্যে গাড়ি কিনছেন সেটা পূরণ হবে কিনা। যেমন অনেকে অফিস যাওয়া আসার সুবিধার জন্য গাড়ি কেনেন। অনেকে পারিবারিক কাজের জন্য কেনেন আবার অনেকে শখের বশে কিনে থাকে। কোন উদ্দেশ্যে কিনছেন সেটা জানতে হবে আগে থেকেই।

কোম্পানির গাড়ির বাজার

কিছু কোম্পানি থাকবে যারা সব সময় টার্গেট রাখে মধ্যবিত্ত পরিবারদের। কিছু থাকে ধনীদের জন্যই গাড়ি বানাবে শুধু। আপনাকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী কোম্পানি ঠিক করে নিতে হবে আগে থেকেই। আপনি যদি টয়োটা গাড়ি কিনতে চান তাহলে দেখতে হবে মার্কেটে তাদের গাড়ি কেমন চলছে। কারা বেশি কিনছে। ডিজাইন আর রং কেমন আছে। নিসান কিনতে চাইলে তাদের গাড়িগুলোর দিকেই নজর রাখতে হবে।

কাস্টমার রিভিউ

কাস্টমার রিভিউ খুব গুরুত্ববহ। আগে যারা গাড়ি কিনেছে তাদের রিভিউগুলো অ্যানালাইসিস করেও অনেকটা ধারণা পাওয়া যাবে। কেনার পর সমস্যা দেখা দেয় কিনা সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। ইঞ্জিন কেমন সাপোর্ট দিচ্ছে। মাইলেজ কেমন পাচ্ছে। কন্ট্রোল কেমন। এসমস্ত কিছু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে রিভিউগুলো থেকে।


Image Source: Pixabay.com

যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা

গাড়ি কিনলেন, কিন্তু কিছুদিন পর দেখলেন একটি ছোট পার্ট নষ্ট হয়ে গেছে এবং হয়তো সেটা খুব একটা পাওয়া যায় না। এই সামান্য কিছুর জন্য আপনার গাড়ি অকেজো হয়ে পড়ে থাকতে পারে। তাই কোন কোম্পানির গাড়ির যন্ত্রাংশ বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে সেটা সম্পর্কে জেনে নিন।

পরবর্তী কাস্টমার সাপোর্ট

এত টাকা দিয়ে গাড়ি কিনার কিছু দিন পর সামান্য একটি সমস্যার কারণে যদি গাড়িই না চালাতে পারেন তাহলে তো বিপদ। তাই আগেই জেনে নিন কাদের বিক্রি-পরবর্তী সাপোর্ট খুব ভালো এবং বাসস্থান থেকে সহজলভ্য।


Image Source: Pexels.com

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

যদি ব্যবহৃত গাড়ি কেনার ইচ্ছা থাকে তাহলে অবশ্যই কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা দেখে নিতে হবে। কারণ গাড়িটি কোনো অন্যায় কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তাই সব কাগজপত্র দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

টেস্ট ড্রাইভ দিতে ভুলবেন না

যেমন গাড়িই কিনুন, যে ব্র্যান্ডেরই কিনুন, কেনার আগে অবশ্যই নিজে একবার চালিয়ে দেখবেন। অনেক সময় খালি চোখে সবকিছু বোঝা যায় না। তাই চালিয়ে দেখবেন। যেমন বেশি জোরে চালালে গাড়ি কাঁপে কিনা। অথবা অন্য কোনো সমস্যা টের পান কিনা ইত্যাদি।  


Image Source: Pexels.com

টেস্ট ড্রাইভ এর সময় কিছু বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে –

১। যেদিন টেস্ট ড্রাইভ করতে যাবেন সেদিন অন্য কোনো কাজ রাখবেন না। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেক সময় আপনার সিলেকশনে ভুল হতে পারেন। তাই ঝুঁকি এড়াতে সময় নিয়ে যাবেন।

২। আপনার লাইসেন্সের একটি কপি সাথে করে নিয়ে যাবেন। কারণ কাগজ ছাড়া গাড়ির শো-রুম এর মালিক আপনাকে গাড়ি নিয়ে বের হতে নাও দিতে পারেন। ফেরার সময় সেই কপি অবশ্যই ফেরত নিয়ে আসবেন।

৩। আপনি একা যাবেন না, গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা আছে এমন কাউকে সাথে করে নিয়ে যাবেন। গাড়ির টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো বোঝেন এমন কেউ হলে তো আরও ভালো হয়।

৪। টেস্ট ড্রাইভের সময় একটি ব্যাপার খেয়াল রাখবেন যে, জ্বালানী (Fuel) কেমন খরচ হচ্ছে। দূরত্ব অনুযায়ী জ্বালানি বেশি খরচ হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

৫। সব শেষে গাড়ি চালাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন কিনা সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।

সবশেষে, আপনার গাড়ি আপনার কষ্টের টাকায় কেনা একটি সম্পদ। কেনার আগে তাই একটু সচেতন হয়ে কিনতে হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে অনেক বছর ভোগাতে পারে।

One Comment

Leave a Reply
  1. আমি প্রবক্র ও এক্র করোলা নিতে চাই।কিন্তু কোথায় যোগাযোগ করব

One Ping

  1. Pingback:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *